শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

ধনী হওয়ার কিছু শর্ত

প্রয়োজনিয় সঞ্চয় না থাকা: যারা সঞ্চয় করতে জানেন না বা সঞ্চয় করার ইচ্ছা বা অভ্যাস নেই তারা কখনই ধনী হতে পারবেন না। মনে রাখতে হবে ছোট ছোট মুহূর্তের যোগেই তৈরি হয় মিনিট, ঘন্টা, দিন, মাস, বছর, যুগ এবং মহাকলের। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গিয়েছে, খুবই কম স্যখ্যক মানুষ পরে মাস শেষে একটি ক্ষুদ্র সঞ্চয় করতে।  আপনি যদি ভবিষ্যতে নিজেকে একজন সচ্ছল ব্যক্তি হিসেবে দেখতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই সঞ্চয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। সঞ্চয় তো করবেন, কিন্তু কেন সঞ্চয় করবেন? যদি এই প্রশ্ন করা হয়-তার উত্তর কি দেবেন।তার উত্তর হলো: আপনি নিজে বা আপনার পরিবারের যে কেউ যে কোন সময়ে অসুস্থ হতে পারে।এই কথা মনে রেখে আজই এই মুহূর্ত থেকে আপনার সঞ্চয়ের একটি ফান্ড তৈরি করতে হবে। যখন আপনার সঞ্চয় বড় একটা অঙ্কে পৌছাবে তখন ওটা রেখে দিন সেফ কাষ্টডিতে। স্মরণ রাখতে হবে টাকার গরম খুব কম লোকই সহ্য করে তা জমিয়ে রাখতে পারে।
অতিরিক্ত ঋণ: অতিরিক্ত ঋণের বোঝা আপনার ধনী হওয়ার পিছনে একটি বড় বাধা। কিছু কিছু ঋণ অর্থনৈতিক সাফল্যের পিছনে ভূমিকা রাখে, যেমন আপনি কোন রিয়েল এস্টেট অথবা নতুন কোন ব্যবসায় বিনিয়োগ করলেন –এটা আপনার জন্য লাভজনক হতেও পারে। কিন্তু আপনি চড়া সুদে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে আপনার পছন্দসই জিনিস কিনলেন আর অপরদিকে ব্যাংকে আপনার খাতায় লাল ফিগার বাড়তে লাগলো – এটা আপনার ধনী হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়।
পরিকল্পনা শূন্য জীবন: কোন ধরণের সুনিশ্চিত পরিকল্পনা ছাড়া ধনী হওয়ার চিন্তা করা আর বামুন হয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখা অনেকটা একইরকম। কথায় আছে, যারা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ তারা মূলত পরিকল্পনা করতেও ব্যর্থ। কিভাবে খরচ করবেন বা সঞ্চয় করবেন পরিকল্পনা করুন। হয়তো প্রথমেই পেরে উঠবেন না। অভ্যস্ত হতে নিজেকে খানিকটা সময় দিন।
জরুরি ফান্ড না থাকা: বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনাগত বিপদের কথা ভেবে অবশ্যই আপনার উচিত অন্তত ৬ মাসের রোজগার জমিয়ে রাখা। আমাদের জীবনটা একটা অনিশ্চয়তার খেলা। আপনার কাছে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই যে, আপনার হাশিখুশি মুহূর্তগুলো কখন যে শোকে পরিণত হবে তা আপনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন।
সঞ্চয়ি না হওয়ার যুক্তি: মাসে অল্প কয়েকটা টাকা কামাই, খরচের বহর দিন দিন বাড়ছে, আমার জীবনে আর কি হবে, দেনা পরিশোধ করা এ জীবনে আর সম্ভব না – সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত আমরা এই অভিযোগগুলো করি। এটা ঠিক যে, পুরানো অভ্যাস দূর করা অনেক কঠিন। তবে কোন কিছুই পরিবর্তন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিজে না পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন। অনুযোগ আর কারণ দর্শানো এই বেলা বাদ দিন। এর পরিবর্তে বাজে অভ্যাসগুলোর জন্য নিজেকেই দায়ি করুন এবং কিভাবে নিজেকে পরিবর্তন করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করুন। লেগে থাকলে আপনি অবশ্যই পারবেন।
আগামিকালের চিন্তা পরে: উহু, এটা কোন মজার বিষয় নয়। আপনাকে অবশ্যই আপনার অবসরকালিন জীবনের কথা ভাবতে হবে। বাজারের লেটেষ্ট একটা ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী এসেছে তা কেনার জন্য আপনি যে ধার করেন, দয়া করে এই বদভ্যাসগুলো আপনার অবসর জীবনের দিকে তাকিয়ে এখনই বাদ দিন। হ্যাঁ, অবশ্যই আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস কিনবেন, কিন্তু টিনএজারদের মত এখনই ‘কিনে ফেলব’এই ফালতু আবেগে জড়াবেন না-নিজের মানসিকতাকে। একটু সঞ্চয় করুন।আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, আপনিই হচ্ছেন আগামি দিনের ধনী!
তেল পানি এক পত্রে নয়: আপনার সমস্ত উপার্জন এক খাতে বিনিয়োগ করে হয়তো বা আপনি লাভবান হলেও হতে পারেন। যেমন আপনি আপনার সমস্ত সঞ্চয় শেয়ারের পিছনে বিনিয়োগ করলেন, কে জানে হয়তো বা ভাগ্য খুলেও যেতে পারে। কিন্তু জেনে রাখুন এটা কখনোই ধনী হওয়ার রাস্তা হতে পারে না। আপনার সমস্ত উপার্জন এক জায়গায় বিনিয়োগ করা আপনাকে মাত্রাতিরিক্ত ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। আপনি অল্প অল্প করে বিভিন্ন খাতে আপনার সারা জীবনের উপার্জন বিনিয়োগ করুন। খারাপ কিছু হলে অন্তত ভেসে থাকার জন্য খড়কুটো পাবেন!
এক মুহূর্ত অপচয় নয়: সময় এগিয়েই যাবে। কিন্তু আপনি বসে থাকবেন কী না সেটাই দেখার বিষয়। আপনার উপার্যন কম হলেও আজ থেকেই অল্প অল্প করে জমানো শুরু করুন। ঋণ থাকলে আজ থেকেই শোধ করার জন্য জমাতে থাকুন। যা করবেন, আজ এখন থেকেই করুন। মানুষ যদি ইচ্ছে করে তবে সে অনেক কিছুই করতে পারে। ডিসকভারি চ্যানেল দেখুন, মানুষ চেষ্টা ধৈর্য্য আর অধ্যাবসায় দিয়ে কি অসাধ্য সাধন করছে। তা হলে আপনিও পারবেন এই বিশ্বাসটা মনের মধ্যে স্থির করুন-দেখবেন যেকোন ব্যাপারে সফল হবেন।
এখনই শুরু হোক: আপনিও হয়তো বা সাধারণ আর দশটা মানুষের মত। যারা বিশ্বাস করে, কেউ অথবা কোন কিছু আপনাকে আসন্ন বিপদ থেকে উদ্ধার করবে। এটা ঠিক, যে কোন সময় আপনার ভাগ্য খুলে যেতে পারে, হঠাৎ করে কর্পোরেট হাউজে একটা জব পেয়ে গেলেন, শেয়ারে চড়া লাভ হলো কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ অথবা লটারিতে জিতে গেলেন লক্ষ লক্ষ টাকা – যাই হোক যে কোন সময় আপনার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যেতে পারে, কিন্তু একটা কথা জেনে রাখুন আপনি যদি সত্যি নিজেকে একজন সচ্ছল মানুষ হিসেবে দেখতে চান, আপনাকে হঠাৎ করে সম্পদ লাভের স্বপ্ন ঝেড়ে ফেলতে হবে। যা করতে হবে আজ থেকেই করতে হবে, এখন থেকেই করতে হবে।
এটা ঠিক আমাদের জীবন খুবই অনিশ্চিত। কেউ জানে না কী হবে, আর কী হবে না। সবার জীবনেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে, তাহলে আজকের দিনের আপনি কেন ‘আপনার জীবনে কী উন্নতি সাধন করতে পারবেন’ সে ব্যাপারে নজর দিচ্ছেন না? একটা ব্যাপার আপনার জেনে ভালো লাগবে যে, আপনি কিন্তু এখনই ধনী।এই কথাটা নিয়ে একটু চিন্তা করুন।আপনাকে কেউ যদি বলে আপনার একটা হাতের বিনিময়ে আপনাকে ১০ লাখ টাকা দিবে, আপনি কি আপনার হাত দিয়ে দিবেন? আপনার মাথায় কি এই চিন্তা আসবে যে, আমার তো দুইটি হাত আছে,একটি গেলে সমস্যা কি? উত্তর ‘না’। শারীরিক সুস্থতা আর ধনী হওয়া দুটো এক জিনিস নয়।আপনি যখন একটু সচ্ছলতার জন্য উদয়স্ত পরিশ্রম করেন তখন এই কথাগুলো নিয়ে চিন্তা করুন। আপনার দুটো হাত আছে। আপনি শারীরিক ভাবে সুস্থ।
আমি সফল হবো-এই বিশ্বাস সবসময়ই থাকতে হবে। আর সেই সাথে সাফল্যের জন্য গঠমুনমুলক পরিকল্পনার সাথে অসীম ধৈর্য্য দরকার। জীবনের সমস্ত প্রতিকুলতার জন্য মানুসিক প্রস্তুতি থাকতে হবে। আপনাকে ধৈর্য্য ধরতে হবে। যারা সার্কস দেখিয়ে আপনাকে মুগ্ধ করে; তারা কিন্তু সার্কাসের সব কলা কৌশল একদিনে শেখেনি। দিনের পর  দিন প্রশিক্ষণ নিয়ে সাধনা করে সার্কাসের কলা কৌশলগুলো তারা শিখেছে। জীবনের যেকোন সাফল্যের পিছনেও সার্কাসের কৌশল শিখার মতো ধৈর্য দরকার হয়। যদি অল্পতেই সাহস হারিযে হাল ছেড়ে দেন, তবে সাফল্য আর আপনার কপালে জুটবে না।

