বুধবার, ১২ জুলাই, ২০১৭

শাহ নিয়ামত উল্লাহ-এর ভবিষ্যৎ বাণীঃ

আল্লাহ্ তা‘য়ালা প্রদত্ত ইলহাম এর জ্ঞান দ্বারা আজ থেকে প্রায় সাড়ে আটশত বছর পুর্বে ( হিজরী ৫৪৮ সাল মোতাবেক ১১৫২ সালে খ্রিস্টাব্দে) শাহ নেয়ামতুল্লাহ রহঃ তার বিখ্যাত কাব্যগুলো রচনা করেন। অনেক ওলী আউলিয়া মাশায়েখগণ মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ইলহাম পেয়ে থাকেন। উপমহাদেশের ইলমী জনক শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহঃ তার ইলহামী ইলম দিয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ সাওয়াতিউল ইলহাম রচনা করেন, অনুরুপ হযরত শাহ্ নেয়ামতউল্লাহ রহঃ ছিলেন একজন ওলী আল্লাহ। উনি সেই ইলমে লাদুনীর (আল্লাহ্ তা‘য়ালা প্রদত্ত জ্ঞান) কিছু অংশ এই কবিতায় প্রকাশ করেছেন যা কবিতার শেষ পংক্তি থেকে বুঝা যাচ্ছে।

এটি লিখার পর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রতিটি ভবিষ্যদ্বানী হুবহু মিলে গিয়েছে। ব্রিটিশ বড় লাট লর্ড কার্জনের শাসনামলে (১৮৯৯-১৯০৫) এর প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কবিতার ৩৭ নং প্যারা থেকো খেয়াল করুন। কারন এর পুর্বের লাইন গুলো অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাওয়ায় শুধুমাত্র বর্তমান ও ভবিষতে কি ঘটতে পারে এটাই আমাদের দেখার বিষয়।

আমাদের দুর্ভাগ্যই বলা চলে! পাকিস্তানি মুসলিম ভাইদের মাঝে কাসীদাগুলো বেশ পরিচিত, প্রসিদ্ধ এবং সমাদৃত অথচ বাংলাদেশে এ সম্পর্কে আমাদের কোনো খোঁজই নেই।
কাসীদায়ে শাহ নেয়ামাতুল্লাহ সম্পর্কে আরো জানতে মাওলানা ওবায়দুর রহমান খান নদভী দাঃবাঃ এর এই লেখাটি পড়া যেতে পারেঃ http://www.google.com.bd/search?q=cache:www.dailyinqilab.com/2015/01/02/229804.php

শাহ নেয়ামতুল্লাহ ওয়ালী রহঃ এর কাসীদার উর্দু পিডিএফ ডাউনলোড লিংকঃ

কবিতা টি ইসলামিক ফাউন্ডেসনের প্রকাশিত "কাসিদায়ে সাওগাত" বইতে পাবেন। এই ছাড়াও মদিনা পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত ''মুসলিম পুনঃজাগরণ প্রসঙ্গ ইমাম মাহদি'' বইতেও পাবেন। যারা উর্দু বুঝেন তারা এই নিয়ে ৮ পর্বের সিরিজ আলোচনা শুনতে পারেন, পাকিস্তানী বিশেষজ্ঞ জায়েদ হামিদ খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা সহ কারে উনার সকল ভবিষ্যৎ বাণী (ইলহাম) তুলে ধরেছেন।

বাংলা ভাষায় রুহুল আমীন খান অনূদিত শাহ নিয়ামতুল্লাহ রহঃ এর একটি কবিতা ১৯৭০/৭১ এর দিকে এদেশে প্রকাশিত হয়েছিল। কবিতাটিতে ৫৪টি প্যারা রয়েছে। কোনো এক ভাই সেটি অনলাইনে সংকলন করেছেন, নতুন টিকা সংযোজন ও পরিমার্জিত করে পুনঃসম্পাদন করে নিম্নে তা দেয়া হলঃ

(১)
পশ্চাতে রেখে এই ভারতের অতীত কাহিনী যত
আগামী দিনের সংবাদ কিছু বলে যাই অবিরত

টীকা: ভারত= ভারতীয় উপমহাদেশ

(২)
দ্বিতীয় দাওরে হুকুমত হবে তুর্কী মুঘলদের
কিন্তু শাসন হইবে তাদের অবিচার যুলুমের

টীকাঃ দ্বিতীয় দাওর= ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের দ্বিতীয় অধ্যায়। শাহবুদ্দীন মুহম্মদ ঘোরি রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আমল (১১৭৫ সাল) থেকে সুলতান ইব্রাহীম লোদীর শাসনকাল (১৫২৬ সাল) পর্যন্ত প্রথম দাওর। এবং সম্রাট বাবর শাসনকাল (১৫২৬ সাল) থেকে ভারতে মুসলিম দ্বিতীয় দাওর।

(৩)
ভোগে ও বিলাসে আমোদে-প্রমোদে মত্ত থাকিবে তারা
হারিয়ে ফেলিবে স্বকীয় মহিমা তুর্কী স্বভাব ধারা

টীকা: মুঘল শাসকদের অনেকই আল্লাহ ওয়ালা ছিলেন। তবে কেউ কেউ প্রকৃত ইসলামী আইনকানুন ও শরীয়তি আমল থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন। আর হাদীস শরীফেই আছে: যখন মুসলমানরা ইসলাম থেকে দূরে সরে যাবে, তখন তার উপর গজব স্বরূপ বহিশত্রুকে চাপিয়ে দেয়া হবে।

(৪)
তাদের হারায়ে ভিন দেশী হবে শাসন দণ্ডধারী
জাকিয়া বসিবে, নিজ নামে তারা মুদ্রা করিবে জারি

টীকাঃ ভিন দেশী= ইংরেজদের বোঝানো হয়েছে


(৫)
এরপর হবে রাশিয়া-জাপানে ঘোরতর এক রণ
রুশকে হারিয়ে এ রণে বিজয়ী হইবে জাপানীগণ

(৬)
শেষে দেশ-সীমা নিবে ঠিক করে মিলিয়া উভয় দল
চুক্তিও হবে, কিন্তু তাদের অন্তরে রবে ছল

টীকা: বিশ শতকের প্রারম্ভে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। জাপান কোরিয়ার উপর আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে পীত সাগর, পোট অব আর্থার ও ভলডিভস্টকে অবস্থানরাত রুশ নৌবহরগুলো আটক করার মধ্য দিয়ে এ যুদ্ধ শুরু হয়। অবশেষে রাশিয়া জাপানের সাথে চুক্তি করতে বাধ্য হয়।

