বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৬

জেনে নিন গুরুত্বপূন কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর ---

প্রশ্ন ( আদম ও হাওয়া (আঃ)-কে যখন পৃথিবীতে পাঠানো হয় তখন তারা কোন স্থানে অবতরণ করেন?

উত্তর : তাঁদেরকে কোথায় অবতরণ করানো হয়েছিল এ মর্মে কোন স্পষ্ট ছহীহ হাদীছ পাওয়া যায় নাপ্রচলিত বর্ণনা সমূহের ছহীহ কোন ভিত্তি নেই
প্রশ্ন ): ফরয ছালাতের শেষ বৈঠকে আত্তাহিইয়াতু, দরূদ না পড়ে কেউ যদি ঘুমিয়ে যায়, তাহলে তার ছালাত হবে কি?

উত্তর : এ অবস্থায় সালাম ফিরিয়ে ছালাত সমাপ্ত করলে তার ছালাত হয়ে যাবেকারণ ছালাত থেকে বের হওয়ার জন্য সালাম ফিরানো আবশ্যকআর সালামও যদি না ফিরায় তাহলে তার ছালাত হবে নারাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ছালাতের তাকবীর বললে সবকিছু হারাম হয়, আর সালাম ফিরালে সবকিছু হালাল হয় (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৩১২)তাশাহহুদ ও দরূদ ব্যতীত ছালাত হলেও এগুলি পড়া যরূরীকারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এগুলো নিয়মিত পড়তেন
প্রশ্ন  : অনেকে পবিত্র কুরআনের কসম করে থাকেএটা কি শরীআত সম্মত? কার নামে কসম করতে হবে?
উত্তর : আল্লাহর নামেই কসম করতে হবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৪০৭; আবুদাঊদ হা/৩২৪৭-৫১) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে কসম করে সে শিরক করে (আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৩৪১৯)তবে পবিত্র কুরআনেরও কসম করা যায়কেননা কুরআন আল্লাহর কালাম (বুখারী হা/৭৪১৭-এর পূর্বের আলোচনা দ্রঃ)আল্লাহর ছিফাত সমূহ দ্বারা কসম করা জায়েযযেমন আল্লাহর ইযযত ও কুদরতের কসম, তাঁর কালামের কসম ইত্যাদি (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : বায়হাক্বী সুনানুল কুবরা ১০/৪১ পৃঃ, সনদ ছহীহ; সিলসিলা ছহীহাহ হা/১১৬৭)
প্রশ্ন ) : পবিত্র কুরআনে সিজদা কয়টি? এ সিজদা কিভাবে করতে হবে?

উত্তর : কুরআনে ১৫ স্থানে সিজদা আছেসূরা হজ্জে দুই স্থানে সিজদা রয়েছেছালাতের সিজদার মত তাকবীর দিয়ে সিজদা করবে এবং দোআ পড়ার পর তাকবীর দিয়ে মাথা উঠাবে (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/৫৯৩০; বায়হাক্বী ২/৩২৫; সনদ ছহীহ, আলবানী, তামামুল মিন্নাহ পৃঃ ২৬৯)
প্রশ্ন  : ফরয ছালাতের এক্বামত হলে সুন্নাত ছেড়ে দিয়ে জামআতে শরীক হতে হয়কিন্তু ছেড়ে দেয়া সুন্নাত পড়তে হবে কি?

উত্তর : পরে পড়ে নিতে হবে (মুওয়াত্ত্বা মালেক, সনদ মুরসাল ছহীহ, মিশকাত হা/৬৮৭)তবে পূর্বের ছালাতের জন্য সে পূর্ণ নেকী পাবে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মুসলিম, মিশকাত হা/৬৮৬)ফজরের সুন্নাত ক্বাযা লে জামাআতে ছালাতের পরেই তা পড়া যাবে (আবুদাঊদ হা/১২৬৭; তিরমিযী হা/৪২২; ইবনে মাজাহ হা/১১৫৪; মিশকাত হা/১০৪৪)
প্রশ্ন ) : ছিয়াম পালনকারী মহিলার সূর্য ডোবার পূর্ব মুহূর্তে যদি ঋতু আসে, তাহলে তার ছিয়াম নষ্ট হবে কি? নষ্ট হলে ঐ ছিয়ামের ক্বাযা করতে হবে কি?

উত্তর : উক্ত সময়ে ঋতু শুরু হলে ছিয়াম বাতিল হবে এবং পরবর্তীতে তাকে ঐ ছিয়াম পালন করতে হবেআয়েশা (রাঃ) বলেন, ঋতু অবস্থায় আমাদেরকে ছিয়াম ক্বাযা করার এবং ছালাত ছেড়ে দেয়ার  আদেশ দেওয়া (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৩২, ‘ক্বাযা ছিয়ামঅনুচ্ছেদ)তবে ছুটে যাওয়া ছিয়ামের সে পূর্ণ নেকী পাবেকারণ সে নেকীর আশায় ছিয়াম শুরু করেছিল (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৩৭৪ দোআ সমূহঅধ্যায় ৫ অনুচ্ছেদ)

প্রশ্ন ) : ছালাতে দাঁড়ানোর সময় মুছল্লীর দুই পায়ের মাঝে কতটুকু ফাঁক থাকবে?

উত্তর : কাতারে দাঁড়িয়ে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য অনুযায়ী পায়ে পা ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে যতটুকু ফাঁক রাখার প্রয়োজন হয়, ততটুকু ফাঁক রাখবে (বুখারী হা/৭২৫; আবুদাঊদ হা/৬৬২)তাছাড়া দুই পায়ের মাঝে জুতা  জোড়া রাখা যায় এতটুকু ফাঁকা রাখার কথা হাদীছে এসেছে (আবুদাঊদ হা/৬৫৪-৫৫, সনদ ছহীহ)

আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক বিশ্বাস কি! জেনে নিন আল-কুরআন খুলে...