কর্মক্ষেত্রে নিজেই নিজের সহযোগী বন্ধু হোনঃ

১. জানুন নিজের কর্ম গুণগুলোর শক্তিশালী ও দুর্বল দিকঃ

আমরা কাজের সময় এমন অনেক আচরণ করি যা কাজটাকে আরও জটিল করে ফেলে। অনেকসময় অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ থাকলে কাজ ঠিক করতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও এলোমেলো করে ফেলি। সুতরাং খুঁজে দেখুন কাজ করতে গিয়ে নিজের দুর্বল দিক কোনগুলো আর সবল দিক কোনগুলো।
শক্তিশালী দিকগুলোর যত্ন নিন যেন আরও শক্তি বৃদ্ধি পায় আর দুর্বল দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকুন। যেমনঃ হয়ত এখন একটা বোর্ড মিটিং হবে আর এর এজেন্ডা আপনাকে তৈরি করতে হবে। অল্প সময়ে তৈরি করার জন্য আপনার উপর একটা চাপ থাকবে। ভেবে নিন এরকম কাজ এর সময় আপনার সবল এবং দুর্বল দিকগুলো কি কি। উদাহরণস্বরূপ সবল দিক হয়ত দ্রুত তথ্য কালেকশন করতে পারেন। আর দুর্বল দিক হয়ত নতুন চাপানো কাজের স্ট্রেসটা ম্যানেজ করতে জানেন না। সুতরাং যা জানি তাতে মনোযোগ দিব আর যা জানি না তা শিখে নিব।

২. কাজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তো আছে এবার নিজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়ানঃ

আসলে নিজেকে আগে শ্রদ্ধা করতে পারলেই কাজেও শ্রদ্ধাবোধ থাকবে। অনেকসময় এমন হয় যে আমরা এমন কোথাও কাজ করি যেখানে বিভিন্ন অসুবিধা চলছে। হয়ত বোনাস ঠিক মত হচ্ছে না কিংবা ইনক্রিমেন্ট নাই ইত্যাদি। তখন স্বাভাবিকভাবেই হীনমন্যতা বাড়তে পারে। আমরা তখন মনে করি যে আমার নিজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তো আছে কিন্তু কর্মক্ষেত্র থেকে আমাকে মূল্যায়ন না করার কারণে আমার ইনক্রিমেন্ট হচ্ছে না।
বিষয়টি ভিন্নভাবেও দেখা যেতে পারে যে আমি হয়ত আমাকে মূল্যায়ন করছি না বলেই ইনক্রিমেন্ট বা বোনাস পাওয়ার ক্ষেত্রটি তৈরি করতে অসমর্থ হচ্ছি। যেটিই হোক না কেন এবার নিজের প্রতি সম্মান বাড়াবো যার ফলশ্রুতিতে আমার প্রয়োজনটাও মুখ ফুটে অন্যকে যথেষ্ট সম্মান রেখে বলতে পারব। শ্রদ্ধাবোধ বাড়ানোর অর্থ দাম্ভিক হয়ে যাওয়া নয়। শ্রদ্ধাবোধ বাড়ানো অর্থ আমি যে কাজটি করছি বা যেভাবে করছি এর সঠিক মূল্যায়ন করা ( যা নিজেকেই করতে হবে আগে)।

৩. অনেক তো হল বস কে খুশী করা এবার নিজেও খুশী হোনঃ

কর্মক্ষেত্রে আমরা ব্যস্ত থাকি আমাদের সিনিয়রদের খুশী করতে। তারা খুশী হলেও মাঝে মাঝে এমন হয় যে আপনি খুশী হতে পারেন না। বিষয়টা একটু ঘুরে গেলে কেমন হবে? অর্থাৎ এবার কাজটি করার মাধ্যমে আমি আমাকেই খুশী করব। এতে সিনিয়র তো খুশী হবেনই একই সাথে আমি নিজেও খুশী হব।
যদি এমন কোন দায়িত্ব এসে পরে যেটিতে আপনি মোটেও খুশী নন, কিন্তু করতেই হবে তাহলে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন মন খারাপ করার ফলে আপনার ইতিবাচক কোন অর্জন থাকছে কিনা। আর যদি আরোপিত অপছন্দের কাজটি না করার কোন সুযোগ থাকে তাহলে অবশ্যই সচেতনভাবে নিজের অবস্থান আমরা জানাতেই পারি। তাই যেটি করতেই হবে সেটিতে নিজেকে কিছুটা সময় দিন এবং নিজের মন খারাপ হওয়ার কারণ জেনে নিন।
অনেকসময়ই আমরা অতিরিক্ত দায়িত্ব কাঁধে পড়লে কিংবা আরেকজনের করার কথা ছিল সেটি যখন করতে হয় ভীষণ মন খারাপ করি। । কিছু ক্ষেত্রে আমরা সহযোগী মনোভাব রাখতেই পারি আর একই সাথে নিজেকে খুশী তো আমরা করতেই পারি।

