বুধবার, ১৮ মে, ২০১৬

যে ৯ লক্ষণে বুঝে নিন আপনি কখনোই ধনী হবেন না

. আপনি সঞ্চয়ের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেন, কিন্তু আয়ের বিষয়ে গুরুত্ব দেন না।
 . আপনি এখনো কোনো কিছুর ওপর বিনিয়োগ শুরু করেননি।
 . নির্দিষ্ট সময় আর দিনের বিষয়ে ভিত্তি করে আপনি পারিশ্রমিক পেতে চান। ধনী এবং সফল ব্যক্তিরা তাঁদের কাজের ফলাফলের ভিত্তিতে পারিশ্রমিক চান।
 . আপনি এমন সব জিনিসপত্র কিনে ফেলেন, যেগুলো চালানোর বা রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা আসলে আপনার নেই।
 . আপনি অন্য কারো স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করে চলছেন, নিজেরটা নয়!
 . নিজের জন্য নিরাপদ এবং আরামদায়ক আঙিনার বাইরে যেতে চান না আপনি।
 . অর্থ উপার্জনের জন্য আপনার তেমন নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নেই।
 . আপনি সবকিছুর আগে আগে খরচ করেন। এর পর যতটুকু অবশিষ্ট থাকে, সেটাই সঞ্চয় করেন।
 . আপনি বিশ্বাস করে বসে আছেন যে আপনার পক্ষে কখনোই ধনী হওয়া সম্ভব নয়!

ইখলাস কি?

ইখলাস হল আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চাবিকাঠি।

কেবলমাত্র আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে যাবতীয় কাজ সম্পাদন করার নামই হল ইখলাস। কে দেখছে কে দেখছেনা সেটা না ভেবে লোকচক্ষু বা লোকলজ্জাকে অবজ্ঞা করে আল্লাহ্‌ সর্বক্ষণ আমাদের দেখছেন এই ভয় বা ভাবনা মাথায় রেখে আমাদের প্রকাশিত বা অপ্রকাশিত সমস্ত কাজগুলো সম্পাদন করবার নামই হল ইখলাস। পবিত্র কোরআনে সুন্দর অনেক আয়াত আছে এই ব্যাপারে। মহান আল্লাহ্‌-তায়ালা বলেনঃ

“তারা মান্নত পূর্ণ করে এবং সেদিনকে ভয় করে, যেদিনের অনিষ্ট হবে সুদূরপ্রসারী। তারা আল্লাহর প্রেমে অভাবগ্রস্ত, এতীম ও বন্দীকে আহার্য দান করে।তারা বলেঃ কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে আমরা তোমাদেরকে আহার্য দান করি এবং তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা কামনা করি না।” [সূরা আদ-দাহর, ৭৬:৭-৯]
ইখলাস হল যেকোনো কাজের মূলভিত্তি। মূলভিত্তি দুর্বল হলে যেমন বিল্ডিং ভেঙ্গে পড়ে সহজেই, ঠিক তেমনই হবে আমদের কাজের পরিণতি সেটা যদি হয় ইখলাস-বিহীন।

“আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কোরবাণী এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে।” [সূরা আল আন-আম, ৬:১৬২]
“তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে…।” [সূরা বাইয়্যিনাহ, ৯৮:৫]
“আর সে নারী নিশ্চয়ই তার প্রতি আসক্ত হয়েছিল, আর সেও [ইউসুফ(আঃ)] তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ত যদি না সে তার পালনকর্তার স্পষ্ট-প্রমাণ প্রত্যক্ষ করতে। এইভাবে আমরা যেন তার কাছ থেকে হটিয়ে দিতে পারি মন্দকাজ ও অশ্লীলতা। নিঃসন্দেহে সে ছিল আমার একান্ত অনুরক্ত বান্দাদের একজন।” [সূরা ইউসূফ, ১২:২৪]
“সে [শয়তান] বললঃ হে আমার পলনকর্তা, আপনি যেমন আমাকে পথ ভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ঠ করে দেব।আপনার মনোনীত বান্দাদের ব্যতীত।” [সূরা হিজর, ১৫:৩৯-৪০]
এই মুহূর্তে উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) এর ব্যাপারে বলা নবী করিম(সাঃ ) এর একটা কথা মনে পড়ে গেল আমারঃ “উমর(রাদিআল্লাহু আনহু) যে পথে আছে শয়তান সে পথ পরিহার করে চলবে কেননা সে তাকে ভয় পায়।”(বুখারী-কিতাবুল আদাবঃ ১০৮)
বিশুদ্ধ ইখলাসের একটা সুন্দর উদাহারন হল মরিয়ম(আঃ) এর মা,

“এমরানের স্ত্রী যখন বললো-হে আমার পালনকর্তা! আমার গর্ভে যা রয়েছে আমি তাকে তোমার নামে উৎসর্গ করলাম সবার কাছ থেকে মুক্ত রেখে। আমার পক্ষ থেকে তুমি তাকে কবুল করে নাও, নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞাত।” [সূরা আল ইমরান, ৩:৩৫]

ইসলাম বিনষ্টকারী বিষয় দশটি:

১। আল্লাহর ইবাদতে কোন কিছুকে শরীক করা:
“নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করা ক্ষমা করেন না, তা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।” সূরা আন-নিসা: ৪৮
মৃত ব্যক্তির নিকট প্রার্থনা, ফরিয়াদ এবং মৃত ব্যক্তির নামে মানত ও জবেহ করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
২। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর মাঝে অন্যদেরকে মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করে ও তাদের কাছে প্রার্থনা জানায়, তাদের নিকট সুপারিশ কামনা করে এবং তাদের উপর ভরসা করে, সে আলেমদের সর্বসম্মতিক্রমে কাফের।
৩। মুশরিকদেরকে অমুসলিম ও কাফের বলে বিশ্বাস না করা বা তাদের কুফরীতে সন্দেহ পোষণ করা অথবা তাদের ধর্মমতকে সঠিক বলে মন্তব্য করা।
৪। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনীত ত্বরীকার চেয়ে অন্য ত্বরীকা কে পরিপূর্ণ বলে বিশ্বাস করা অথবা নবীর আনীত বিধান থেকে অন্য বিধানই উত্তম বলে মনে করা। এরূপ আকীদা পোষন কারী ব্যক্তি শরীয়তের দৃষ্টিতে কাফের বলে বিবেচিত। যেমন কোন ব্যক্তি তাঁর আনীত বিধানের উপর তাগুতের (মানব রচিত) বিধানকে অগ্রাধিকার দিল, এবং কোরআন হাদীসের সিদ্ধান্ত বাদ দিয়ে বৈধ জ্ঞানকরে মানব রচিত বিধানে বিচার শাসন করল।
৫। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদর্শিত কোন বিধানের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা যদিও উক্ত বিধানের উপর আমল করা হয়। যদি কোন মুসলিম এরূপ করে তাহলে সে শরীয়তের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাফের বলে বিবেচিত হবে।
“এটি এ জন্য যে, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তারা তা অপছন্দ করে, সুতরাং আল্লাহ তাদের কর্মসমূহকে নিষ্ফল করে দেবেন”। সূরা মুহাম্মাদ: ৯
৬। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত কোন সামান্য বিষয় অথবা এর সওয়াব প্রতিদান বা শাস্তির বিধানের প্রতি কোনরূপ ঠাট্টা বিদ্রুপ করা কুফরী।
“বল! তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর নিদর্শন ও তাঁর রাসূলকে বিদ্রুপ করছিলে? তোমরা আর অজুহাত দাড় করো না, তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরী করেছ।” সূরা আত-তাওবা: ৬৫-৬৬
৭। যাদু করা ও যাদুর প্রতি আকৃষ্ট হওয়া, সুতরাং যে যাদু করল অথবা যাদুর প্রতি সন্তুষ্ট থাকল সে কুফরী করল।
“তারা কাউকে (যাদু) শিক্ষা দিত না এ কথা না বলে যে, আমরা পরীক্ষা স্বরূপ; সুতরাং তুমি কুফরী কর না।” সূরা আল-বাকারা : ১০২
৮। মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাবত: অমুসলিম তথা ইহুদি, খ্রিস্টান বা মুশরিক প্রমূখদের সাহায্য করা।
“তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই একজন হবে, নিশ্চয় আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না”। সূরা আল-মায়িদাহ: ৫১
৯। যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, কিছু লোক আছেন যাদের জন্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়ত থেকে বের হয়ে যাওয়ার অনুমতি আছে। এরূপ বিশ্বাস পোষন কারী ব্যক্তি শরীয়তের বিবেচনায় কাফের বলে বিবেচিত হবে।
“কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন বা ধর্ম গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনও কবুল হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত”। সূরা আলে ইমরান: ৮৫
১০। আল্লাহ প্রদত্ত দ্বীন, ইসলামকে উপেক্ষা করে চলা। এর বিধি বিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও সে অনুযায়ী আমল না করা।

কুরআনুল কারীম বিশ্ব মানবতার জন্য এক অফুরন্ত নিয়ামাত। আল্লাহ তা‘আলার বড়ই মেহেরবানী যে, তিনি আমাদের উপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘বড়ই মেহেরবান তিনি (আল্লাহ) কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন



এই সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। মুত্তাকিদের (যারা আল্লাহর প্রতি তাদের করণীয়সমূহ সম্পর্কে সচেতন তাদের) জন্য হেদায়াত। (বাকারা, ০২ : ০২) আর আমি আমার বান্দার ওপর (কুরআন মাজিদে) বিভিন্ন সময়ে যা নাজিল করেছি যদি তোমরা সে সম্পকের্ সন্দেহে থাক তবে তোমরা তার মত একটি ‘সুরা’ নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীসমূহকে ডাক; যদি তোমরা (তোমাদের সন্দেহের ক্ষেত্রে) সত্যবাদী হও। (বাকারা, ০২ : ২৩) এই কুরআন তো এমন নয় যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ তা রচনা করতে পারবে; বরং এটি যা (যে ওহি) তার সামনে, তার সত্যায়ন এবং কিতাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, যাতে কোনো সন্দেহ নেই, যা সৃষ্টিকুলেন রবের পক্ষ থেকে। (ইউনুস, ১০ : ৩৭) এ কিতাব সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এতে কোনো সন্দেহ নাই। (সাজদাহ, ৩২ : ০২) লক্ষণীয় বিষয় হল, এই আয়াতগুলি কাফিরদেরকে কুরআন মাজিদের ভুলত্রুটি, অসঙ্গতি কিংবা অনৈক্য খুঁজে বের করতে বলে না, বরং কুরআন মাজিদে একটি সাধারণ সন্দেহের ছায়া খুঁজে বের করতে বলে। মানব ইতিহাসে এমন কোনো বইয়ের নজির নেই যার লেখক এই দাবি করতে পেরেছেন। কুরআন মাজিদই একমাত্র গ্রন্থ যা এই দাবি করেছে।