(1) আল্লাহ  Avi‡ki Dci mgvmxb
20:‡Zvqv-nv-5, 7:Avivd-54, 67:gyje-16,17
32: †mR`v-5|

(2)আল্লাহ `ywbqvi Kv‡iv mv‡_ K_v e‡jb bv Ges Avj­vn‡K †KD †`‡L bv
42:Avk-ïiv -51, 6:AvbÕAvg-103|

(3)আল্লাহ AvKv‡k Av‡Qb , Avj­vn wbevKvi bq wdKûj AvKevi, Bgvg Avey nvwbdv (in)
(3.1) আল্লাহর  nvZ Av‡Q
38 †mvXv` -75, 5:gv‡q`v-64, 39:hygvi-67
(3.2) আল্লাহর  †PvL Av‡Q
11:n~`-37,20:‡Zvqv-nv-39,52:Zzi-48
(3.3) আল্লাহর  gyLg-j/‡Pnviv Av‡Q
55:Avi-ivngvb-27, 2:evKviv115
(3.4) আল্লাহর   cv Av‡Q
68:Kvjvg-42
(3.5) আল্লাহর gZb †KD †bB
42:Avk-ïiv-11,  112:BLjvm-4

(4)আল্লাহর Qvov †KD Mv‡qe Rv‡b bv
27:bvgj-65,  6:AvbÕAvg-59

(5)আল্লাহর WvK‡Z †Kvb gva¨g jv‡M bv
1:dv‡Znv-5,10:BDbym-106, 40:gyÕwgb-60, 7:Avivd-180, 29:AvbKveyZ-17

(6)আল্লাহর mKj welq ¶gZvevb
2:evKviv-109, 11:n~`-123

(7)GKgvG আল্লাহর Dci fimv
14:Beivnxg-11, 3:Avj-Bgivb-160, 65:ZvjvK-3

(8)আল্লাহর n‡jb Mixe †bIqvR/mvnvh¨Kvix,MvDmyj AvRg/wec‡` D×viKvix
47:gynv¤§v`-38, 21:Av¤^xqv-88, 1:dv‡Znv 5,14:Beivnxg-6,93:Av`-‡`vnv-4,17:Avj-Bmiv/ebx BmivBj-67,

(9)mvR`vi gvwjK GKgvG আল্লাহর 
41:dzjwmjvZ/nv-gxg mvR`v-37, 1:dvwZnv-5

(10)cxi/mydx/AvDwjqv আল্লাহর Kv‡Q †cŠQvi gva¨g bq
39:Fygvi-3, 10:BDbym-40,106; 29:AvbKveyZ-41, 27:bvgj-65,42:Avk-ïiv-11,  53:bvRg-23, 50:K¡vd-5,

(11)mycvwi‡ki gvwjK GKgvG  আল্লাহর
2:evKviv-255, 19:gvwiqvg-93-95,32:mvR`v-4

(12)cxi/mydx/AvDwjqv/Avwj‡gi `wjj‡K gvbvi A_©B n‡jv Zv‡`i‡K i‡ei mv‡_ Zzjbv Kiv
9:ZvIev-31,7:Avivd-3

(13)mwVK wm×všZ w`‡eb GKgvG আল্লাহর I Zvi ivm~j
5:gv‡q`v-44,45, 4:wbmv-59, 59:nvki-7, 24:b~i-51,54

(14)Bmjg Qvov Ab¨ †Kvb ag© /`j/gZ Mªnb Kiv n‡e bv
3:Avj-Bgivb-19,85

(15)ivm~j (mv) I wdwikZvMb Mv‡qe Rv‡b bv
6:AvbÕAvg-50, 7:Avivd-188

(16)ivm~j (mv) gvwUi ˆZwi
41:dzwmjvZ/nv-gxg mvR`v-6,  18:Kvnvd-110

(17)ivm~j (mv)nvqvZzb bex bb,wZwb BwšZKvj K‡i‡Qb
39:Fygvi-30, 3:Avj-Bgivb-144, 21:Avw¤^qv-34

(18)ivm~j (mv)-‡K AbymiY Kiv diR
3:Avj-Bgivb-31

(19)mvnvevM‡Yi mgv‡jvPbv Kiv wb‡la
98:evBwq¨bvn-8

(20)wgivR ¯^-kix‡I n‡qwQj
17:Avj-Bmiv/ebx BmivBj-1

(21)Avgvi cwiPq gymwjg
41:dzwmjvZ/nv-gxg mvR`v-33, 3:Avj-Bgivb-103


বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৬

পাপকে তুচ্ছজ্ঞান করার ভয়াবহতা




আপনি জেনে রাখুন (আল্লাহ আপনার প্রতি ও আমার প্রতি দয়া করুন) পরাক্রমশালী আল্লাহ তার বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন নিষ্ঠার সাথে তাওবা করার জন্য। তিনি বলেন:
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট নিষ্ঠার সাথে তাওবা কর (প্রত্যাবর্তন কর)।'' (আত্‌তাহরীম: ৮)
কেরামান কাতেবীন (ফেরেশতা) আমাদের কারো গুনাহ্‌ লিখার পূর্বে আল্লাহ আমাদেরকে তাওবার ব্যাপারে অনেক ঢিল দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: নিশ্চয় বামপাশের ফেরেশতা কলম উঠিয়ে রাখে ছয় ঘন্টা পর্যন্ত ভূলকারী মুসলিম বান্দা থেকে। বান্দা যদি অনুতপ্ত হয় এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা চায় তাহলে তা মাফ করে দেয়া হয়, নতুবা একটি গুনাহ লিখা হয়। (তাবারানী, বায়হাকী, ইমাম আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলে অভিহিত করেছেন) আরেকটি ফুরসত হলো লিখার পরে এবং মৃত্যু উপস্থিত হওয়ার পূর্বে।
বর্তমান যুগের সমস্যা হলো অনেক মানুষই আল্লাহকে ভয় করে না, তারা রাতদিন বিভিন্ন রকমের গুনাহ করে চলেছে। এদের কেউ কেউ আবার গুনাহকে তুচ্ছজ্ঞান করে। এজন্য দেখবেন এদের কেউ কেউ সগীরা গুনাহকে খুবই তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখে থাকে। যেমন বলে, একবার খারাপ কিছু দেখলে অথবা কোন বেগানা মহিলার সাথে করমর্দন করলে কি-ই বা ক্ষতি হবে?