(৭)
ভারতে তখন দেখা দিবে প্লেগ আকালিক দুর্যোগ
মারা যাবে তাতে বহু মুসলিম হবে মহাদুর্ভোগ

টীকা: ১৮৯৮-১৯০৮ সাল পর্যন্ত ভারতে মহামারী আকারে প্লেগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। এতে প্রায় ৫ লক্ষ লোকের জীবনাবসান হয়। ১৭৭০ সালে ভারতে মহাদুর্ভিক্ষ সৃষ্টি হয়। বংগ প্রদেশে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ থেকে উদ্ভুত মহামারিতে এ প্রদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রাণ হারায়।

(৮)
এরপর পরই ভয়াবহ এক ভূকম্পনের ফলে
জাপানের এক তৃতীয় অংশ যাবে হায় রসাতলে

টীকা: ১৯৪৪ সালে জাপানের টোকিও এবং ইয়াকুহামায় প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

(৯)
পশ্চিমে চার সালব্যাপী ঘোরতর মহারণ
প্রতারণা বলে হারাবে এ রণে জীমকে আলিফগণ

টীকা: ১৯১৪-১৯১৮ সাল পর্যন্ত চার বছরাধিকাল ধরে ইউরোপে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
জীম= জার্মানি, আলিফ=ইংল্যান্ড।

(১০)
এ সমর হবে বহু দেশ জুড়ে অতীব ভয়ঙ্কর
নিহত হইবে এতে এক কোটি ত্রিশ লাখ নারী-নর

টীকা: ব্রিটিশ সরকারের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ি প্রথম মহাযুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৩১ লক্ষ লোক মারা যায়।

(১১)
অতঃপর হবে রণ বন্ধের চুক্তি উভয় দেশে
কিন্তু তা হবে ক্ষণভঙ্গুর টিকিবে না অবশেষে

টীকা: ১৯১৯ সালে প্যারিসের ভার্সাই প্রাসাদে প্রথম মহাযুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে ‘ভার্সাই সন্ধি’ হয়, কিন্তু তা টিকেনি।

(১২)
নিরবে চলিবে মহাসমরের প্রস্তুতি বেশুমার
‘জীম’ ও আলিফে খ- লড়াই ঘটিবে বারংবার

(১৩)
চীন ও জাপানে দু’দেশ যখন লিপ্ত থাকিবে রণে
নাসারা তখন রণ প্রস্তুতি চালাবে সঙ্গোপনে

টীকা: নাসারা মানে খ্রিষ্টান

(১৪)
প্রথম মহাসমরের শেষে একুশ বছর পর
শুরু হবে ফের আরো ভয়াবহ দ্বিতীয় সমর

টীকা: ১ম মহাযুদ্ধ সমাপ্তি হয় ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর, এবং দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে সূচনা হয় ১৯৩৯ সালে ৩রা সেপ্টেম্বর। দুই যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময় প্রায় ২১ বছর।

(১৫)
হিন্দ বাসী এই সমরে যদিও সহায়তা দিয়ে যাবে
তার থেকে তারা প্রার্থিত কোন সুফল নাহিকো পাবে

টীকা: ভারতীয়রা ব্রিটিশ সরকারের প্রদত্ত যে সকল আশ্বাসের প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে তাদের সহায়তা করেছিল, যুদ্ধের পর তা বাস্তবায়ন করেনি।

(১৬)
বিজ্ঞানীগণ এ লড়াইকালে অতিশয় আধুনিক
করিবে তৈয়ার অতি ভয়াবহ হাতিয়ার আনবিক

টীকা: মূল কবিতায় ব্যবহৃত শব্দটি হচ্ছে ‘আলোতে বকর’ যার শাব্দিক অর্থ বিদ্যুৎ অস্ত্র, অনুবাদক বিদ্যুৎ অস্ত্রের পরিবর্তে ‘আনবিক অস্ত্র তরজমা করেছেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে আমেরিকা হিরোসিমা-নাগাসাকিতে আনবিক বোমা নিক্ষেপ করে। এতে লাখ লাখ বেসামরিক লোক নিহত হয়। কবিতায় বিদ্যুৎ অস্ত্র বলতে মূলত আনবিক অস্ত্রই বুঝানো হয়েছে।

(১৭)
গায়েবী ধনির যন্ত্র বানাবে নিকটে আসিবে দূর
প্রাচ্যে বসেও শুনিতে পাইবে প্রতীচীর গান-সুর

টীকা: গায়েবী ধনীর যন্ত্র রেডিও-টিভি

(১৮)
মিলিত হইয়া ‘প্রথম আলিফ’ ‘দ্বিতীয় আলিফ’ দ্বয়
গড়িয়া তুলিবে রুশ-চীন সাথে আতাত সুনিশ্চয়

(১৯)
ঝাপিয়ে পড়িবে ‘তৃতীয় আলিফ’ এবং দু’জীম ঘারে
ছুড়িয়া মারিবে গজবী পাহাড় আনবিক হাতিয়ারে।

টীকা: প্রথম আলিফ= ইংল্যান্ড দ্বিতীয় আলিফ=আমেরিকা তৃতীয় আলিফ= ইটালি দুই জীম=জার্মানি ও জাপান

(প্যারা: ১৯- এর শেষ)
অতি ভয়াবহ নিষ্ঠুরতম ধ্বংসযজ্ঞ শেষে
প্রতারণা বলে প্রথম পক্ষ দাড়াবে বিজয়ী বেশে

(২০)
জগৎ জুড়িয়া ছয় সালব্যাপী এই রণে ভয়াবহ
হালাক হইবে অগিণত লোক ধন ও সম্পদসহ

টীকা: জাতিসংঘের হিসেব মতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রায় ৬ কোটি লোক মারা গিয়েছিল।

(প্যারা: ২১)
মহাধ্বংসের এ মহাসমর অবসানে অবশেষে
নাসারা শাসক ভারত ছাড়িয়া চলে যাবে নিজ দেশে
কিন্তু তাহারা চিরকাল তরে এদেশবাসীর মনে
মহাক্ষতিকর বিষাক্ত বীজ বুনে যাবে সেই সনে

টীকা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয় ১৯৪৫ সালে, আর ভারত উপমহাদেশ থেকে নাসারা তথা ইংরেজ খ্রিস্টানরা চলে যায় ১৯৪৭ এ। এই প্যারার দ্বিতীয় অংশের ব্যাখ্যা দুই রকম আছে।
ক) এই অঞ্চলের বিভেদ তৈরী জন্য ইংরেজ খ্রিস্টানরা কাশ্মীরকে হিন্দুদের দিয়ে প্যাচ বাধিয়ে যায়।
খ) ইংরেজরা চলে গেলেও তাদের সংস্কৃতি এমনভাবে রেখে গেছে যে এই উপমহাদেশে লোকজন এখনও সব যায়গায় ব্রিটিশ নিয়ম-কানুন-ভাষা-সংস্কৃতি অনুসরণ করে।
** অনেকে এই ক্ষতিকর বিজ বলতে লা-মাযহাবী তথা আহলে হাদীস এবং কাদিয়ানী গোষ্ঠী মন্তব্য করেছেন।

