প্রয়োজনিয় সঞ্চয় না থাকা: যারা সঞ্চয় করতে জানেন না বা সঞ্চয় করার ইচ্ছা বা অভ্যাস নেই তারা কখনই ধনী হতে পারবেন না। মনে রাখতে হবে ছোট ছোট মুহূর্তের যোগেই তৈরি হয় মিনিট, ঘন্টা, দিন, মাস, বছর, যুগ এবং মহাকলের। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গিয়েছে, খুবই কম স্যখ্যক মানুষ পরে মাস শেষে একটি ক্ষুদ্র সঞ্চয় করতে। আপনি যদি ভবিষ্যতে নিজেকে একজন সচ্ছল ব্যক্তি হিসেবে দেখতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই সঞ্চয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। সঞ্চয় তো করবেন, কিন্তু কেন সঞ্চয় করবেন? যদি এই প্রশ্ন করা হয়-তার উত্তর কি দেবেন।তার উত্তর হলো: আপনি নিজে বা আপনার পরিবারের যে কেউ যে কোন সময়ে অসুস্থ হতে পারে।এই কথা মনে রেখে আজই এই মুহূর্ত থেকে আপনার সঞ্চয়ের একটি ফান্ড তৈরি করতে হবে। যখন আপনার সঞ্চয় বড় একটা অঙ্কে পৌছাবে তখন ওটা রেখে দিন সেফ কাষ্টডিতে। স্মরণ রাখতে হবে টাকার গরম খুব কম লোকই সহ্য করে তা জমিয়ে রাখতে পারে।
অতিরিক্ত ঋণ: অতিরিক্ত ঋণের বোঝা আপনার ধনী হওয়ার পিছনে একটি বড় বাধা। কিছু কিছু ঋণ অর্থনৈতিক সাফল্যের পিছনে ভূমিকা রাখে, যেমন আপনি কোন রিয়েল এস্টেট অথবা নতুন কোন ব্যবসায় বিনিয়োগ করলেন –এটা আপনার জন্য লাভজনক হতেও পারে। কিন্তু আপনি চড়া সুদে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে আপনার পছন্দসই জিনিস কিনলেন আর অপরদিকে ব্যাংকে আপনার খাতায় লাল ফিগার বাড়তে লাগলো – এটা আপনার ধনী হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়।
পরিকল্পনা শূন্য জীবন: কোন ধরণের সুনিশ্চিত পরিকল্পনা ছাড়া ধনী হওয়ার চিন্তা করা আর বামুন হয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখা অনেকটা একইরকম। কথায় আছে, যারা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ তারা মূলত পরিকল্পনা করতেও ব্যর্থ। কিভাবে খরচ করবেন বা সঞ্চয় করবেন পরিকল্পনা করুন। হয়তো প্রথমেই পেরে উঠবেন না। অভ্যস্ত হতে নিজেকে খানিকটা সময় দিন।
জরুরি ফান্ড না থাকা: বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনাগত বিপদের কথা ভেবে অবশ্যই আপনার উচিত অন্তত ৬ মাসের রোজগার জমিয়ে রাখা। আমাদের জীবনটা একটা অনিশ্চয়তার খেলা। আপনার কাছে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই যে, আপনার হাশিখুশি মুহূর্তগুলো কখন যে শোকে পরিণত হবে তা আপনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন।
সঞ্চয়ি না হওয়ার যুক্তি: মাসে অল্প কয়েকটা টাকা কামাই, খরচের বহর দিন দিন বাড়ছে, আমার জীবনে আর কি হবে, দেনা পরিশোধ করা এ জীবনে আর সম্ভব না – সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত আমরা এই অভিযোগগুলো করি। এটা ঠিক যে, পুরানো অভ্যাস দূর করা অনেক কঠিন। তবে কোন কিছুই পরিবর্তন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিজে না পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন। অনুযোগ আর কারণ দর্শানো এই বেলা বাদ দিন। এর পরিবর্তে বাজে অভ্যাসগুলোর জন্য নিজেকেই দায়ি করুন এবং কিভাবে নিজেকে পরিবর্তন করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করুন। লেগে থাকলে আপনি অবশ্যই পারবেন।
আগামিকালের চিন্তা পরে: উহু, এটা কোন মজার বিষয় নয়। আপনাকে অবশ্যই আপনার অবসরকালিন জীবনের কথা ভাবতে হবে। বাজারের লেটেষ্ট একটা ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী এসেছে তা কেনার জন্য আপনি যে ধার করেন, দয়া করে এই বদভ্যাসগুলো আপনার অবসর জীবনের দিকে তাকিয়ে এখনই বাদ দিন। হ্যাঁ, অবশ্যই আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস কিনবেন, কিন্তু টিনএজারদের মত এখনই ‘কিনে ফেলব’এই ফালতু আবেগে জড়াবেন না-নিজের মানসিকতাকে। একটু সঞ্চয় করুন।আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, আপনিই হচ্ছেন আগামি দিনের ধনী!