অনেকেই আগ্রহ ভরে হারাম জিনিসের দিকে নজর দেয় পত্র-পত্রিকায় বা টিভি সিরিয়াল বা সিনেমার দিকে, এমনকি এদের কেউ কেউ যখন জানতে পারে যে এটি হারাম, তখন খুবই রসিকতা করে প্রশ্ন করে, এতে কত গুনাহ রয়েছে? এটি কি কবীরা গুনাহ না সগীরা গুনাহ? আপনি যখন এটির বাস্তব অবস্থা জানবেন তখন তুলনা করে দেখুন নিম্নোক্ত দুটি বর্ণনার সাথে যা ইমাম বুখারী উল্লেখ করেছেন:
এক: হযরত আনাস রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা এমন সব কাজ কর যা তোমাদের দৃষ্টিতে চুলের চেয়েও সূক্ষ্ণ। কিন্তু আমরা রাসূলুল্লাহর যুগে এগুলোকে মনে করতাম ধ্বংসকারী।
দুই: হযরত ইবনে মাসউদ রাযিআল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন মুমিন গুনাহকে এভাবে দেখে থাকে যে, সে যেন এক পাহাড়ের নিচে বসে আছে যা তার মাথার উপর ভেঙ্গে পড়বে। পক্ষান্তরে পাপী তার গুনাহকে দেখে যেন মাছি তার নাকের ডগায় বসেছে, তাকে এভাবে তাড়িয়ে দেয়।
এরা কি বিষয়টির বিপজ্জনকতা উপলব্ধি করতে পারবে যখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই হাদীস পাঠ করবে ;
"إيَّاكُمْ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ فَإنَّمَا مَثَلُ مُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ كَمَثَلِ قَوْمٍ نَزَلُوا بِبَطْنِ وَادٍ فَجَاءَ ذَا بِعُودٍ وَجَاءَ ذَا بِعُودٍ حَتَّى حَمَلُوا مَا أنْضَجُوا بِهِ خُبْزَهُمْ وَإنَّ مُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ مَتَى يَأخُذُ بِهَا صَاحِبُهَا تُهْلِكُهُ" وَفِي رِوَايَةٍ: "إيَّاكُمْ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ فَإنَّهُنَّ يَجْتَمِعْنَ عَلَى الرَّجُـلِ حَتَّى يُهْلِكَنَّهُ" رواه أحمد (صحيح الجامع: ২৬৮৬ ু ২৬৮৭)
"তোমরা নগণ্য ছোট ছোট গুনাহ থেকে সাবধান হও! নগণ্য ছোট ছোট গুনাহগুলোর উদাহরণ হল ঐ লোকদের মত যারা কোন মাঠে বা প্রান্তরে গিয়ে অবস্থান করল এবং তাদের প্রত্যেকেই কিছু কিছু করে লাকড়ি (জ্বালানি কাঠ) সংগ্রহ করে নিয়ে এলো। শেষ পর্যন্ত এতটা লাকড়ি তারা সংগ্রহ করল যা দিয়ে তাদের খাবার পাকানো হল। নিশ্চয় নগণ্য ছোট ছোট গুনাহতে লিপ্ত থাকা ব্যক্তিদেরকে যখন সেই নগণ্য ছোট ছোট গুনাহগুলো গ্রাস করবে (পাকড়াও করবে) তখন তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলবে।" অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, "তোমরা নগণ্য ছোট ছোট গুনাহ থেকে সাবধান হও; কেননা সেগুলো মানুষের কাঁধে জমা হতে থাকে অতঃপর তাকে ধ্বংস করে দেয়।" (আহমদ, সহীহ আল-জামে' ২৬৮৬-২৬৮৭)
বিদ্যানগণ উল্লেখ করেছেন: যখন সগীরা গুনাহর সাথে লজ্জাশরম কমে যাবে, কোন কিছুতে ভ্রূক্ষেপ করবে না, খোদাভীতি থাকবে না এবং আল্লাহর ব্যাপারে ভক্তি হবে না তখন একে কবীরা গুনাহতে পরিণত করবে। এজন্যই বলা হয়েছে যে, ক্রমাগত পাপ করলে তা আর সগীরা থাকে না এবং ক্ষমা প্রার্থনা করলে কবীরা থাকে না। অর্থাৎ ক্রমাগতভাবে সগীরা গুনাহ করতে থাকলে তা কবীরা গুনাহে পরিণত হয় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকলে কবীরা গুনাহ আর থাকে না তা মাফ হয়ে যায়। যার এ অবস্থা তাকে আমরা বলি, গুনাহ ছোট আপনি এদিকে দৃষ্টি দিবেন না, বরং আপনি দৃষ্টি দিবেন এদিকে যে, আপনি কার অবাধ্যতা করছেন।
আমার এ কথাগুলো দ্বারা অবশ্যই উপকৃত হবেন ইনশাআল্লাহ সত্যবাদীগণ, যারা অনুভব করছেন তাদের গুনাহ ঘাটতির ব্যাপারটি। তারা নয় যারা তাদের গোমরাহীতে অনড়, তাদের বাতিল অবস্থার প্রতি অবিচল। এটি তাদের জন্য যারা বিশ্বাস করে মহান আল্লাহর এ বাণীকে:
"আপনি আমার বান্দাদের জানিয়ে দিন যে, নিশ্চয় আমিই একমাত্র ক্ষমাকারী দয়ালু "। (সূরা আল হিজর: ৪৯)
তেমনি যারা ঈমান রাখে এ বাণীর উপর:
"আর নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হলো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।" (সূরা আল হিজর: ৫০)

তাওবার শর্ত ও ইহার পরিপূরক বিষয়......