নামাজ সাফল্য অর্জনের উপায়

নামাজ মুমিনের মিরাজ তথা আল্লাহ তাআলার দিদার লাভ। শুধু তাই নয়, জীবন সংগ্রামে সাফল্যের জন্য এর গুরুত্ব অত্যাধিক। কেননা  নামাজের মাধ্যমেই বান্দা তাঁর প্রভুর একান্ত সান্নিধ্য লাভ করে। তাই জীবন সংগ্রামে সাফল্য লাভ করতে হলে নামাজের গুরুত্ব উপলব্দি করতে হবে।

আল্লাহ বলেন-
‘তোমরা নামাজের মাধ্যমে আমার কাছে সাহায্য চাও।’ অন্যত্র এসেছে, ‘নিশ্চয় নামাজ অন্যায় অসুন্দর কাজ থেকে বিরত রাখে।’ ` কুরআনের এ বক্তব্য প্রথমত মানুষের দুনিয়ার জীবন সংগ্রামের সাফল্য লাভের জন্যই নাজিল হয়েছে। যে দুনিয়ার জীবনে সফল, সে আখিরাতে বিশাল জিন্দেগিতেও হবে সফল।

তাই মানুষ দুনিয়ার জীবনে সাফল্য লাভ করতে হলে, নামাজের মাধ্যমেই তার সান্নিধ্যে আসা সম্ভব। তাঁর সান্নিধ্যে উপস্থিতি, তার স্মরণে বিভোর ও তন্ময় থাকা, তাঁর প্রতিটি হুকুম পালনে শপথ গ্রহণ করা, তাঁর প্রতি বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ করা, তার রহমত লাভে ধন্য হওয়া, অন্তরে প্রশান্তি লাভ করা, সকল প্রকার অশান্তি, অন্যায়-অনাচার থেকে আত্মরাক্ষা করতে সাহায্য লাভ করার একমাত্র উপায় হচ্ছে নামাজ। যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবনে নামাজের মাধ্যমে উক্ত বিষয়গুলো অর্জন করতে সামথ্য হবে; তার জন্য দুনিয়ার জীবন হবে সুন্দর, সাফল্যমণ্ডিত ও সার্থক।

সুতরাং আল্লাহ তাআলার নির্দেশ পালনার্থে নামাজ পড়ে দুনিয়ার জীবনে শান্তি ও আখিরাতে সাফল্য লাভ করাই হবে প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব ও কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে নামাজের মাধ্যমে জীবন সংগ্রামে সাফল্য লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমাদেরকে নামাজি ব্যক্তি হিসেবে

সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

রাষ্ট্রীয় শিরক!!