(২২)
ভারত ভাঙ্গিয়া হইবে দু’ভাগ শঠতায় নেতাদের
মহাদুর্ভোগ দুর্দশা হবে দু’দেশেরি মানুষের

টীকা: দেশভাগের সময় মুসলমানরা আরো অনেক বেশি এলাকা পেত। কিন্তু সেই সময় অনেক মুসলমান নেতার গাদ্দারির কারণে অনেক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা হিন্দুদের অধীনে চলে যায়। ফলে কষ্টে পরে সাধারণ মুসলমানরা। এখনও ভারতের মুসলমানরা সেই গাদ্দারির ফল ভোগ করছে।

(২৩)
মুকুটবিহীন নাদান বাদশা পাইবে শাসনভার
কানুন ও তার ফর্মান হবে আজেবাজে একছার

টীকা: এই প্যারা থেকে ভারত বিভাগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ধরা যায়। এই সময় এই অঞ্চলে মুসলমানদের ঝান্ডাবাহী কোন সরকার আসেনি।
**মুকুটবিহীন নাদান বাদশাহ বলতে অনেকে ‘গণতন্ত্র’কে বুঝিয়েছে। আব্রাহাম লিংকনের তৈরী গণতন্ত্রকে জনগণের তন্ত্র বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে তা হচ্ছে জন-নিপীড়নের তন্ত্র। এই গণতন্ত্রের নিয়ম কানুন যে আজেবাজে সে সম্পর্কে শেষ লাইনে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

(২৪)
দুর্নীতি ঘুষ কাজে অবহেলা নীতিহীনতার ফলে
শাহী ফর্মান হবে পয়মাল দেশ যাবে রসাতলে

টীকা: সমসাময়িক দুর্নীতি বুঝানো হয়েছে।

(২৫)
হায় আফসোস করিবেন যত আলেম ও জ্ঞানীগণ
মূর্খ বেকুফ নাদান লোকেরা করিবে আস্ফালন।

(২৬)
পেয়ারা নবীর উম্মতগণ ভুলিবে আপন শান
ঘোরতর পাপ পঙ্গিলতায় ডুবিবে মুসলমান

(২৭)
কালের চক্রে স্নেহ-তমীজের ঘটিবে যে অবসান
লুণ্ঠিত হবে মানী লোকদের ইজ্জত সম্মান

(২৮)
উঠিয়া যাইবে বাছ ও বিচার হালাল ও হারামের
লজ্জা রবে না, লুণ্ঠিত হবে ইজ্জত নারীদের

(২৯)
পশুর অধম হইবে তাহারা ভাই-বোনে, মা-বেটায়
জেনা ব্যাভিচারে হইবে লিপ্ত পিতা আর কন্যায়

(প্যারা: ৩০)
নগ্নতা আল অশ্লীলতায় ভরে যাবে সব গেহ
নারীরা উপরে সেজে রবে সতী ভেতরে বেচিবে দেহ

(৩১)
উপরে সাধুর লেবাস ভেতরে পাপের বেসাতি পুরা
নারী দেহ নিয়ে চালাবে ব্যবসা ইবলিস বন্ধুরা

(৩২)
নামায ও রোজা, হজ্জ্ব যাকাতের কমে যাবে আগ্রহ
ধর্মের কাজ মনে হবে বোঝা দারুন দুর্বিষহ

(৩৩)
কলিজার খুন পান করে বলি শোন হে বৎসগণ
খোদার ওয়াস্তে ভুলে যাও সব নাসারার আচরণ

(৩৪)
পশ্চিমা ঐ অশ্লীলতা ও নগ্নতা বেহায়ামি
ডোবাবে তোদের, খোদার কঠোর গজব আসিবে নামি

(৩৫)
ধ্বংস নিহত হবে মুসলিম বিধর্মীদের হাতে
হবে নাজেহাল, ছেড়ে যাবে দেশ ভাসিবে রক্তপাতে

(৩৬)
মুসলমানের জান-মাল হবে খেলনা- মুল্যহত
রক্ত তাদের প্রবাহিত হবে সাগর স্রােতের মত

(৩৭)
এরপর যাবে ভেগে নারকীরা পাঞ্জাব কেন্দ্রের
ধন সম্পদ আসিবে তাদের দখলে মুমিনদের

টীকা ১: এখানে পাঞ্জাব কেন্দ্রের বলতে কাশ্মীর মনে করা হয়।
টীকা ২: প্রথম মত: ১৯৪৮ সালে মুসলিম সুলতান নিজামের অধীনস্ত হায়দারাবাদ শহরটি দখল করে নেয় হিন্দুরা। সে সময় প্রায় ২ লক্ষ মুসলমানকে শহীদ করে মুশরিক হিন্দুরা, ১ লক্ষ মা বোনের ইজ্জত লুণ্ঠন করে, হাজার হাজার মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়। শুধু নিজামের প্রাসাদ থেকে নিয়ে যায় ৪ ট্রাক সোনা গয়না।
দ্বিতীয় মত: হিন্দুস্তানের যুদ্ধের পুর্বে মুসলিমরা সর্বপ্রথম ভারতের কাছ থেকে একটি এলাকা দখল করে নেবে। এটা হচ্ছে পাকিস্তান সিমান্তলগ্ন পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মির এলাকাটা। কারণ কাশ্মিরের স্থানীয় মুজাহিদ, আইএস, আল-ক্বায়েদা, তালেবান সহ আরো অনেক জিহাদি গ্রুপ ব্যপক আকারে প্রস্তুতুতি নেওয়া শুরু করেছে জম্মু কাশ্মির কে ভারতের দখল থেকে মুক্ত করার জন্য।

(৩৮)
অনুরূপ হবে পতন একটি শহর মুমিনদের
তাহাদের ধনসম্পদ যাবে দখলে হিন্দুদের

(৩৯)
হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ সেখানে চালাইবে তারা ভারি
ঘরে ঘরে হবে ঘোর কারবালা ক্রন্দন আহাজারি