তাওবা শব্দটি এক মহান শব্দ। এর অর্থ খুবই গভীর। এমন নয় যা অনেকেই মনে করে থাকেন, মুখে শব্দটি বললাম অতঃপর গুনাহে লিপ্ত থাকলাম। আপনি আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণী অনুধাবন করে দেখুন। আল্লাহ্‌ কি বলছেন:
"তোমরা তোমাদের প্রভূর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। অতঃপর তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন (তাওবা) কর।" (সূরা হুদ: ৩)
আয়াতের মধ্যে সকলকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে, অতঃপর তাওবা করতে বলা হয়েছে। সুতরাং তাওবা হচ্ছে ক্ষমা প্রার্থনার পর অতিরিক্ত আলাদা বিষয়।
কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য অবশ্যই কিছু শর্ত থাকে। আলেম-ওলামাগণ কুরআন ও হাদীস মন্থন করে তাওবার জন্য কতিপয় শর্ত উল্লেখ করেছেন, তা হলো:
এক: দ্রুত পাপ থেকে বিরত হওয়া।
দুই: পূর্বে যা ঘটে গেছে সে জন্য অনুতপ্ত হওয়া।
তিন: পুনরায় পাপ কাজে ফিরে না আসার জন্য দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা।
চার: প্রাপকদের হক ফিরিয়ে দেয়া যা অন্যায়ভাবে নেয়া হয়েছিল অথবা তাদের নিকট থেকে মাফ চেয়ে নেওয়া।
আর খালেসভাবে তাওবার জন্য কতিপয় আলেম যেসব শর্ত উল্লেখ করেছেন, নিম্নে সেগুলো উদাহরণসহ আলোচনা করা হচ্ছে।
[এক]: শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র জন্য পাপ ত্যাগ করা, অন্য কোন কারণে নয়, যেমন;
* অক্ষমতার কারণে পাপ থেকে দূরে থাকা, এসব কর্ম করতে ভাল না লাগা অথবা লোকজন মন্দ বলবে এই ভয়ে পাপ ত্যাগ করা।
* এজন্য তাকে তাওবাকারী বলা হবে না, যে ব্যক্তি পাপ ত্যাগ করেছে তার মানহানী ঘটায় বা এর জন্য হয়তো সে চাকুরীচ্যুত বা পদবী হারাতে পারে।
* তাকে তাওবাকারী বলা যাবে না, যে ব্যক্তি পাপ ত্যাগ করল তার শক্তি ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য। যেমন; কেউ জেনা করা ত্যাগ করলো যেন দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে বাঁচতে পারে অথবা তার শরীর ও স্মৃতি শক্তিকে দুর্বল না করে।
* তেমনিভাবে তাকে তাওবাকারী বলা যাবে না, যে ব্যক্তি চুরি করা ছেড়ে দিয়েছে; কোন বাড়ীতে ঢুকার পথ না পেয়ে বা সিন্দুক খুলতে অসমর্থ কিংবা পাহারাদার ও পুলিশের ভয়ে।
* তাকে তাওবাকারী বলা যাবে না, যে দূর্নীতি দমন বিভাগের লোকজনদের জোর তৎপরতায় ধরা পড়ার ভয়ে ঘুষ খাওয়া বন্দ রেখেছে।
* আর তাকেও তাওবাকারী বলা যাবে না, যে ব্যক্তি মদ পান, মাদকদ্রব্য বা হেরোইন সেবন ইত্যাদি ছেড়ে দিয়েছে দারিদ্রের কারণে।
* তেমনিভাবে তাকেও তাওবাকারী বলা যাবে না, যে সামর্থহীন হওয়ার কারণে গুনাহ করা ছেড়ে দিলো। যেমন মিথ্যা বলা ছেড়ে দিয়েছে তার কথায় জড়তা সৃষ্টি হওয়ার কারণে কিংবা জেনা করছে না যেহেতু সে সহবাস ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে, কিংবা চুরি করা ছেড়ে দিয়েছে আহত হয়ে পঙ্গু হয়ে পড়ার কারণে।
বরং এসবে অবশ্যই অনুতপ্ত হতে হবে, সব ধরনের পাপ থেকে মুক্ত হতে হবে এবং অতীত কর্মকান্ডের জন্য লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। 
এ জন্যেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: 
"অনুতপ্ত হওয়াই হলো তাওবা।" (আহমাদ, ইবনে মাজা, সহীহ আল-জামে ৬৮০২)