রাষ্ট্রীয় শিরক!! শহীদ মিনার, স্মৃতি সৌধ, সমাধি সৌধ ইত্যাদিতে বিনম্র হয়ে পুস্প মাল্য অর্পণ !!! কবর বা মূর্তি পূজারই অনুরূপ।
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এর যিনি সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিক দাতা ও জ্ঞানদাতা| শান্তি বর্ষিত হোক সর্ব শেষ রাসুল, সর্ব শ্রেষ্ঠ রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি ও তার পরিবার পরিজনের উপর|
(সম্পূর্ণ না পড়ে শুধু আংশিক পড়েই কেউ মন্তব্য দানে বিরত থাকার অনুরোধ করছি। পড়লে সম্পূর্ণ পড়তে হবে নতুবা পড়বেনই না। )
মহান আল্লাহ বলেন,
”যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে ম
ুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।” সুরা নিসা ৮০ |
মহান আল্লাহ রাসুল (সাঃ) এর অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে আরো বলেন,
”আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই; যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়। সুরা আল আহযাব ৩৬
সহিহ হাদিস থেকে আমরা জানার চেষ্টা করব রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কি আদেশ করে গিয়েছেন ,
”বাড়াবাড়ি করা থেকে বিরত থাক। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করার ফলে ধ্বংস ও বিনাশ হয়ে গিয়েছে’ [আহমাদ, তিরমীজি, ইবনে মাজাহ]
”আমার ব্যাপারে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না, যে ভাবে নাসারাগণ মরিয়ম পুত্র ঈসার ব্যাপারে করেছিলো। কেননা আমি শুধু একজন বান্দা। অতএব, আমাকে আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল হিসাবে অভিহিত করো।[বুখারী] ”
‘তোমরা নিজেদের ঘরকে কবর বানিয়ো না। (অর্থাৎ কবরের মতো ইবাদত-বন্দেগী শূন্য করো না) এবং আমার কবরকে উৎসবের স্থান বানিয়ো না। বরং আমার প্রতি দরূদ পড়। কেননা তোমরা যেখানেই থাক না কেন তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌঁছবে।’-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২০৪০
”কবরের উপর (আসন গেঁড়ে বা ইমারত বানিয়ে) বসো না এবং তার দিকে (কবরের দিকে) সালাত আদায় করো না।” [মুসলিম: ১৬১৩, আবূ দাউদ: ২৮১০, তিরমিযী: ৯৭১, আহমাদ: ১৬৫৮৪]
আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মৃতু্য কালীন রোগ শয্যায় চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে নিতেন৷ যখন এতে কষ্ট লাগতো তখন মুখ থেকে চাদর সরিয়ে নিতেন৷ এমতাবস্থায় তিনি বলেছিলেন ”ইয়াহুদী ও নাসারাদের উপর আল্লাহর লা’নত বর্ষিত হোক৷ কারণ তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদ তথা সিজদার স্থান বানিয়ে নিয়েছে৷ ” তাদের এসব কাজ- কর্ম থেকে তিনি স্বীয় উম্মাতকে সতর্ক করে দিয়েছেন৷ লোকেরা তাঁর কবরকে সিজদাগাহ বানাবে এ আশংকা যদি না থাকতো তাহলে তাঁর কবর উন্মুক্ত করে দেয়া হতো৷ ( বুখারী ও মুসলিম)
আবুল হাইয়াজ আল আসাদী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: আলী বিন আবু তালিব রাদি আল্লাহু আনহু আমাকে বলেন যে, আমি কি তোমাকে সেই দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করব না, যে দায়িত্ব দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে প্রেরণ করেছিলেন? তা হলো যেখানেই প্রতিমা ও ভাস্কার্য দেখবে ভেঙ্গে ফেলবে এবং যেখানেই সুউচ্চ কবর দেখবে সমান করে দেবে’
অনুরূপ ভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরে চুনকাম করা ও সৌধ তৈরী করা থেকে নিষেধ করেছেন। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরের উপর বসা ও সৌধ তৈরী করা থেকে নিষেধ করেছেন। [মুসলিম]
পৃথিবীতে প্রথম শিরক এর ঘটনা :
দুনিয়াতে প্রথম শিরক সংঘটিত হয়েছিল নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের মধ্যে। আর তা হয়েছিল সৎ ও বুযর্গ লোকদের মাধ্যমে। আল্লাহ বলেন,
(খবরদার!) ‘তোমরা তোমাদের পূর্ব পুরুষদের পূজিত উপাস্য ওয়াদ, সুওয়া‘, ইয়াগূছ, ইয়াঊক্ব, নাস্র-কে কখনোই পরিত্যাগ করবে না’। (এভাবে) ‘তারা বহু লোককে পথভ্রষ্ট করে এবং (তাদের ধনবল ও জনবল দিয়ে) নূহ-এর বিরুদ্ধে ভয়ানক সব চক্রান্ত শুরু করে’ (নূহ ৭১/২১-২৩) ।
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মহানবী (ছাঃ) বলেছেন, এ আয়াতে যে ক’টি নাম এসেছে এগুলো নূহ (আঃ) এর কওমের বুযর্গ লোকদের নাম। তাদের মৃত্যুর পর শয়তান ঐ সম্প্রদায়ের লোকদের প্ররোচিত করল, তারা যেন ঐসব বুযর্গগণ যেসব আসরে বসতেন সেখানে তাদের প্রতিমা বানিয়ে রাখে এবং তাদে নামে এগুলোর নামকরণ করে। তারা তাই করল। তবে এগুলোর উপাসনা হত না। এসব লোক মৃত্যুবরণ করার পর ক্রমান্বয়ে তাওহীদের জ্ঞান বিস্মৃত হল, তখন এগুলোর উপাসনা ও পূজা হতে লাগল (বুখারী, হা/৪৯২০)।
[[ আজকাল ঠিক একইভাবে শহীদ মিনার, স্মৃতি সৌধে আমরা ঠিক একই কাজ করছি। আমরা মৃতদের স্মরণে খাম্বা বানিয়েছি প্রাচীর তুলেছি …. তারপরেও শিক্ষিত লোকেরা প্রশ্ন খুঁজে ফিরে কি করে এই শহীদ মিনার, স্মৃতি সৌধ শিরক হতে পারে? অথচ তারাই নিশ্চিত কবর কেন্দ্রিক উত্সবগুলো শিরক। পার্থক্য কোথায়?]]
আদম (আঃ)-এর সময়ে ঈমানের সাথে শিরক ও কুফরের মুকাবিলা ছিল না। তখন সবাই তওহীদের অনুসারী একই উম্মতভুক্ত ছিল (বাক্বারাহ ২/২১৩) । তাঁর শরী‘আতের অধিকাংশ বিধানই ছিল পৃথিবী আবাদকরণ ও মানবীয় প্রয়োজনাদির সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু কালের বিবর্তনে মানুষের মধ্য শিরকের অনুপ্রবেশ ঘটে।
নূহের কওম ওয়াদ, সুওয়া‘, ইয়াগূছ, ইয়াঊক্ব ও নাস্র প্রমুখ মৃত নেককার লোকদের অসীলায় আখেরাতে মুক্তি পাবার আশায় তাদের পূজা শুরু করে। এই পূজা তাদের কবরেও হ’তে পারে, কিংবা তাদের মূর্তি বানিয়েও হ’তে পারে। মুহাম্মাদ ইবনু ক্বায়েস বলেন, আদমও নূহ (আঃ)-এর মধ্যবর্তী সময়কালের এই পাঁচজন ব্যক্তি নেককার ও সৎকর্মশীল বান্দা হিসাবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাঁদের মৃত্যুর পর ভক্ত অনুসারীগণকে শয়তান এই বলে প্ররোচনা দেয় যে, এইসব নেককার মানুষের মূর্তি সামনে থাকলে তাদের দেখে আল্লাহর প্রতি ইবাদতে অধিক আগ্রহ সৃষ্টি হবে। ফলে তারা তাদের মূর্তি বানায়।
অতঃপর উক্ত লোকদের মৃত্যুর পরে তাদের পরবর্তীগণ শয়তানের ধোঁকায় পড়ে ঐ মূর্তিগুলিকেই সরাসরি উপাস্য হিসাবে পূজা শুরু করে দেয়। তারা এইসব মূর্তির অসীলায় বৃষ্টি প্রার্থনা করত’। আর এভাবেই পৃথিবীতে প্রথম মূর্তিপূজার শিরকের সূচনা হয়।
[[ আজকাল ঠিক একইভাবে শহীদ মিনার, স্মৃতি সৌধে আমরা ঠিক একই কাজ করছি। আমরা মৃতদের স্মরণে খাম্বা বানিয়েছি প্রাচীর তুলেছি …. তারপরেও শিক্ষিত লোকেরা প্রশ্ন খুঁজে ফিরে কি করে এই শহীদ মিনার, স্মৃতি সৌধ শিরক হতে পারে? অথচ তারাই নিশ্চিত কবর কেন্দ্রিক উত্সবগুলো শিরক। পার্থক্য কোথায়?]]
ইমাম বুখারী (রহঃ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস(রাঃ) হ’তে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন যে, এই লোকগুলি হযরত নূহ (আঃ)-এর যুগের নেককার ব্যক্তি ছিলেন। তাদের মৃত্যুর পর শয়তান তাদের অনুসারীদের এই মর্মে ধোঁকা দিল যে, এঁদের বসার স্থানগুলিতে এক একটি মূর্তি বানাও ও তাদের নামে নামকরণ কর। লোকেরা তাই করল। …