টিকা: ৩৮ ও ৩৯ নং প্যারায় বলা হয়েছে, মুসলিমরা যখন কাশ্মির দখল নেবে এর পরই হিন্দুরা মুসলিমদের একটি এলাকা দখলে নেবে। এবং সেখানে ব্যাপক হত্যা ধংসযগ্য চালাবে। মুসলমানদের ধন-সম্পদ ভারত সরকার লুটপাটের মাদ্ধমে নিয়ে নেবে, মুসলিমদের ঘরে ঘরে কারবালার ন্যায় রুপধারন করবে কিন্তু আপনি কি জানেন? মুসলিমদের যে দেশটা ভারত সরকার দখলে নিয়ে এ ধরনের হত্যা ধংসযগ্য চালাবে সেটা কোন দেশ? হা সেটা আপনার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। অর্থাৎ মুসলমানরা কাশ্মীর জয় করার পর হিন্দুরা বাংলাদেশ দখল করবে।


(৪০)
মুসলিম নেতা-অথচ বন্ধু কাফেরের তলে তলে
মদদ করিবে অরি কে সে এক পাপ চুক্তির ছলে

টীকা: বর্তমান সময়ে এই উপমহাদেশে এ ধরনের নেতার অভাব নেই। যারা উপর দিয়ে মুসলমানদের নেতা সেজে থাকে, কিন্তু ভেতর দিয়ে কাফিরদের এক নম্বর দালাল। সমগ্র ভারতে উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানে এর যথেষ্ট উদাহরণ আছে-যে নেতারা নামধারী মুসলমান হবে, কিন্তু গোপনে গোপনে হিন্দুবান্ধব হবে। মুসলিমদের ধংস করার জন্য ভারত সরকাররের সাথে গোপনে পাপ চুক্তি করবে।


(৪১)
প্রথম অক্ষরেখায় থাকিবে শীনে’র অবস্থান
পঞ্চাশতম অক্ষরে থাকিবে নূন’ ও বিরাজমান
ঘটিবে তখন এসব ঘটনা মাঝখানে দু’ঈদের
ধিক্কার দিবে বিশ্বের লোক জালিম হিন্দুদের
টীকা: ইসলাম ধংসকারি এই শাসককে চিনার উপাই হল তার নামের প্রথম অক্ষর হবে (শ ) এবং শেষের অক্ষর হবে (ন ) এবার বলুন এই শাসক কি আমাদের দেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাই হওয়ার কথা। নয় কি? আর পঞ্চাশতম অক্ষর ‘নূন’ বলতে বি বোঝানো হয়েছে তা বোঝা যাচ্ছে না।  আর এসব ঘটনা ঘটবে দুই ইদের মাঝে। যেটা হতে পারে আগামি ইদ থেকে দুই তিন বছরের মধ্যে। প্রিয়ে ভায়েরা একটু কল্পনা করুন এদেশে যখন ভারতীয় সেনাবাহিনী ঢুকে আপনার পিতা, আপনার ভাই ও আত্নীয় সজনদের নির্মমভাবে হত্যা আপনার মা বোনদের ধর্ষন করবে তখন কি অবস্থা হবে একটু ভেবেছেন? আপনি ভেবেছেন কি আপনার সাজানো সংসার আপনার চাকুরী আপনার ব্যবসার ভবিষত কি? সময় খুব অল্প যুদ্ধের প্রস্তুতি নিন হিন্দু মালাউদের কচুকাট কাটার জন্য। এছাড়া যে আর কোন পথ নেই। এটাই রাসুলুল্লাহ (সল্লাল্ল-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ভবিষৎবানী।

(৪২)
মহরম মাসে হাতিয়ার হাতে পাইবে মুমিনগণ
ঝঞ্বারবেগে করিবে তাহারা পাল্টা আক্রমণ

(৪৩)
সৃষ্টি হইবে ভারত ব্যাপিয়া প্রচণ্ড আলোড়ন
‘উসমান’ এসে নিবে জেহাদের বজ্র কঠিন পণ

(৪৪)
‘সাহেবে কিরান-‘হাবীবুল্লাহ’ হাতে নিয়ে শমসের
খোদায়ী মদদে ঝাপিয়ে পড়িবে ময়দানে যুদ্ধে

টীকা: এখানে মুসলমানদের সেনাপতির কথা বলা হয়েছে। শনি ও বৃহস্পতিগ্রহ অথবা শুক্র ও বৃহস্পতি গ্রহের একই রৈখিক কোণে অবস্থানকালীন সময়ে যে যাতকের জন্ম অথবা এ সময়ে মাতৃগর্ভে যে যাতকের ভ্রুনের সঞ্চার ঘটে তাকে বলা হয় সাহেবে কিরান বা সৌভাগ্যবান। সেই মহান সেনাপতির নাম বা উপাধি হবে ‘হাবীবুল্লাহ’।

(৪৫)
কাপিবে মেদিনী সীমান্ত বীর গাজীদের পদভারে
ভারতের পানে আগাইবে তারা মহারণ হুঙ্কারে

টীকা: আক্রমণকারীরা ভারত উপমহাদেশের হিন্দু দখলকৃত এলাকার বাইরে থাকবে এবং হিন্দু দখলকৃত এলাকা দখল করতে হুঙ্কার দিয়ে এগিয়ে যাবে।

(৪৬)
পঙ্গপালের মত ধেয়ে এসে এসব ‘গাজীয়ে দ্বীন’
যুদ্ধে জিতিয়া বিজয় ঝাণ্ডা করিবেন উড্ডিন

(৪৭)
মিলে এক সাথে দক্ষিণী ফৌজ ইরানী ও আফগান
বিজয় করিয়া কবজায় পুরা আনিবে হিন্দুস্তান

টীকা: হিন্দুস্তান সম্পূর্ণরূপে মুসলমানদের দখলে আসবে।

(৪৮)
বরবাদ করে দেয়া হবে দ্বীন ঈমানের দুশমন
অঝোর ধারায় হবে আল্লা’র রহমাত বরিষান

(৪৯)
দ্বীনের বৈরী আছিল শুরুতে ছয় হরফেতে নাম
প্রথম হরফ গাফ সে কবুল করিবে দ্বীন ইসলাম

টীকা: ছয় অক্ষর বিশিষ্ট একটি নাম যার প্রথম অক্ষরটি হবে ‘গাফ’ এমন এক প্রভাবশালী হিন্দু ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম পক্ষে যোগদান করবেন। তিনি কে তা এখন বুঝা যাচ্ছে না।

(৫০)
আল্লা’র খাস রহমাতে হবে মুমিনেরা খোশদিল
হিন্দু রসুম-রেওয়াজ এ ভূমে থাকিবে না এক তিল

টীকা: ভারত বর্ষে হিন্দু ধর্ম তো দূরে হিন্দুদের কোন রসম রেওয়াজও থাকবে না। (সুবহানাল্লাহ)