মহান আল্লাহ আকাংখা পোষণকারী অপারগকে কর্ম সম্পাদনকারীর মর্যাদায় ভূষিত করেছেন। আপনি জানেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি বলেছেন:
((إِنَّمَا الدُّنْيَا لأَرَْبَعَةِ نَفَرٍ عَبْدٌ رَزَقَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ مَالاً وَعِلْمًا فَهُوَ يَتَّقِي فِيهِ رَبَّهُ وَيَصِلَ فِيهِ رَحِمَهُ وَيَعْلَمَ للهِ عَزَّ وَجَلَّ فِيهِ حَقًّا، قَالَ: فَهَذَا بِأفْضَلِ الْمَنَازِلِ، وَعَبْدٌ رَزَقَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ عِلْمًا وَلَمْ يَرْزُقْهُ مَالاً، قَالَ: فَهُوَ صَادِقُ النِّيَّة، يَقُوْلُ: لَوْ أَنَّ لِي مَالاً لَعَمِلْتُ بِعَمَلِ فُلاَنٍ، فَهُوَ بِنِيَّتِهِ، فَأَجْرُهُمَا سَوَاءٌ، وَعَبْدٌ رَزَقَهُ اللهُ مَالاً وَلَمْ يَرْزُقْهُ عِلْماً يَخْبِطُ فِي مَالِهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلاَ يَتَّقِي فِيهِ رَبَّهُ، وَلاَ يَصِلُ فِيهِ رَحِمَهُ، وَلاَ يَعْلَمُ لِلّهِ فِيهِ حَقّاً، فَهَذَا بِأَخْبَثِ الْمَنَازِلِ، وَعَبْدٌ لَمْ يَرْزُقْهُ اللهُ مَالاً وَلاَ عِلْماً فَهُوَ يَقُوْلُ: لَوْ أَنَّ لِي مَالاً لَعَمِلْتُ فِيهِ بِعَمَلِ فُلاَنٍ، فَهُوَ بِنِيَّتِهِ، فَوِزْرُهُمَا سَوَاءٌ)) رواه أحمد والترمزي وصححه. (صحيح الترغيب والترغيب ১/৯).
"দুনিয়া চার প্রকার লোকের জন্য; 
(১) সেই বান্দার জন্য যাকে আল্লাহ মাল ও জ্ঞান দান করেছেন সুতরাং সে এতে তার প্রভূকে ভয় করছে, তার আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক রাখছে এবং তার ব্যাপারে আল্লাহর হক জানছে, এ হলো সর্বোত্তম অবস্থানে। 
(২) সেই বান্দা যাকে আল্লাহ জ্ঞান দান করেছেন কিন্তু মাল দেননি, সে হলো সঠিক নিয়তের লোক, সে বলে, যদি আমার টাকা পয়সা থাকতো তাহলে উমুক ব্যাক্তির মত কাজ করতাম। সে তার নিয়ত অনুযায়ী সওয়াব পাবে। এদের দুজনের নেকী সমান হবে। 
(৩) আর সেই বান্দা যাকে আল্লাহ টাকা পয়সা দিয়েছেন কিন্তু জ্ঞান দান করেননি। সে না জেনেই তার টাকা পয়সা খরচ করছে। এতে সে আল্লাহকে ভয় করে না, আত্মীয়তা রক্ষা করে না এবং এতে আল্লাহর হকও সে জানে না। সে হলো সর্ব নিকৃষ্ট অবস্থানে। 
(৪) আর সেই বান্দা যাকে আল্লাহ মালও দেননি জ্ঞানও দেননি, সে বলে আমার টাকা পয়সা থাকলে উমুকের মতই (খারাপ কাজ) করতাম। সে তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান পাবে। এরা দুজনই গুনাহর দিক থেকে সমান। (আহমদ, তিরমিযী, সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব: ১/৯)
[দুই]: পাপের কদর্যতা ও ভয়াবহতা অনুভব করা; অর্থাৎ সঠিক তাওবার সাথে কখনো আনন্দ ও মজা পাওয়া যাবেনা অতীত পাপের কথা স্মরণ হলে অথবা কখনো ভবিষ্যতে সেসব কাজে ফিরে যাবে, এ কামনা মনে স্থান পাবে না।
ইবনুল কাইয়্যেম রহমতুল্লাহ আলাইহে তার লিখা [الداء والدواء] 'রোগ ও চিকিৎসা' এবং [الفوائد] 'আল্‌ফাওয়াইদ' নামক গ্রন্থে গুনাহের অনেক ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে: জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হওয়া, অন্তরে একাকিত্ব অনুভব করা, কাজকর্ম কঠিন হয়ে যাওয়া, শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া, আল্লাহর আনুগত্য থেকে বঞ্চিত হওয়া, বরকত কমে যাওয়া, কাজে সমন্বয় না হওয়া, গুনাহর কাজে অভ্যস্থ হয়ে যাওয়া, আল্লাহর ব্যাপারে পাপীর অনাসক্তি সৃষ্টি হয় এবং লোকজন তাকে অশ্রদ্ধা করে, জীবজন্তু তাকে অভিশাপ দেয়, সে সর্বদা অপমানিত হতে থাকে, অন্তরে মোহর পড়ে যায়, লানতের মাঝে পড়ে এবং দু'আ কবুল হয় না, জলে ও স্থলে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়, আত্মমর্যাদাবোধ কমে যায়, লজ্জা চলে যায়, নিয়ামত দূর হয়ে যায়, আজাব নেমে আসে, পাপীর অন্তরে সর্বদা ভয় নেমে আসে এবং সে শয়তানের দোসরে পরিণত হয়, তার জীবন সমাপ্ত হয় মন্দের উপর এবং পরকালীন আজাবে নিপতিত হয়।
পাপের এই ক্ষতি ও বিপর্যয় যদি বান্দা জানতে পারে তাহলে সে পাপ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকবে। কিছু কিছু লোক এক পাপ ছেড়ে আরেক পাপ করতে শুরু করে তার কিছু কারণ হলো:
১. মনে করে যে, এর পাপ কিছুটা হালকা।
২. মন পাপের দিকে বেশী আকৃষ্ট হয় এবং এর দিকে ঝোক খুবই প্রবল থাকে।
৩. এ পাপ করার জন্য পারিপার্শিক অবস্থা সহজ ও সহায়ক হয় অন্যটির তুলনায়, অন্য পাপের মোকাবেলায় যার জন্য অনেক কিছু জোগাড় করা লাগে।
৪. তার সঙ্গী সাথীরা এ পাপের সাথে জড়িত, তাদেরকে ত্যাগ করা কঠিন বলে মনে হয়।
৫. কোন কোন ব্যক্তির নিকট বিশেষ পাপ তার মান সম্মানের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় তার সঙ্গী সাথীদের মাঝে। এজন্য সে চিন্তা করে যেন তার অবস্থান সে ধরে রাখে এবং এ পাপ অব্যাহত রাখে, যেমনটি ঘটে বিভিন্ন অপরাধ ও সন্ত্রাসী গ্রুপের প্রধানদের বেলায়। যেমনটি ঘটেছিল অশ্লীল কবি আবু নাওয়াসের বেলায়, যখন তাকে কবি আবুল আতাহিয়া উপদেশ দেয় ও ভর্ৎসনা করে তার পাপের জন্য। সে তখন জবাবে লিখে -
হে আতাহিয়া! তুমি কি চাও আমি
ছেড়ে দেই আনন্দ ফূর্তি করা
তুমি কি চাও আমি ধর্মকর্ম করে হারিয়ে ফেলি
আমার লোকদের কাছে আমার মর্যাদা।
[তিন]: যার জন্য তাওবার প্রয়োজন সে যেন তাড়াতাড়ি তাওবা করে। কারণ তাওবা করতে দেরী করাটাই পাপ।
[চার]: আল্লাহর হক যা ছুটে গেছে তা যথাসম্ভব আদায় করা। যেমন জাকাত দেয়া যা সে পূর্বে দেয়নি। কেননা এতে আবার দরিদ্র লোকজনের অধিকারও রয়েছে।
[পাঁচ]: পাপের স্থানকে ত্যাগ করা যদি সেখানে অবস্থান করলে আবার সে পাপে জড়িয়ে পড়ার আশংকা থাকে।
[ছয়]: যারা পাপ কাজে সহযোগিতা করে তাদেরকে পরিত্যাগ করা (এটিও পূর্ববর্তী ১০০টি লোক হত্যাকারীর হাদীস থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।)
মহান আল্লাহ বলেন:
"আন্তরিক বন্ধুরাই সেদিন একে অপরের শত্রুতে পরিণত হবে, মুত্তাকীরা ছাড়া।" (সূরা আল-যুখরুফ: ৬৭)
খারাপ সাথীরা একে অপরকে কিয়ামতের দিন অভিশাপ দিবে। এজন্য হে তাওবাকারী, আপনাকে এদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে ও এদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে, যদি আপনি তাদেরকে দাওয়াত দিতে অপারগ হন। শয়তান যেন আপনার ঘাড়ে আবার সওয়ার হবার সুযোগ না পায় এবং আপনাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে আবার কুপথে নিয়ে না যায়। আর আপনি তো জানেন যে, আপনি দুর্বল তাকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবেন না। এ ধরণের অনেক ঘটনা রয়েছে যে, অনেক লোকই তার পুরাতন বন্ধু বান্ধবের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার পর আবার পাপে জড়িয়ে পড়েছে।
[সাত]: নিজের কাছে রক্ষিত হারাম জিনিসকে নষ্ট করে ফেলা। যেমন মাদক দ্রব্য, বাদ্যযন্ত্র, যেমন একতারা, হারমনিয়াম, অথবা ছবি, ব্লু ফ্লিম, অশ্লীল নভেল নাটক। এগুলো নষ্ট করে ফেলতে হবে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। তাওবাকারীকে সঠিক পথে দৃঢ়ভাবে থাকার জন্য অবশ্যই সব জাহেলিয়াতের জিনিস থেকে মুক্ত হতে হবে। এ ধরণের অনেক ঘটনা রয়েছে, যাতে দেখা যায়, এসব হারাম জিনিসই তাওবাকারীর পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাবার পিছনে প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এর দ্বারাই সে পথভ্রষ্ট হয়েছে। আমরা আল্লাহর নিকট সঠিক পথে টিকে থাকার জন্য তাওফীক কামনা করছি।
[আট]: ভাল সঙ্গী-সাথী গ্রহণ করতে হবে যারা তাকে দ্বীনের ব্যাপারে সহায়তা করবে এবং এরা হবে খারাপ সঙ্গী সাথীর বিকল্প। আর চেষ্টা করতে হবে বিভিন্ন ধর্মীয় ও ইলমী আলোচনায় বসার জন্য। নিজেকে সব সময় এমন কাজে মশগুল রাখতে হবে যাতে কল্যাণ রয়েছে, যেন শয়তান তাকে পূর্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেবার সুযোগ না পায়।
[নয়]: নিজ শরীরের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে যাকে সে হারাম দিয়ে প্রতিপালন করেছে। একে আল্লাহর আনুগত্যের কাজে লাগাতে হবে এবং হালাল রুজি খেতে হবে যেন শরীরে আবার পবিত্র রক্ত-মাংস সৃষ্টি হয়।
[দশ]: তাওবা দম আটকে যাওয়া বা ফুরিয়ে যাবার (মৃত্যুর পূর্বক্ষণে শ্বাসকষ্ট শুরু হবার) পূর্বে এবং পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হবার পূর্বে হতে হবে। ঘড়ঘড়ার অর্থ হলো কণ্ঠনালী হতে এমন শব্দ বের হওয়া যা মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে হয়ে থাকে। এর উদ্দেশ্য হলো কিয়ামতের পূর্বেই তাওবা করতে হবে তা ছোট কিয়ামত হোক (মৃত্যু) বা বড় কিয়ামতই হোক (পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া)। 
কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 
"যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তাওবা করবে ঘড়ঘড়া উঠার পূর্বে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করবেন।" (আহমাদ, তিরমিযী, সহীহ আল জামে' : ৬১৩২) 
অপর হাদীসে তিনি বলেন: 
"যে ব্যক্তি পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠার পূর্বে তাওবা করবে, আল্লাহ তা'আলা তার তাওবা কবুল করবেন।" (মুসলিম)