[[ ঠিক একইভাবে ৫২ তে ভাষা আন্দোলন হয়েছিল অথচ আজ থেকে ৩০ বছর আগেও শহীদ মিনার নিয়ে এত বারবারই আর হয়নি। বাংলাদেশের আদালত সহিদ মিনারকে উপাসনালয়ের মতই পবিত্র ঘোষণা করেছে । যার প্রেখিয়ে মাঝে মধ্যেই সংবাদপত্রে লিখে থাকে- ”পবিত্র বেদিতে জুতা নিয়ে চলাচল- দেখার কেউ নেই”; নাউজুবিল্লাহ। তারপরেও মানুষ অবাক হয়ে প্রশ্ন করে এখানে শিরক হলো কোথায়? নুহ (আঃ) সম্প্রদায়ের মতই কিছুকাল পরে না জানি আরো কতকিছু ঘোষিত হয়| কোনো এক বিশিষ্ট ব্যক্তির জানাজা হয়েছিল শহীদ মিনারে হয় আল্লাহ! সেকুলার আর নাস্তিকদের সে যে কি সমালোচনা – শহীদ মিনারের পবিত্রতা নাকি নষ্ট হয়েছিল!! তার পরেও মেডিকেলে পড়া শিক্ষিত যুবকের ব্যাঙ্গাত্মক প্রশ্ন- ”ওই মিয়া এখানে শিরকের কি পাইছেন আমরা কি ইবাদত করতে যা-ই নাকি”। স্মৃতি সৌধ আর সমাধি সৌধ পার্থক্য শুধু একজায়গায় কবর আছে আরেক জায়গায় নাই। যেখানে কবরেই এত আয়োজন নিষেধ সেখানে স্মৃতি সৌধ বানিয়ে ফুল দেওয়া তো পুজারী অনুরোপ করা তা ইচ্ছা করে করা হোক আর অনিচ্ছা করে করা হোক !!]]]
এই মূর্তিগুলি পরবর্তীকালে আরবদের মধ্যেও চালু ছিল। ‘ওয়াদ’ ছিল বনু কালবের জন্য দূমাতুল জান্দালে, সুওয়া‘ ছিল বনু হোযায়েলের জন্য, ইয়াগূছ ছিল বনু গুত্বায়েফ-এর জন্য জুরুফ নামক স্থানে, ইয়া‘ঊক্ব ছিল বনু হামদানের জন্য এবং নাস্র ছিল হিমইয়ার গোত্রের বনু যি-কালা এর জন্য’।
( কৃতজ্ঞতা বইঃ নবীদের কাহিনী – প্রফেসর আসাদুল্লাহ আল গালিব)
———————————————-
তারপরেও দুনিয়ার জ্ঞানে অন্ধ অনেকেই যুক্তি তর্ক দ্বারা এই নিব্জ পূজার ব্যবস্থাকে জায়েজ বানানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকবেই । কারণ এগুলোই শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য লিপ্ত হয়ে আছে। হতে পারে এদের মধ্যে দুষ্টু জ্বিন সম্প্রদায়ও থাকতে পারে। কেননা শয়তান তো জ্বিনদের মধ্যে থেকেই ।
———————————————–
কিয়াস হচ্ছে, কোনো বিষয় যদি সরাসরি কুরআন ও হাদিস থেকে পাওয়া না যায় তবে কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত তার সম পর্যায়ের কোনো বিষয় থেকে মতামত গ্রহণ করা।
কোনো কবরকে কেন্দ্র করে বা কোনো মৃত কে কেন্দ্র করে উত্সব করা যেখানে শিরক সেখানে ঠিক ”যুদ্ধে মৃত”দের স্মরণের নামে ভিন্ন জায়গায় ইত পাঠক সিমেন্ট দিয়ে খাম্বা তৈরী করে মৃতদের সম্মানের জন্য ফুল দেয়া তো ঠিক একই পর্যায়ের গুনাহ বরং আরো বেশি গুনাহ !
————————————————-
আবুল হাইয়াজ আল আসাদী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: আলী বিন আবু তালিব রাদি আল্লাহু আনহু আমাকে বলেন যে, আমি কি তোমাকে সেই দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করব না, যে দায়িত্ব দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে প্রেরণ করেছিলেন? তা হলো যেখানেই প্রতিমা ও ভাস্কার্য দেখবে ভেঙ্গে ফেলবে এবং যেখানেই সুউচ্চ কবর দেখবে সমান করে দেবে’
অনুরূপ ভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরে চুনকাম করা ও সৌধ তৈরী করা থেকে নিষেধ করেছেন। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরের উপর বসা ও সৌধ তৈরী করা থেকে নিষেধ করেছেন। [মুসলিম]
হে পাঠক! হে শিক্ষিত যুবক!
যেখানে কবরের উপরে সৌধ নির্মান নিষেধ করা হয়েছে সেখানে এখন যেখানে কবর নাই সেখানে সৌধ নির্মান করা জায়েজ হয়ে গেল?
কোথায় শহীদের কবর আর কোথায় সৌধ? যেখানে কবরেই ফুল দেওয়া নিষেধ সেখানে সৌধের মধ্যে ফুল দেয়া কিভাবে বৈধ হলো?
যেখানে কবরে ফুল দেওয়া সম্মান দেওয়া শিরক পর্যায়ের গুনাহ শেখে সৌধে ফুল দেওয়া তো আরো জঘন্য গুনাহ।
‘তোমরা নিজেদের ঘরকে কবর বানিয়ো না। (অর্থাৎ কবরের মতো ইবাদত-বন্দেগী শূন্য করো না) এবং আমার কবরকে উৎসবের স্থান বানিয়ো না। বরং আমার প্রতি দরূদ পড়। কেননা তোমরা যেখানেই থাক না কেন তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌঁছবে।’-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২০৪০
আর শিক্ষিত স্যারেরা সহ শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা খুবই যুক্তি তর্ক বলছে ”আমরা তো ইবাদতের উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার আর স্মৃতি সৌধে যা-ই না ”
অথচ তারা খাম্বা আর প্রাচীর তুলে দিয়ে সেখানে উত্সব করে চলেছে প্রতি বছর পরতি বিশেষ দিবসে। তারা সমবেত হচ্ছে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করছে রং করছে বিনম্র হয়ে ফুল দিচ্ছে। তারপরেও বলছে এখানে শিরক হলো কোথায়? তারা নাকি ইবাদতের উদ্দেশ্যে করছে না !!!
কত বড় জাহেল হলে মানুষ এ সকল কথা বলতে পারে তা বিবেচনা খুবই জরুরি।
————————————-
যুদ্ধে যারা মারা গিয়েছেন তাদের স্মরণে ঠিক নুহ (আঃ) এর সম্প্রদায়ের মতই আমরা আলাদা সুবিধামত স্থানে শহীদ মিনার ও সৃতি সৌধ এবং বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে উচু একটি খম্বা বানিয়ে নিলাম এবং তাদের স্মরণে ( মৃতদের) আমরা সেখানে উত্সবের সাথে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েই সমাবেশ করে গিয়ে ফুল দিচ্ছি।
বিবেক বুদ্ধি যার সামান্য আছে সেও তো বুঝার কথা এগুলো শিরকি কাজ।
——————————-
কোনো মূর্তির পায়ে ইবাদতের উদ্দেশ্যে হোক আর এমনি এমনি হোক ফুল দেয়া যদি ভয়াবহ বড় শিরক হয়ে তবে একটি খাড়া খাম্বা আর মূর্তির মধ্যে পার্থক্য কোথায়? একজায়গায় মানুষের আকৃতি দেয়া হয়েছে আরেক জায়গায় মানুষের আকৃতি ব্যতীত ভিন্ন আকৃতি দান করা হয়েছে! দুটি জড়ো বস্তু!!
————————–
অবশেষে শয়তান অজ্ঞদের সাথে সাথে শিক্ষিতদেরও এই ধারণা মস্তিস্কে দিতে সক্ষম হয়েছে ”তারা তো ইবাদতের উদ্দেশ্যে এই জড় বস্তুগুলোতে ফুল দেয় না” – তা-ই এটা শিরক নয়! তবে এটা পুন্যও নয়।
ঠিক ধীরে ধীরে আদালতের মতই পুন্যও বানিয়ে ফেলবে কিছুদিন পরে। এবং আল্লাহ না করুক যে অবস্থা চলছে একসময় হয়ত সরাসরি পূজা শুরু হবে।
ইতি মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সহ মন্ত্রীরা যে এত বিনম্র হয়ে মাথা ঝুকিয়ে ফুল দিচ্ছে এতটা বিনম্র তারা সালাতে কখনো হয়েছেন কিনা তা আল্লাহ ভালো জানেন।
———————————
বিজয় র্যালি , বিজয় মিছিল, বিজয় অনুষ্ঠান তো এই উত্সবকে কেন্দ্র করেই। এই উত্সবেরই অংশ এগুলো। কেউ খাম্বা পূজা পর্যন্ত যাচ্ছে আবার কেউ ইসলামের লেবাস লাগিয়ে আনন্দমিছিল পর্যন্ত থেমে থাকছে ভোটের জন্য। যারা বিজয় মিছিল করছে তাদের কাছে আহবান রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবুবকর (রাঃ), ওমর ( রাঃ) বহু যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন বিজয়ী হয়েছেন, মক্কা জয় করেছেন। খিলাফত কালে বহু দেশ জয় করেছেন তাদের কয়জন কবে কোনদিন কয়বার ”বিজয়” মিছিল করছে?
বিজয় মিছিল হারাম এর দলিল খুঁজে পান না ”হালালের” দলিল কি আমাদের দেখাতে পারবেন? এগুলো সব বিজাতীয়দের উত্সব।
ইসলাম মানে আত্মসমর্পণ করা। জাতীয় কালচার যা-ই থাকুক ইসলাম সমর্থন না করলে তা বর্জনীয় ! রাষ্ট্র খুশি হয়ে ৫ তারা হোটেলে রাখলেও মউত, কবর, হাশর ঠেকাতে পারবে না ! রাস্ত্র্সের ধর্ম নিরপেকখ আর নাস্তিকদের খুশি করা নয় আমাদের চেষ্টা তো হওয়া কর্তব্য আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা।
আল্লাহ আমাদের হেদায়েত দান করুন, আমাদের বুঝার তৌফিক দান করুন। বিতারিত শয়তানের জটিল শয়তানি জাল থেকে আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।
বিঃ দ্রঃ আমাদের যে কোনো ভুলভ্রান্তি চোখে পড়লে কমেন্ট এ জানানোর অনুরোধ রইলো। সংশোধন করা হবে ইনশা আল্লাহ। প্রয়োজনীয়তা অনুধাবনে লেখাটি শেয়ারের অনুরোধ রাখছি