(৫১)
ভারতের মত পশ্চিমাদেরও ঘটিবে বিপর্যয়
তৃতীয় বিশ্ব সমর সেখানে ঘটাইবে মহালয়

টীকা: বর্তমান সময়ে স্পষ্ট সেই তৃতীয় সমরের প্রস্তুতি চলছে। অর্থ্যাৎ সমগ্র বিশ্ব জুড়ে মুসলমাদের বিরুদ্ধে কাফিররা যুদ্ধ করছে তথা জুলুম নির্যাতন করছে। এই জুলুম নির্যাতনই তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধে রুপ নিয়ে একসময় তাদের ধ্বংসের কারণ হবে। এখানে বলা হচ্ছে মহালয় বা কেয়ামত শুরু হবে যাতে পশ্চিমারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।

(৫২)
এ রণে হবে ‘আলিফ’ এরূপ পয়মাল মিসমার
মুছে যাবে দেশ, ইতিহাসে শুধু নামটি থাকিবে তার

টীকা: এ যুদ্ধের কারণে আলিফ = আমেরিকা এরূপ ধ্বংস হবে যে ইতিহাসে শুধু তার নাম থাকবে, কিন্তু বাস্তবে তার কোন অস্তিত্ব থাকবে না। বর্তমানে মুছে যাওয়ার আগাম বার্তা স্বরূপ দেশটিতে আমরা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অর্থনৈতিক মন্দা চরমভাবে দেখতে পাচ্ছি।

(৫৩)
যত অপরাধ তিল তিল করে জমেছে খাতায় তার
শাস্তি উহার ভুগতেই হবে নাই নাই নিস্তার
কুদরতী হাতে কঠিন দণ্ড দেয়া হবে তাহাদের
ধরা বুকে শির তুলিয়া নাসারা দাড়াবে না কভু ফের

টীকা: এখানে স্পষ্ট যিনি এই শাস্তি দিবেন তা হবে কুদরতি হাতে। যদিও বা আল্লাহ তায়ালার ক্ষেত্রে কুদরত, নবী রাসূলের ক্ষেত্রে মুজিজা, এবং ওলী আল্লাহ গণের ক্ষেত্রে কারামত শব্দ ব্যাবহৃত হয়। এখানে কাফিরদের শাস্তি কোন ওলী আল্লাহ কারামতের মাধ্যমেই দিবেন এটাই বুঝান হয়েছে। এই শাস্তির কারণে নাসারা বা খ্রিস্টানরা আর কখনই মাথা তুলে দাড়াতে পারবে না।

(৫৪)
যেই বেঈমান দুনিয়া ধ্বংস করিল আপন কামে
নিপাতিত শেষকালে সে নিজেই জাহান্নামে

(৫৫)
রহস্যভেদী যে রতন হার গাথিলাম আমি তা - - যে
গায়েবী মদদ লভিতে, আসিবে উস্তাদসম কাজে।

(৫৬)
অতিসত্বর যদি আল্লা'র মদদ পাইতে চাও
তাহার হুকুম তালিমের কাজে নিজেকে বিলিয়ে দাও

টীকাঃ বর্তমানে সমস্ত ফিতনা হতে হিফাজত হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে সমস্ত হারাম কাজ থেকে খাস তওবা করা। সেটা হারাম আমল হোক কিংবা কাফের মুশরিক প্রনিত বিভিন্ন নিয়ম কানুন হোক।

(৫৭)
'কানা জাহুকার' প্রকাশ ঘটার সালেই প্রতিশ্রুত
ইমাম মাহাদি দুনিয়ার বুকে হবেন আবির্ভূত

টীকাঃ 'কানা জাহুকার' সূরা বনী ইসরাইলের ৮১ নং আয়াতের শেষ অংশ। যার অর্থ মিথ্যার বিনাশ অনিবার্য। পূর্ব আয়াতটির অর্থ 'সত্য সমাগত মিথ্যা বিলুপ্ত'। অর্থাৎ যখন মিথ্যার বিনাশ কাল উপস্থিত হবে তখন উপযুক্ত সময়েই আবির্ভূত হবেন 'মাহদী' বা 'পথ প্রদর্শক'। উনার আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে বাতিল ধ্বংস হবে।

(৫৮)
চুপ হয়ে যাও ওহে নেয়ামত এগিও না মোটে আর
ফাঁস করিও না খোদার গায়বী রহস্য -- আসরার
এ কাসিদা বলা করিলাম শেষ 'কুনুত কানয' সালে
(অদ্ভুত এই রহস্য গাঁথা ফলিতেছে কালে কালে)

টীকাঃ 'কুনুত কানয সাল' অর্থাৎ হিজরি সন ৫৪৮ মোতাবেক ১১৫৮ ইংরেজি সাল হচ্ছে এ কাসিদার রচনা কাল। এটা আরবি হরফের নাম অনুযায়ী সাংকেতিক হিসাব।

রবিবার, ২ জুলাই, ২০১৭

সা'দ আল আসওয়াদ আস-সুলুমী (রাঃ)। তিনি ছিলেন গরীব, গায়ের রঙ কালো। কেউ তাঁর কাছে নিজের মেয়েও বিয়ে দিতে চাইতো না।