শিষ্টাচারের মুলনীতি

  • আস্থা রাখুন অন্যান্য অবদানকারীর উপর। যেহেতু যে কেউ কোনোদিনই সফল হতে পারতো না, বরং শুরুতেই শেষ হয়ে যেতো।
  • মনে রাখুন সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ নীতি: সকলের সাথে এমন ব্যবহার করুন যেমনটা আপনি তাদের থেকে আশা করেন-এমনকি তারা নতুন হলেও। আমরা সকলে একসময় নতুন ছিলাম।
  • অনুগ্রহ করে বিনয় প্রদর্শন করুন।
  • বিষয়নিষ্ঠ বিতর্ক করুন,ব্যাক্তিগত আক্রমন নয়।
  • মনে রাখুন লিখিত আকারে মনের ভাব ঠিক সেভাবে প্রকাশ পায়না যেভাবে মুখের ভাষায় পায়। রসিকতা সবসময় লিখিত আকারে বুঝানো যায়, কখনো কখনো লিখিত কথা রুঢ় শোনাতে পারে যা হয়তো মৌখিক ভাবে শোনাতো না। মুখভঙ্গী,শারীরিক ভাষা,কন্ঠস্বরের উঠানামা লিখিত আকারে বোঝানো যায়না। তাই কি লিখছেন সেটার প্রতি যত্নশীল হোন,আপনি যা বুঝাতে চান আরেকজন সেটা নাও বুঝতে পারে। সাবধান হোন অন্যের লেখা পড়ে আপনি কি অর্থ দাড় করাচ্ছেন তার প্রতি, লেখক হয়তো সেটা বুঝাতে চাননি যে আপনি ভাবছেন। 
  • সকলে মিলে একটি মতে পৌছাতে চেষ্টা করুন।
  • কারো প্রশ্নকে উপেক্ষা করবেননা।
  • কেও যদি আপনার লেখার প্রতি দ্বিমত প্রকাশ করে তবে আপনার মতে স্বপক্ষে শক্তিশালী যুক্তি প্রদর্শন করুন।
  • ভদ্রতা প্রদর্শন করুন।
  • যদিও এটা কঠিন,যদি বিতর্কের সময় অন্যান্য অবদানকারীরা আপনার প্রতি ভদ্রতা প্রকাশ না করে আপনি তাদের প্রতি অনেক বেশি ভদ্রতা প্রকাশ করুন। এভাবে সংঘাত এবং গালি-গালাজ এড়ানো যাবে। এছাড়া অভদ্রতার বিপক্ষে ভদ্রতা করা প্রশংসনীয় আচরণ।
    • তবে আপনি তাদের জানিয়ে দিন যে আপনি তাদের আচরণ পছন্দ করছেননা, অন্যথায় তারা আপনাকে দুর্বল ভেবে আরো বেশি আক্রমন করতে পারে।
  • ভুল করলে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। বিতর্কের সময় আমরা উত্তেজিত হয়ে এমন কথা বলি যা পরে আমাদের অনুতপ্ত করে।
  • ক্ষমা করুন এবং ভুলে যান।
  • আপনার কোনো কিছুর উপর পক্ষপাতিত্ব আছে নাকি বুঝার চেষ্টা করুন এবং সেটা থেকে পরিত্রান পাবার চেষ্টা করুন।
  • প্রশংসা করুন যখন সেটা প্রাপ্য। সবাই প্রশংসা পেতে ভালোবাসে। একটি প্রশংসাসূচক বার্তা ব্যবহারকারির আলাপ পাতায় লিখে দিতে পারেন।
  • আপনি যেসব বিতর্কে সুচনা করেছিলেন বিতর্ক শেষে তা মুছে ফেলুন বা সারমর্ম তৈরি করুন।
  • অন্যদের মধ্যে বিতর্কের অবসান ঘটাতে এগিয়ে আসুন।
  • আপনি যদি বিতর্কের মধ্যে থাকেন,কিছুক্ষন বিরতি নিয়ে ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন। আপনি যদি কোনো বিতর্ক নিরসনের চেষ্টা করেন তবে এই উপদেশ দিন।
  • আপনি যদি রাগান্বিত হয়ে থাকেন তবে কিছুদিনের জন্য উইকিপিডিয়ার কাজ থেকে বিরত থাকুন। হয়তো এই কয়দিনে অন্য কেও বিতর্কের অবসান ঘটাবে এবং সঠিক তথ্য যোগ করে দিবে। আপনি অন্য কাওকে নিযুক্ত করতে পারেন এই কাজে।
  • মনে রাখুন আপনি মানুষের সাথে কাজ করছেন। প্রতিটি মানুষের আত্মসম্মানবোধ আছে,তারা ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি থেকে আগত। সবার প্রতি সম্মান দেখাতে চেষ্টা করুন। এমন কোনো ভাষা ব্যবহার করবেননা যা সকলে বুঝতে সমস্যা হতে পারে। শব্দ-সংক্ষেপ ব্যবহার করলে তার অর্থ লিখে দিন যাতে সন্দেহ সৃষ্টি না হয়।