অফিসের পোশাক নির্বাচনে কিছু টিপস

পারস্যের কবি শেখ সাদীর পোশাক নিয়ে গল্পটা মোটামুটি সবারই। রাজসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন সাদী। পথিমধ্যে এক ধনীর বাড়িতে আতিথ্য গ্রহণ করেন। কিন্তু সাদীর মলিন পোশাক দেখে গৃহকর্তা ভালো ব্যবহার করলেন না। এতে কবি মনে আঘাত পেলেও কিছু বললেন না। রাজসভায় যোগ দিয়ে রাজার কাছে একটি মূল্যবান পোশাক চেয়ে নিয়ে সেটি পরে আবার সেই ধনী গৃহকর্তার বাড়িতেই অতিথি হলেন। এবার তার শরীরে মূল্যবান পোষাক দেখে তাকে বাড়তি খাতির করলেন। কিন্তু সাদী সব খাবার পোশাকের ভেতরে ঢুকাতে শুরু করলেন। গৃহকর্তা অবাক হয়ে এর কারণ জিজ্ঞেস করতেই সাদী জানালেন, এই পোশাকের জন্যই এতো খাতির করা হচ্ছে তাই এই খাতিরের খাবার একমাত্র পোশাকটিই খেতে পারে।
০১)  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিটি কোম্পানির নিজস্ব রকটি ড্রেসকোড থাকে। কাজে ঢোকার পর সেই সম্পর্কে ভালো করে জেনে নেয়া উচিত। একেক ধরনের পেশার ক্ষেত্রে একেক রকম পোশাক গ্রহণযোগ্য হয়। আপনার পোশাকে আপনি পুরনো সময়কে যেমন বহন করবেন না, তেমনই এগিয়ে যাওয়ারও মানে হয় না। সময় মতো নিজেকে বদলান এবং তাল মিলিয়ে বদলান। কোন পেশায় আছেন বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় যাঁরা কাজ করেন তাঁদের পোশাক হতে পারে আর আইটি সেক্টরে কাজ করেন তাদের পোশাকে ভিন্নতা থাকবেই। তাই আপনার পেশায় তাঁরা কী ধরনের পোশাক পরছেন তা আপনার আগে থেকে যাঁরা আছেন তাদের দেখে  সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
২) অফিসের প্যান্ট সবসময় ফরমাল হওয়া উচিত। খুব বেশি ভিন্ন ধরনের কাট ছাঁটের ইনফরমাল প্যান্ট অফিসে না পরাই ভালো।
৩) অফিসে ফরমাল শার্ট পরাই ভালো। টি শার্ট পরে অফিসে আসতে চাইলে অবশ্যই কলার যুক্ত টি শার্ট পরা উচিত। গোল গলার টি শার্ট অফিসে খুবই বেমানান দেখায়।
৪) পুরুষদের ক্ষেত্রে পোশাকের রঙ নির্বাচন করুন হালকা-মার্জিত রঙ থেকে। খুব বেশি কড়া রঙ এর দৃষ্টিকটু পোশাক না পরাই ভালো।
৫) নারীরা অফিসে পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে শালীনতার বিষয়টি মাথায় রাখুন। যেই পোশাকই পরবেন সেটা যেন অফিসের সাথে মানানসই ও শালীন হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখুন।
৬) অতিরিক্ত কাজ করা জবরজং পোশাক অফিসে মানানসই না। তাই এ ধরণের পোশাক অফিসে এড়িয়ে চলবেন।
৭) নারীরা অফিসে হাতাকাটা পোশাক পরবেন না। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অফিসে হাতাকাটা পোশাক একেবারেই মানানসই না।
৮) নারীরা অফিসে পরার পোশাকের গলা বড় রাখবেন না। বড় গলার পোশাকের বদলে হাই নেক, কলারযুক্ত কিংবা ছোট গলার পোশাক পরুন।

৯) পুরুষরা অফিসে সু পরুন। অফিসে স্যান্ডেল পরে আসা খুবই বেমানান দেখায়। হাঁটার সময় খুব বেশি শব্দ হয় এমন জুতা (যেমন হাই-হিল বা পেন্সিল-হিল জাতীয় জুতা) না পরাই ভালো।
১০) অফিসে কড়া গন্ধের সুগন্ধি ব্যবহার করা উচিত না। হালকা ঘ্রাণের রুচিশীল সুগন্ধি ব্যবহার করুন।
১১) এমন পোশাক পরবেন না, যা আপনার সিনিয়র বা বসের পোশাকের থেকে জৌলুসে সব সময় কয়েক মাত্রা এগিয়ে থাকে। এক-দু’বার এ ধরনের পোশাক পরতেই পারেন। কিন্ত্ত সেটাই যেন নিয়ম না হয়ে যায়।
১২) নারীরা অফিসে এমন কোনো অলংকার পরবেন না যেগুলোতে শব্দের সৃষ্টি হয়। অলংকারের টুংটাং শব্দ অন্যদের কাজের মনোযোগ নষ্ট করতে পারে।
১৩) ক্যাজুয়াল ফ্রাইডে-তে খুব ক্যাজুয়াল পোশাক পরবেন কি না, ক্লায়েন্ট মিটিং-এ কী ধরনের পোশাক পরে যাবেন সিদ্ধান্ত নিতে আপনার সিনিয়র থেকে পরামর্শ নিতে পারেন।
১৪) ঈদ, পূজা, ক্রিস্টমাস এর মতো উৎসবের আমেজের পোশাক বেশিদিন পরে যাবেন না।  তা আপনার সম্পর্কে অতিরিক্ত আমুদে এবং কর্মবিমুখ ইমেজ তৈরি করতে পারে।

শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

আমি কিছু জিনিস মেনে চলার চেষ্টা করি। সেগুলির মধ্যে এই লেখাটি লেখার সময় মাথায় এসেছে, এমন কিছু কিছু শেয়ার করছি :