সা'দ (রাঃ) একদিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এঁর কাছে দুঃখ করে বলেছিলেনঃ ❝ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমিও কি জান্নাতে যাবো?
আমি তো নীচু মাপের ঈমানদার হিসেবে বিবেচিত হই।
কেউ আমাকে নিজের মেয়ে দিতে রাজি হয় না।❞
রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের দুঃখ বুঝতেন নিজের আপন ভাইয়ের মত করে, নিজের সন্তানের মত করে। তিনি তাদেরকে অনুভব করতেন অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে। তিনি এই সা'দকে পাঠিয়েছিলেন ইবন আল-ওয়াহহাবের কাছে।
.
সাধারণ কোন ব্যক্তি ছিলেন না এই ইবন আল-ওয়াহহাব। তিনি হলেন মদীনার নেতাদের একজন। কিছুদিন যাবৎ মুসলিম হয়েছেন। তাঁর মেয়ে অপরূপা সুন্দরী রমণী, রূপের জন্য বিখ্যাত। সেই ইবন আল-ওয়াহহাবের মেয়েকে বিয়ে করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা'দ (রাঃ)-কে পাঠালেন।
নেতার মেয়ে বিয়ে করবে সা'দের মতো একজনকে? যে তার সৌন্দর্য্যের জন্য এতো প্রসিদ্ধ, সে হবে সা'দের বউ?? স্বাভাবিকভাবেই ইবন আল-ওয়াহহাবের প্রতিক্রিয়া ছিলঃ ❝আকাশ-কুসুম কল্পনা ছেড়ে বাড়ি যাও...।❞
কিন্তু তাঁর মেয়ে ততক্ষণে শুনে ফেলেছেন। সে বলে উঠলোঃ
❝বাবা! আল্লাহর রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুরোধ করেছেন তাকে বিয়ে করার জন্যে, তুমি কিভাবে উনাকে ফিরিয়ে দিতে পারো?? রাসূলের উৎকণ্ঠা থেকে আমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে আমাদের অবস্থানটা কি হবে?❞
এরপর সা'দের দিকে ফিরে বললোঃ ❝রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যেয়ে বলে দিন, আমি আপনাকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তুত।❞
.
সা'দের মন সেদিন আনন্দে পুলকিত...। সে যেন খুশিতে টগবগ করে ফুটছে...। রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৪০০ দিনার মোহরানায় তাদেরকে বিয়ে দিয়ে দিলেন। আলহামদুলিল্লাহ! সুবহান আল্লাহ!
সা'দ (রাঃ) বললেনঃ ❝হে রাসূল, আমি তো জীবনে কোনদিন চারশ দিনার দেখিই নি! আমি এই টাকা কীভাবে শোধ করবো?❞
নবীজি (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেনঃ ❝আলী আল-নু'মান ইবন আউফ আর উসমান (রাঃ) এঁর কাছ থেকে দুইশ দুইশ করে মোট চারশ দিনার নিয়ে নিতে।❞
দুজনেই উনাকে দুইশর বেশি করে দিনার দিলেন। আলহামদুলিল্লাহ!
টাকার যোগার ও হয়ে গেলো। এখন নতুন বউ এর কাছে যাবেন সা'দ (রাঃ)...।
মার্কেটে যেয়ে সুন্দরী বউ এর জন্যে টুকিটাকি কিছু উপহার কেনার কথা চিন্তা করলেন তিনি। মার্কেটে পৌঁছে গেছেন, হঠাৎ তাঁর কানে আসলো জিহাদের ডাক। ❝যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও ...।❞
সা'দ (রাঃ) যেখানে ছিলেন সেখানেই দাঁড়িয়ে গেলেন। আকাশের দিকে তাকালেন একবার, বললেনঃ ❝হে আল্লাহ! আমি এই টাকা দিয়ে এমনকিছু কিনবো যা তোমাকে খুশি করবে। নতুন বউ এর জন্য গিফট কেনার বদলে তিনি কিনলেন একটি তরবারি আর একটি ঘোড়া।❞
এরপর ঘোড়া ছুটিয়ে চললেন জিহাদের ময়দানে, নিজের চেহারাটা কাপড় দিয়ে মুড়ে নিলেন, যেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে দেখে চিনে ফেলতে না পারেন। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখলেই তো বাড়িতে পাঠিয়ে দিবেন! সে যে সদ্য-বিবাহিত! সাহাবারা (রাঃ) বলাবলি করছিলেনঃ ❝যুদ্ধ করতে আসা এই মুখ-ঢাকা লোকটি কে?❞
আলী (রাঃ) বললেনঃ ❝বাদ দাও, সে যুদ্ধ করতে এসেছে।❞
ক্ষিপ্ততার সাথে সা'দ (রাঃ) যুদ্ধ করতে থাকলেন, কিন্তু তাঁর ঘোড়ায় আঘাত হানা হলো, ঘোড়া পড়ে গেলো। সা'দ (রাঃ) উঠে দাঁড়ালেন। ঐ সময় নবীজি (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কালো চামড়া দেখে ফেললেনঃ
❝ইয়া সা'দ এ কি তুমি?!❞ রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এঁর প্রশ্নের জবাবে তিনি (রাঃ) বললেনঃ ❝আমার মা-বাবা আপনার উপর উৎসর্গিত হোক ইয়া আল্লাহর রাসূল! হ্যাঁ, আমি সা'দ।❞
.
রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ ❝হে সা'দ, জান্নাত ছাড়া তোমার জন্য আর কোন আবাস নেই।❞
সা'দ (রাঃ) আবারো জিহাদে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। কিছু সময় পর কয়েকজন বললো সা'দ আহত হয়েছে। রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছুটে গেলেন ময়দানে। সা'দকে খুঁজতে লাগলেন। সা'দের মাথা খানা নিজের কোলের উপর রেখে কাঁদতে শুরু করলেন। তাঁর অশ্রু গড়িয়ে গড়িয়ে সা'দের মুখের উপর এসে পড়ছিলো। তাঁর (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এঁর চোখ বেয়ে নেমে আসছিলো অঝোর ধারা। একটু পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসতে শুরু করলেন, আর তারপর মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
.
আবু লুবাবা (রাঃ) নামের একজন সাহাবা উনাকে দেখে বিস্ময়ে বললেনঃ
❝হে রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমি আপনাকে এমনটি কখনো করতে দেখি নি...।❞ আল্লাহর রাসূল (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ ❝আমি কাঁদছিলাম কারণ আমার প্রিয় সঙ্গী আজ চলে গেলো! আমি দেখেছি সে আমার জন্য কী ত্যাগ করলো আর সে আমাকে কতো ভালোবাসতো... কিন্তু এরপর আমি দেখতে পেলাম তার কী ভাগ্য, আল্লাহর কসম, সে ইতিমধ্যে হাউদে পৌঁছে গেছে।❞
আবু লুবাবা জিজ্ঞেস করলেনঃ ❝হাউদ কি?❞
রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ
❝এটি হলো এমন এক ঝর্ণা যা থেকে কেউ একবার পান করলে জীবনে আর কোনদিন পিপাসার্ত হবে না, এর স্বাদ মধুর চেয়েও মিষ্টি, এর রঙ দুধের চেয়েও সাদা! আর যখন আমি তাঁর এইরূপ মর্যাদা দেখলাম, আল্লাহর কসম, আমি হাসতে শুরু করলাম।❞
❝তারপর আমি দেখতে পেলাম সা'দের দিকে তাঁর জান্নাতের স্ত্রীগণ এমন উৎফুল্ল ভাবে ছুটে আসছে, যে তাদের পা গুলো বের হয়ে পড়ছে, তাই আমি চোখ ফিরিয়ে নিলাম।❞

মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০১৭

সূরা ইউসুফ থেকে পাওয়া ১২টি লাইফ লেসন – ৪র্থ ও শেষ পর্ব – চূড়ান্ত সাফল্য

১২) সফলতার সংজ্ঞা জানুন (Know the definition of success)
12. success
জীবনের বড় কোনো সফলতার কথা মনে করে দেখুন তো। আপনি হয়তো অনেক দু’আ করছিলেন – হে আল্লাহ আমি যাতে ‘এত’ সিজিপিএ নিয়ে গ্রাজুয়েশন করতে পারি, তারপর আপনি সেটা অর্জন করেছিলেন। অথবা মনে করুন, আপনার সেই স্মরণীয় চাকুরী প্রাপ্তির দিনটি। আল্লাহর কাছে অনেক অনেক দু’আ করছিলেন – হে আল্লাহ আমাকে এই চাকরিটি মিলিয়ে দাও, এই চাকরিটি পেলে আমার জীবনের সব কিছু সেটল হয়ে যাবে! তারপর চাকরিটি হয়তো আপনি পেয়েও গিয়েছিলেন। কিংবা পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করেছিলেন – হে আল্লাহ আমি যাতে অমুককে বিয়ে করতে পারি। লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার পর আপনার আচরণ কেমন হয়েছিলো তা মনে আছে? নতুন এই অর্জন আপনাকে আল্লাহর ইবাদতে আরো মনোযোগী করে তুলেছিলো, নাকি এই অর্জন আপনাকে নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে অহংকারী করে তুলেছিলো?  আসুন দেখা যাক অভাবনীয় সাফল্য অর্জনের পর নবী ইউসুফ(আ) এর আচরণ কেমন ছিলো।
কিসের এখন আর অভাব আছে নবী ইউসুফ(আ) এর জীবনে? পৃথিবীর অর্ধেক সৌন্দর্য আল্লাহ তাঁকে দিয়েছেন।মিশরের ইতিহাসের কঠিনতম সময়ে কোষাধ্যক্ষ হিসাবে প্রবল প্রজ্ঞা আর বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি – দীর্ঘ সাত বছরের দুর্ভিক্ষও কাবু করতে পারেনি মিশরের খাদ্যভান্ডারকে।চতুর্দিকে তাঁর প্রশংসা আর প্রশংসা। শুধু তাই নয় – নিজের মা-বাবা আর ভাইদেরকে কানআন থেকে নিয়ে এসে সম্মানের সাথে প্রাচূর্যময় দেশ মিশরের নাগরিকত্ব পাইয়ে দিয়েছেন। ক্ষমতা, টাকা, সম্মান, জনপ্রিয়তা, সুখী পরিবার – কোনো কিছুরই অভাব নেই নবী ইউসুফ(আ) এর জীবনে।কিন্তু চোখ-ধাঁধানো এই সাফল্য আর ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তাও চূড়ান্ত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারলো না নবী ইউসুফ(আ) কে;  মহান আল্লাহর কাছে তিনি দু’আ করলেন চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য:
‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে রাজ্য দান করেছো ও স্বপ্নের ব্যাখা শিক্ষা দিয়েছ। হে আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা! তুমি ইহলোক ও পরলোকে আমার অভিভাবক। তুমি আমাকে আত্মসমর্পণকারীর (মুসলিমের) মৃত্যু দাও ও আমাকে সৎ কর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করো’। (১২:১০১)
পশ্চিমা সাহিত্যে সফলতার সবচেয়ে বিখ্যাত সংজ্ঞাটি দিয়েছেন আর্ল নাইটিংগেল: ‘Success is the progressive realization of a worthy ideal’[৭]।আর ইসলাম বলে মানুষের একমাত্র worthy ideal হলো মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার কাছে আত্মসমর্পণ করা। আল্লাহর ইচ্ছার কাছে যে ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করে তার ধর্ম হলো ইসলাম, আর সেই ব্যক্তি হলো মুসলিম।
ইসলামিক জীবন-ব্যবস্থা সম্পর্কে আমাদের মধ্যে ২টি প্রচলিত দুইটি ভুল ধারণা আছে:
  • এক গ্রুপের ধারণা – ইসলামিক জীবন যাপন মানে সাধু-সন্ন্যাসী হয়ে যাওয়া। ইসলাম পালন করতে চাইলে চাকরী-বাকরী ছেড়ে ছুড়ে মসজিদে মসজিদে ঘুরতে হবে। হাসি-ঠাট্টা করা যাবে না, সব সময় মুখ গোমড়া করে রাখতে হবে, বেড়াতে যাওয়া যাবে না – ইত্যাদি।
  • আরেক গ্রুপের ধারণা – ‘আল্লাহ এক’ বলে স্বীকার করার পর যা ইচ্ছা তা করলেই হয়, ইচ্ছা হলো তো নামাজ পড়লাম ইচ্ছা হলো তো পড়লাম না, সুদ-ঘুষ সহ যে কাজটাকে আমার কাছে সঠিক বলে মনে হবে সেটা করলেই চলবে, কালেমা যখন পড়েছি একদিন না একদিন কোনো এক চিপা দিয়ে তো বেহেশতে যাবই যাব।
এই দুইটি ধারণাই ভুল, কারণ ইসলাম একটি মধ্যপন্থী ধর্ম [১২]। ইসলাম পালন করা মানে এই নয় যে সব ছেড়ে-ছুড়ে দিয়ে সারাদিন মসজিদে পড়ে থাকতে হবে। আবার ইসলাম মানে এইও নয় যে ৫ ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দিয়ে দিন-রাত চাকরী বা ব্যবসা নিয়ে পড়ে থাকলেও ঠিক আছে। ইসলাম মানে হলো:
  • আল্লাহ যেভাবে ইবাদত করতে বলেছেন সেইভাবে নিয়মিত তাঁর ইবাদত করা (http://quran.com/51/56), এবং
  • পড়াশুনা, চাকরি-বাকরি, আচার-ব্যবহার থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য চেষ্টা করা (http://quran.com/67/2)
তবে অবশ্যই ইহকালের চেয়ে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে পরকালের সাফল্যের উপর। আল্লাহ মানুষকে তাঁর ইবাদত করার আত্মিক চাহিদা (Spiritual need) দিয়ে তৈরী করেছেন। মানুষ যখন এই আত্মিক চাহিদাকে উপেক্ষা করে তখন সে বিভিন্ন পার্থিব বস্তু (যেমন – সম্পদ, টাকা, গান-বাজনা, নতুন নতুন গ্যাজেট, নিত্য নতুন হুজুগ) দিয়ে নিজের সেই চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে। সে কখনোই এভাবে সফল হয় না, বরং তার হৃদয়ের ব্যধি আরো বাড়তেই থাকে।
হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন – ‘হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদতে নিজেকে ব্যস্ত রাখো, আমি তোমার হৃদয় প্রাপ্তি দ্বারা পূর্ণ করে দিব এবং দারিদ্র্যতা থেকে তোমাকে দূরে রাখব। আর তুমি যদি তা না করো, তোমার দুই হাতই পূর্ণ থাকবে, কিন্তু তবুও তোমার দারিদ্র্যতা আমি দূর করব না (তথা চাহিদা পূরণ করব না)’। – (তিরমিযী, আহমাদ, ইবনে মাজাহ)
ইসলামিক জীবন ব্যবস্থায় সফলতার সাথে ওতপ্রোতভাবে যে বিষয়টি জড়িত তা হলো – নিয়ত বা উদ্দেশ্য (intention)। যে কোনো লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রেই একজন মুসলিমের উদ্দেশ্য যদি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা না হয়ে অন্য কিছু হয়ে থাকে, তাহলে সে পরকালে এই কাজের জন্য কোন পুরষ্কার পাবে না।আমাদের নিয়ত যদি হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, তখন আমরা যে কোন হালাল কাজ সম্পাদন করলেই আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরষ্কার পাবো। এমনকি আমরা যখন অফিসে বসে কাজ করি, তখন যদি এই উদ্দেশ্যে কাজ করি যে আমি যে টাকা আয় করছি তা দিয়ে আমি সংসার চালিয়ে আল্লাহর দেয়া দায়িত্ব পালন করবো, তাহলে আমরা আল্লাহর থেকে পুরষ্কার পাবো, কিন্তু আমরা যদি শুধু জীবনটাকে ‘এনজয়’ করবো এই উদ্দেশ্য নিয়ে চাকরি করি তাহলে আল্লাহর থেকে কোনো পুরষ্কার পাবো না। আমরা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাজ করবো তখন অফিসে জবাবদিহিতার ভয় না থাকলেও আমরা ঘুষ খাবো না, কাজে ফাঁকি দিবো না। কারণ, আমরা তখন এই বিশ্বাস নিয়ে কাজ করবো যে আমার বস্‌ এর চোখকে আমি ফাঁকি দিতে পারলেও আল্লাহকে কখনোই আমি ফাঁকি দিতে পারবো না।
শেষ কথা:
শৃঙ্খলা (Discipline) আসলে কোনো ঐচ্ছিক ব্যাপার নয়। শৃঙ্খলা এর একমাত্র বিকল্প হলো অনুশোচনা। আমরা যদি আজ নিজেকে নিয়মতান্ত্রিক না করি, কাল আমরা অনুশোচনা করবো। আজ পড়াশুনা না করলে, কালকে এমন চাকরী করতে হবে যা আমাদের ভালো লাগবে না; আজ পরিশ্রম না করলে কাল থাকতে হবে কম বেতনের চাকুরি নিয়ে; একইভাবে এই দুনিয়ায় আমরা যদি আল্লাহর আহবানের প্রতি যদি সাড়া না দেই, আল্লাহও পরকালে আমাদের ডাকে সাড়া দিবেন না যখন আমরা জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে থাকবো।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে অতীত আর ভবিষ্যৎ সমান নয়। বর্তমানের দুর্দশাই ভবিষ্যতের সাফল্যের পথ খুলে দেয়। শিশু ইউসুফকে অন্ধকার কূপে ফেলে দেয়া হয়েছিলো বলেই প্রাচুর্যতা আর আপ্যায়নে তাঁর কৈশোর কেটেছে মন্ত্রীর বাসায়; আবার বছরের পর বছর জেলে বন্দি ছিলেন বলেই পরে রাজার সান্নিধ্যে ইউসুফ আসতে পেরেছিলেন; সাত বছর দুর্ভিক্ষের সাথে লড়াইয়ে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিতে পেরেছিলেন বলেই তিনি হতে পেরেছিলেন মিশরের আজিজ (বাদশাহ)। কাজেই, অতীতের ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ করুন, ধৈর্য আর পরিশ্রম নিয়ে লেগে থাকুন, আল্লাহ চাইলে অন্ধকার কূপের আপনিও একদিন সম্মানিত বাদশাহ হতে পারবেন। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে।
যে আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার মুক্তির পথ করে দেবেন। আর তাকে ধারণাতীত উৎস থেকে জীবনের উপকরণ দান করবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হবেন; আল্লাহ তার ইচ্ছা অবশ্যই পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্য নির্দিষ্ট মাত্রা স্থির করেছেন।  (সূরা তালাক ৬৫:২-৩)
জীবন আগেও কেটেছে, জীবন পরেও কাটবে। আমাদের বাবা-দাদা, তাদের বাবা-দাদা, আবার তাদেরও বাবা-দাদা সবাই কিন্তু ততটুকু আনন্দ-উচ্ছ্বাস, উত্তেজনা আর আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন ঠিক যতটুকু নিয়ে আজ আমরা করছি। তারা মরে যাওয়ার পর কয়দিন তাদের কথা ভেবে আমরা বেলা কাটিয়েছি? প্রত্যেক রাজার কোনো এক পূর্বপুরুষ দাস ছিলো, আর প্রত্যেক দাসের কোন এক পূর্বপুরুষ রাজা ছিলো – আমরা কে কাকে মনে রেখেছি? একজন কিন্তু সব ঠিকই মনে রেখেছেন, আর তিনি কড়ায়-গন্ডায় সব হিসেবও মিলিয়ে দেবেন। আসুন আমরা তাঁর ইচ্ছার কাছে নিজেকে আত্মসমর্পণ করে চূড়ান্ত সাফল্যের দিকে অগ্রসর হই।
নিচে এই সিরিজের লাইফ লেসনগুলি একসাথে তুলে ধরা হলো:
  1. অসাধারণ লক্ষ্য স্থির করুন (Set extraordinary goal)
  2. আপনার লক্ষ্যকে ভিজুয়ালাইজ করুন (Visualize your goal)
  3. অসাধারণ তাওয়াক্কুল রাখুন (Have extraordinary faith)
  4. সঠিক বিষয়ে ফোকাস করুন (Focus on the right thing)
  5. গুরুত্বের ক্রমানুসারে কাজ করুন (Prioritize your tasks)
  6. তাড়াহুড়া করবেন না (Do not hasten)
  7. গাজর ও লাঠিকে মনে রাখুন (Remember the carrot and the stick)
  8. এক ভুল দুই বার করবেন না (Don’t repeat your mistake)
  9. চুপ হয়ে থাকা শিখুন (Learn to be quiet)
  10. সম্পর্ক তৈরী করুন (Connect!)
  11. ক্ষমা একটি শিল্প, একে শিখুন (Learn the art of forgiveness)
  12. সফলতার সংজ্ঞা জানুন (Know the definition of success)
summary-clock