তেল পানি এক পত্রে নয়: আপনার সমস্ত উপার্জন এক খাতে বিনিয়োগ করে হয়তো বা আপনি লাভবান হলেও হতে পারেন। যেমন আপনি আপনার সমস্ত সঞ্চয় শেয়ারের পিছনে বিনিয়োগ করলেন, কে জানে হয়তো বা ভাগ্য খুলেও যেতে পারে। কিন্তু জেনে রাখুন এটা কখনোই ধনী হওয়ার রাস্তা হতে পারে না। আপনার সমস্ত উপার্জন এক জায়গায় বিনিয়োগ করা আপনাকে মাত্রাতিরিক্ত ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। আপনি অল্প অল্প করে বিভিন্ন খাতে আপনার সারা জীবনের উপার্জন বিনিয়োগ করুন। খারাপ কিছু হলে অন্তত ভেসে থাকার জন্য খড়কুটো পাবেন!
এক মুহূর্ত অপচয় নয়: সময় এগিয়েই যাবে। কিন্তু আপনি বসে থাকবেন কী না সেটাই দেখার বিষয়। আপনার উপার্যন কম হলেও আজ থেকেই অল্প অল্প করে জমানো শুরু করুন। ঋণ থাকলে আজ থেকেই শোধ করার জন্য জমাতে থাকুন। যা করবেন, আজ এখন থেকেই করুন। মানুষ যদি ইচ্ছে করে তবে সে অনেক কিছুই করতে পারে। ডিসকভারি চ্যানেল দেখুন, মানুষ চেষ্টা ধৈর্য্য আর অধ্যাবসায় দিয়ে কি অসাধ্য সাধন করছে। তা হলে আপনিও পারবেন এই বিশ্বাসটা মনের মধ্যে স্থির করুন-দেখবেন যেকোন ব্যাপারে সফল হবেন।
এখনই শুরু হোক: আপনিও হয়তো বা সাধারণ আর দশটা মানুষের মত। যারা বিশ্বাস করে, কেউ অথবা কোন কিছু আপনাকে আসন্ন বিপদ থেকে উদ্ধার করবে। এটা ঠিক, যে কোন সময় আপনার ভাগ্য খুলে যেতে পারে, হঠাৎ করে কর্পোরেট হাউজে একটা জব পেয়ে গেলেন, শেয়ারে চড়া লাভ হলো কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ অথবা লটারিতে জিতে গেলেন লক্ষ লক্ষ টাকা – যাই হোক যে কোন সময় আপনার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যেতে পারে, কিন্তু একটা কথা জেনে রাখুন আপনি যদি সত্যি নিজেকে একজন সচ্ছল মানুষ হিসেবে দেখতে চান, আপনাকে হঠাৎ করে সম্পদ লাভের স্বপ্ন ঝেড়ে ফেলতে হবে। যা করতে হবে আজ থেকেই করতে হবে, এখন থেকেই করতে হবে।
এটা ঠিক আমাদের জীবন খুবই অনিশ্চিত। কেউ জানে না কী হবে, আর কী হবে না। সবার জীবনেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে, তাহলে আজকের দিনের আপনি কেন ‘আপনার জীবনে কী উন্নতি সাধন করতে পারবেন’ সে ব্যাপারে নজর দিচ্ছেন না? একটা ব্যাপার আপনার জেনে ভালো লাগবে যে, আপনি কিন্তু এখনই ধনী।এই কথাটা নিয়ে একটু চিন্তা করুন।আপনাকে কেউ যদি বলে আপনার একটা হাতের বিনিময়ে আপনাকে ১০ লাখ টাকা দিবে, আপনি কি আপনার হাত দিয়ে দিবেন? আপনার মাথায় কি এই চিন্তা আসবে যে, আমার তো দুইটি হাত আছে,একটি গেলে সমস্যা কি? উত্তর ‘না’। শারীরিক সুস্থতা আর ধনী হওয়া দুটো এক জিনিস নয়।আপনি যখন একটু সচ্ছলতার জন্য উদয়স্ত পরিশ্রম করেন তখন এই কথাগুলো নিয়ে চিন্তা করুন। আপনার দুটো হাত আছে। আপনি শারীরিক ভাবে সুস্থ।
আমি সফল হবো-এই বিশ্বাস সবসময়ই থাকতে হবে। আর সেই সাথে সাফল্যের জন্য গঠমুনমুলক পরিকল্পনার সাথে অসীম ধৈর্য্য দরকার। জীবনের সমস্ত প্রতিকুলতার জন্য মানুসিক প্রস্তুতি থাকতে হবে। আপনাকে ধৈর্য্য ধরতে হবে। যারা সার্কস দেখিয়ে আপনাকে মুগ্ধ করে; তারা কিন্তু সার্কাসের সব কলা কৌশল একদিনে শেখেনি। দিনের পর দিন প্রশিক্ষণ নিয়ে সাধনা করে সার্কাসের কলা কৌশলগুলো তারা শিখেছে। জীবনের যেকোন সাফল্যের পিছনেও সার্কাসের কৌশল শিখার মতো ধৈর্য দরকার হয়। যদি অল্পতেই সাহস হারিযে হাল ছেড়ে দেন, তবে সাফল্য আর আপনার কপালে জুটবে না।