এক। প্রতিদিন ঘুমান গড়ে সর্বোচ্চ ৬ ঘণ্টা। বেশি সময় নয়, ভালভাবে ঘুমানোই বড় কথা। ঘুমানোর সময় অবশ্যই মোবাইল সাইলেন্ট করে আর ল্যাপটপ দূরে রেখে ঘুমাবেন।
দুই। মোবাইলের ড্রাফ্‌টসে কিংবা একটা নোটবুকে আপনার মাথায় বিভিন্ন মুহূর্তে যে ভাল ভাল কথা কিংবা চিন্তাভাবনা আসে, সেগুলি লিখে রাখবেন। সাধারণত খুব সুন্দর চিন্তাগুলি দুইবার আসে না।
তিন। প্রতিদিন ৩০ মিনিট নিয়ম করে কোন একটা মোটিভেশনাল বই পড়ুন কিংবা লেকচার শুনুন। এ সময় নিজের ইগোকে দূরে রাখবেন।
চার। কোন সময় মন যদি খুব অশান্ত হয়ে যায়, এবং কিছুতেই সেটাকে শান্ত করা না যায়, তবে ১০ মিনিট হাঁটুন আর হাঁটার সময় নিজের পদক্ষেপ গুনুন। আরেকটা কাজ করতে পারেন। সেটি হল, মাথা থেকে সমস্ত চিন্তা বের করে দিয়ে মাথাটাকে সম্পূর্ণ ফাঁকা করে দিয়ে চুপ করে ১০ মিনিট আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা। বিবেকানন্দের পত্রাবলী কিংবা রবীন্দ্রনাথের ছিন্নপত্র পড়তে পারেন, রবীন্দ্রসংগীত শুনতে পারেন। মন শান্ত হয়ে যাবে।
পাঁচ। প্রতিদিন সকালে উঠে সেদিন কী কী কাজ করবেন, সেটি একটা কাগজে ১০ মিনিটে লিখে ফেলুন। কাগজটি সাথে রাখুন। আগের দিনের চাইতে অন্তত একটি হলেও বেশি কাজ করার কথা লিখবেন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মিলিয়ে নিন, সবগুলি করতে পেরেছেন কিনা।
ছয়। স্টুপিডদের সঙ্গ এড়িয়ে চলুন কিংবা আপনার আশেপাশের লোকজনকে ভাল কিছু করার উৎসাহ দিন। আপনার আশেপাশের বন্ধুদের কাজ করার ধরণ এবং সফল হওয়ার অভ্যেস আপনাকে প্রভাবিত করতে পারে। আপনার স্বামী যত স্টুপিড হবে, আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্টুপিড হওয়ার সম্ভাবনা তত বেড়ে যাবে। স্টুপিড স্ত্রী অপেক্ষা স্টুপিড স্বামী পরিবারের জন্য বেশি বিপদজনক। আমি ছোটবেলা থেকে বাবাকে দেখেছি, বাবা যতক্ষণই কাজে থাকতেন, ততক্ষণ খুশিমনে থাকতেন। তখন থেকে আমার মধ্যে এই ধারণা হয়ে যায়, কাজের মধ্যে থাকলে খুশি থাকা যায়। আপনার ফ্যামিলি থেকে যা শিখেছেন, সেটা থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়। তাই আপনি এমন কিছু আপনার ফ্যামিলিতে করবেন না, যেটা আপনার পরবর্তী প্রজন্মকে ওভাবে করেই ভাবতে শেখাবে।
সাত। যে কাজটা করা দরকার, সে কাজে জেদি হওয়ার চেষ্টা করুন। কাজটার শেষ দেখে তবেই ছাড়ুন।
আট। যিনি আপনাকে তার জীবনে অপরিহার্য মনে করেন না, তাকে আপনার জীবনে অপরিহার্য মনে করার বাজে অভ্যেস থেকে সরে আসুন। যে মানুষটা আপনাকে ছাড়াই সুস্থভাবে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন, তার জন্যে দম আটকে মরে যাওয়ার তো কোন মানে হয় না। আপনি যত বেশি তার জন্য ফিল করবেন, তিনি তত বেশি এক ধরণের অসুস্থ জয়ের আনন্দ উপভোগ করবেন। ভুল মানুষকে ভুলে থাকতে জানাটা মস্ত বড় একটা আর্ট। আপনি কত সময় ধরে তার সাথে ছিলেন, সেটা বড় কথা নয়; বরং সামনের সময়টাতে কত বেশি তাকে জীবন থেকে ডিলিট করে থাকতে পারবেন, সেটাই বড় কথা।
নয়। খুব দ্রুত পড়ার অভ্যাস করুন। পড়ার সময় কীভাবে অপ্রয়োজনীয় অংশগুলিতে চোখ বুলিয়ে যেতে হয়, সেটা শিখুন। প্রয়োজনীয় অংশগুলি দাগিয়ে দাগিয়ে বারবার পড়ুন এবং মাথায় সেগুলির একটা ফটোকপি রেখে দিন। এতে আপনার পড়ার কাজটা করার সময় কমে যাবে।
দশ। আপনার বর্তমান অবস্থার দিকে তাকান। দেখবেন, কিছু কিছু বিষয়ে স্রষ্টার অনুগ্রহে আপনি অনেক বিপদ কিংবা দুর্ভাগ্য থেকে বেঁচে গেছেন এবং ভাল আছেন। প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে শুকরিয়া আদায় না করে ঘুমাবেন না। কৃতজ্ঞতাবোধ সম্মান, মানসিক শক্তি এবং শান্তি এনে দেয়।
এগারো। দ্য সিক্রেট, আউটলায়ারস, দ্য সেভেন হ্যাবিটস অব হাইলি এফেক্টিভ পিপল, দ্য পাওয়ার অব নাউ, দ্য মঙ্ক হু সোল্ড হিজ ফেরারি, ইউ ক্যান উইন সহ বিভিন্ন মোটিভেশনাল বইপত্র পড়ুন। বিভিন্ন গ্রেটম্যানদের বায়োগ্রাফি বেশি বেশি পড়ুন। দ্য প্রফেট, গীতবিতান এবং বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ অনুভব করে পড়ুন। এসব বই পড়ার সময় অবশ্যই বিশ্বাস করে পড়তে হবে। যদি আপনি পৃথিবীতে সবকিছুই যুক্তি দিয়ে বিচার করেন, তবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটা আপনার জন্য কঠিন হতে পারে। তবে বইগুলিতে যা যা আছে, সেগুলির মধ্য থেকে আপনার দরকারি জিনিসগুলিকেই গ্রহণ করুন।
বার। মাসে অন্তত দুইদিন রোযা রাখুন। রোযা মানসিক শক্তি বাড়ায়, সহনশীল এবং বিনীত হতে শেখায়।
তের। ব্যাগে অন্তত একটি ভাল বই রাখুন আর সুযোগ পেলেই পড়ুন। মোবাইলেও পিডিএফ আকারে বই রাখতে পারেন।
চৌদ্দ। প্রতিদিন অন্তত একজন ব্যক্তিকে সাহায্য করুন কিংবা ক্ষমা করে দিন। এতে আপনার নিজের প্রতি সম্মানবোধ বাড়বে। নিজেকে সম্মান করুন সবচাইতে বেশি।
পনের। সপ্তাহে একদিন বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভোর হওয়া দেখুন। এটি আপনার ভাবনাকে সুন্দর করতে সাহায্য করবে।