প্রথম দর্শনের প্রভাব উন্নত করার ৭টি পন্থা

ভাল পোশাক পরিধান করুন
আপনার বাহ্যিক দিকটিই সবার আগে অন্যদের চোখে পড়বে। যদি আপনার আউটলুক ঠিক না থাকে তাহলে মানুষজন আপনার ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করবে। ভাল দেখার জন্য আপনাকে বেশি অর্থ খরচ করতে হবে তা কিন্তু নয়। প্রতিটি শহরেই কম খরচে নিজেকে সাজিয়ে নেওয়ার কোন না কোন ব্যবস্থা থাকে। তবে নিজেকে উপস্থাপন করার জন্য আপনাকে সময় ব্যয় করতে হবে। স্টাইলিশ হওয়ার জন্য আপনাকে নামী-দামি ব্র্যান্ডের পোশাক পরার প্রয়োজন নেই তবে আপনাকে বুঝতে হবে কোন জিনিসগুলো আপনাকে ভাল মানায়। সব ক্ষেত্রেই কোন না কোন লুক প্রয়োজনীয় আর আপনাকে সেই লুকে নিজেকে উপস্থাপন করতে হবে আপনি যে পদেই থাকুন না কেন। পায়ের জুতা থেকে শুরু করে মাথার চুল পর্যন্ত সবকিছুতে রুচিবোধ ফুটিয়ে তুললে অন্যরা আপনাকে লক্ষ্য করবে এবং সেই সাথে সম্মান করবে।

আপ টু ডেট থাকুন
দুনিয়ায় কী ঘটছে তা জেনে নেওয়া এখন অনেক সহজ। আপনি যদি দুনিয়া সম্পর্কে জ্ঞান না রাখেন তাহলে অন্যরা আপনাকে অজ্ঞ ভাববে। সবাই ব্যস্ত থাকে এটাই স্বাভাবিক, তবে যারা একটু সময় নিয়ে সাম্প্রতিক বিষয় সম্পর্কে জানা থেকে ব্যর্থ তাদেরকে ধরে নেওয়া হয় যে তারা সমসাময়িক ঘটনাবলী নিয়ে কেয়ার করে না। তবে এই অবস্থা থেকে সহজে উত্তরণ সম্ভব। আপনার ওয়েব ব্রাউজারের একটি ট্যাবে যেকোন খবরের ওয়েবসাইট খোলা রাখুন। যখনই সময় পান, তখনই তাতে চোখ বুলিয়ে নিন। ১০-১৫ মিনিট সময় নিয়ে একবার খবরাখবঅরে চোখ বুলিয়ে নিলেই যথেষ্ট। দুনিয়ার খবরাখবর জানা থাকলে আপনি অন্যদের সাথে কথা বলার সময় পছন্দের বিষয়ে আলাপ চালিয়ে নিতে পারবেন।

ব্যবহার শিখু্ন
উপযুক্ত ব্যবহার সংস্কৃতি অনুযায়ী পরিবর্তনশীল, তাই আপনি যেখানেই যান না কেন সঠিক ব্যবহার জেনে নেওয়া আবশ্যক। শুরু থেকেই আপনি যদি সম্মান, বিনয় এবং সৌজন্যতাবোধ প্রদর্শন করে থাকেন, তাহলে অন্যদের চোখে আপনার একটা বিশেষত্ব তৈরি হবে। সাধারণ ব্যবহার – যেমন দৃঢ়ভাবে হাত মেলানো, প্লীজ এবং থ্যাং ইউ বলা, প্রবেশ ও যাওয়ার সময় অনুমতি চেয়ে নেওয়া – অন্যদের মনে আপনার ব্যাপারে ইতিবাচক ধারণা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

ভাষা রপ্ত করুন
সোশ্যাল মিডিয়া আর ইমেইলের দরুন আজকাল লেখার মাধ্যমেই প্রথম পরিচয় বেশি হয়ে থাকে। কারো কারো জন্য এটি সুবিধাজনক তবে তা সবার জন্য নয়। অনেকের ভাষাগত দক্ষতা ভাল না থাকায় প্রথম দর্শনে তাদের কথা শোনা বা পড়া অন্যদের কাছে বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে। প্রথম পরিচয়ে সবাই আপনার কাছ থেকে ভাল ও ভদ্র ভাষাই আশা করে। াপনার ভাষাগত দক্ষতা বাড়িয়ে নিন। লেখা এবং কথা বলার আগে ভেবে নিন আপনি কী বলতে চাইছেন।

বেশি বেশি পড়ুন
যে শিখতে পছন্দ করে তাকে অন্য সবাই সমীহ করে। যারা স্মার্ট তারা চায় তাদের থেকেও স্মার্ট কারো সান্নিধ্য পেতে। বই পড়ে অনেক কিছু জানা যায় আর এখন বই ছাড়াও আরো অনেক শেখার সরঞ্জাম রয়েছে। কারো সাথে নতুন ধারণা বিনিময় করা আনন্দের খোরাক যোগায়। প্রতি মাসেই যেকোন নতুন বই বা আর্টিকেল পড়ার চেষ্টা করুন। এরপর যারা আগ্রহী তাদের সাথে তথ্য আদান প্রদান করুন। এভাবে আপনি নিজেকে শাণিত করবেন এবং অন্যরাও আপনার জ্ঞানের ভান্ডার দেখে অভিভূত হবে।

অন্যদের প্রতি মনযোগ দিন
অন্যদের সাথে প্রথম বার কথা বলার আগে তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করে নিন। জানার চেষ্টা করুন তারা কেমন মানুষ। তারপর সেই অনুযায়ী তাদের সাথে মেশার চেষ্টা করুন। এছাড়াও অন্যদের সাথে কথা বলার সময় তাদের বক্তব্যের প্রতি গুরুত্ব দিন এবং তারা যা জানতে চায় তার সঠিক উত্তর দিন।

আপনার অনলাইন উপস্থিতি উপযুক্ত করে তুলুন
নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে যদি কারো সাথে আপনার পরিচয় না হয়ে থাকে, তাহলে অনলাইনে পরিচয় হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আপনার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার পূর্বে অন্যরা আপনার ওয়েবসাইট, লিংকড ইন বা ফেইসবুক প্রোফাইল দেখে নেবে। যদি তারা অনলাইনে আপনার ব্যাপারে ভুল বা পুরনো তথ্য পায়, বা আপনার বিব্রতকর কোন ছবি বা পোস্ট দেখে নেয় তাহলে শুরু থেকেই তারা আপনার ব্যাপারে অত ভাল ধারণা লাও রাখতে পারে। বর্তমান সময়ে সবকিছুই আপ টু ডেট রাখতে হয় আর তাই অনলাইনে আপনার তথ্য হালনাগাদ করে নিন এবং সবকিছু যথাসম্ভব সঠিকভাবে তুলে ধরুন।

৫ টি কাজ যা সত্যিকারের দক্ষ লোকেরা করে থাকে

শেখার প্রয়োজনীয়তা কখনো শেষ হয় না। কেননা স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের জন্য সবসময় শেখার চেষ্টা করতে হয়। পৃথিবী প্রতিদিন পরিবর্তন হচ্ছে, আর সেই সাথে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ধারণার। সেগুলোকে নিজের জীবনের সাথে মানিয়ে নিলেই তা প্রাসঙ্গিক হতে পারে। এখানে কতগুলো নিয়ম রয়েছে যেগুলো যে কোন বয়সের মানুষকে আরও বেশি চৌকস এবং দক্ষ করে তুলে।
১।নিজের ভিতরের বক্তব্যকে গোপন রাখাঃ
দেখা যায় আমরা যখন কাউকে শুনি, তখন নিজের মনেই কোন না কোন কথা বলতে থাকি। এটা হল আমাদের সামনে পরিবেশিত তথ্যের ব্যাপারে আমাদের মতামত। এই মতামত আমাদেরকে কখনো অন্যের বক্তব্য আরও ভালভাবে শুনতে আগ্রহী করে তুলে, আবার কখনো অনাগ্রহী করে তুলে। কিন্তু অন্যের কথা শুনার সময় নিজের ভিতরের মতটিকে গুরুত্ব না দিয়ে, বক্তার কথার উপর মনোযোগ দেয়া উচিত।
২। নিজের সাথে তর্ক করাঃ
নিজের ভেতরকার মতকে যদি আমরা নিবৃত্ত করতে না পারি, তাহলে অন্তত সেটিকে কাজে লাগানো উচিত। প্রায়ই আমরা অন্যদের বক্তব্যের বিরুদ্ধ মত পোষণ করতে থাকি। সেটি না করে অন্যের দৃষ্টিভঙ্গিটি বিবেচনা করা উচিত। নিজেকে বোঝানো উচিত যে এটা হতেই পারে যে আপনি ভুল করছেন এবং অন্যের চিন্তাটি ঠিক।
৩। কৌতূহলী হওয়াঃ  
কিছু মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই কৌতূহলী, আবার কেউ নয়। কেউ কৌতূহলী হোক বা না হোক কৌতূহলী আচরণ করলে বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। এতে করে পরবর্তীতে করার মত বেশ কিছু প্রশ্ন পাওয়া যায়। আমরা কারও বক্তৃতা শুনলে প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার চেষ্টা করতে পারি, কিংবা যদি কারো সাথে কথা বলি তবে তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারি। এভাবে প্রশ্ন করে জানার মাধ্যমে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা যায়। তাই এই কৌতূহল প্রবণতা মানুষের উপকার বই অপকার করে না।
৪। সত্যের মূল খুঁজে বের করাঃ
কোন ধারণা বা তত্ত্বই বাতাস থেকে উড়ে আসেনা। যে কোন সম্প্রসারিত ধারণা যা আপাতদৃষ্টিতে গুজব বলে মনে হয়, দেখা যায় তার ও কোন না কোন ভিত্তি থাকে। যদি কোন ধারণা আমাদের প্রয়োজনের নাও হয়, তবুও অন্তত তার সত্যের ভিত্তিটা আমাদের জানা উচিত। আমাদের উচিত একজন গোয়েন্দার মত বুঝে নিজের মত প্রতিষ্ঠা করা। এভাবে কোন বক্তার প্রকৃত মতামত সম্পর্কে আমরা আমাদের ধারণার বিকাশ ঘটাতে পারি।
৫। বার্তাবহ কে গুরুত্ব না দিয়ে বার্তার উপর গুরুত্ব দেয়াঃ
মানুষ প্রায়ই বার্তাবহের উপর নির্ভর করে বার্তাটিকে অবজ্ঞা করে। এমন হয় যখন বক্তা বিরক্তিকর হয় কিংবা বক্তব্য উপস্থাপন আকর্ষণীয় না হয়। কিন্তু এ ধরনের অবজ্ঞা আমাদের জানার প্রতিবন্ধক হয়ে দাড়ায়। এসব ক্ষেত্রে বার্তাটিকে বক্তা থেকে আলাদা করে ফেলা দরকার। তথ্যগুলোকে তখন এমনভাবে নেয়া উচিত যেন বক্তাকে আমরা চিনি না। তাহলেই ঐ তথ্য আমাদের ধারণা স্পষ্ট করতে সহায়ক হবে।