ষোলো। একটা সহজ বুদ্ধি দিই : অন্য মানুষকে সম্মান করে না, এমন লোকের সঙ্গ এড়িয়ে চলুন। উদ্ধত লোকের কাছ থেকে তেমন কিছুই শেখার নেই।
সতেরো। নিজের চারিদিকে একটা দেয়াল তৈরি করে রাখুন। সে দেয়ালেঘেরা ঘরে আপনি নিজের মতো করে নিজের কাজগুলি করার জন্য প্রচুর সময় দিন। এতে আপনি অন্যদের চাইতে একই সময়ে বেশি কাজ করতে পারবেন। সবাইকেই সময় দিলে আপনি নিজের কাজগুলি ঠিকমতো করতে পারবেন না।
আঠারো। প্রতিদিন একটা ভাল বইয়ের অন্তত ৩০ পৃষ্ঠা না পড়ে ঘুমাতে যাবেন না। ফেসবুকিং করার সময় বাঁচিয়ে বই পড়ুন। বই পড়ে, এমন লোকের সাথে মিশুন। যে ছেলে কিংবা মেয়ে বই পড়ে না, তার সাথে প্রেম করার কিছু নেই। আর যদি ভালবেসেই ফেলেন, তবে তাকে বইপড়া শেখান।
উনিশ। আপনার চাইতে কম মেধা আর বুদ্ধিসম্পন্ন লোকজনের সাথে সময় কম কাটান। তবে কখনওই তাদেরকে আঘাত করে কোন কথা বলবেন না। একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির সাথে একবার কথা বলা ২০টা বই পড়ার সমান। ভুল লোকের সাথে সময় কাটানোর চাইতে একা একা থাকা ভাল।
বিশ। প্রতিদিন আপনি যতটুকু কাজ করতে পারেন, তার চাইতে কিছু বাড়তি কাজ করুন। বাড়তি কাজটি ঠিকভাবে করতে পারলে নিজেকে কিছু কিছু উপহার কিনে দিন, কিংবা করতে ভাল লাগে, এমন কোন কাজ করুন।
একুশ। সপ্তাহে একদিন ঘড়ি এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে একেবারে নিজের মতো করে সময় কাটান। সেদিন বাইরের পুরো দুনিয়া থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলুন এবং যা যা করতে ভাল লাগে কিন্তু ব্যস্ততার কারণে করা হয় না, সেসব কাজ করে ফেলুন।
বাইশ। মাথায় যদি কোন উল্টাপাল্টা কিংবা নেতিবাচক চিন্তা আসে, তবে সেটিকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করবেন না; বরং আপনি নিজে সেটি থেকে বেরিয়ে আসুন।
তেইশ। আপনার মোবাইল ফোনটা আপনার জন্য কেনা, অন্যের জন্য নয়। মাঝে মাঝে বেছে বেছে কল রিসিভ করুন। আমাদের বেশিরভাগ কলই গুরুত্বপূর্ণ হয় না, আর সময়ও নষ্ট করে। যে কলটি আপনার মন কিংবা মেজাজ খারাপ করে দেবে বলে আপনি আগে থেকেই জানেন কিংবা বুঝতে পারেন, অপরিহার্য না হলে সেটি রিসিভ করবেন না।
চব্বিশ। আপনি সম্মান করেন কিংবা পছন্দ করেন, এমন কোন ব্যক্তির ১০টি ভাল গুণ কাগজে লিখে ফেলুন। এরপর আপনি বিশ্বাস করুন যে, সে গুণগুলি আপনার মধ্যেও আছে এবং যতই কষ্ট হোক না কেন, সে গুণগুলির চর্চা করতে থাকুন। উনি যেরকম, সেরকম হওয়ার অভিনয় করুন। উনি যেভাবে করে কাজ করেন, একই স্টাইলে কাজ করুন। এ কাজটি ২ সপ্তাহ করে দেখুন, নিজের মধ্যে একটা পরিবর্তন দেখতে পাবেন।
পঁচিশ। মাঝে মাঝে সফট মেলোডির ওরিয়েন্টাল কিংবা ওয়েস্টার্ন ইন্সট্রুমেন্টাল শুনুন; হেডফোনে কিংবা একা রুমে বসে। কিছু ভাল মুভি দেখুন। কিছু মাস্টারপিস পেইন্টিং দেখুন। এবং একটা কাগজে একটা ভাল মিউজিক শুনে কিংবা মুভি আর পেইন্টিং দেখে আপনার কী অনুভূতি হল, লিখে ফেলুন। এটা ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।
ছাব্বিশ। অন্যরা করার আগেই নিজেই নিজের বাজে দিকগুলি নিয়ে মাঝে মাঝে প্রকাশ্যে ঠাট্টা করুন। এতে করে আপনার নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়বে।
সাতাশ। প্রতিদিনই এমন দুটি কাজ করুন, যেগুলি আপনি করতে পছন্দ করেন না। করার সময় বিরক্ত লাগলেও থেমে যাবেন না। যেমন, এমন একটি বই পড়তে শুরু করুন, যেটি আপনার পড়া উচিত কিন্তু পড়তে ইচ্ছা করে না। কিংবা এমন একজনকে ফোন করুন যাকে ফোন করা দরকার কিন্তু করা হয়ে ওঠে না। কিংবা বাসার কমোডটি পরিষ্কার করে ফেলুন। এতে করে আপনার দ্রুত কাজ করার ক্ষমতা বাড়বে। যে কাজটি করতে গিয়ে অন্যরা ৩০ সেকেন্ডেই বিরক্ত হয়ে ছেড়ে দেয়ার চিন্তা করে, সেটি যদি আপনি অন্তত ২২ মিনিট ঝিম ধরে পারেন, তবে আপনি অন্যদের চাইতে নিশ্চিতভাবে এগিয়ে থাকবেন।
আটাশ। আপনি যেমন হতে চান, তেমন লোকের সাথে বেশি বেশি মিশুন। খেতে পছন্দ করে, এমন লোকের সাথে মিশে আপনি ওজন কমাতে পারবেন না।
উনত্রিশ। দিনে একবার টানা ৩০ মিনিটের জন্য মৌন থাকুন। ওইসময়ে কারোর সাথেই কোন কথা বলবেন না। খুব ভাল হয় যদি চোখ বন্ধ করে পুরোনো কোন সাফল্যের কিংবা সুখের কোন স্মৃতির রোমন্থন করতে পারেন। এটা মানসিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
ত্রিশ। প্রায়ই ভাবুন, আপনি এই মুহূর্তেই মারা গেলে আপনার পরিবারের বাইরে আর কে কে আপনার জন্য কাঁদবে। ওরকম লোকের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কী কী করা যায়, ভাবুন এবং করুন।
একত্রিশ। আপনার হাতে মাত্র দুটো অপশন : হয় রাতে দেরিতে ঘুমাতে যান, অথবা সকালে ভোর হওয়ার আগে উঠুন। যদি রাতে সত্যিই একা থাকতে না পারেন, তবে সেকেন্ড অপশনটাই বেটার, কারণ বেশিরভাগ লোকই রাতে জাগে আর গল্প করে সময় নষ্ট করে। ভোরের আগে উঠতে পারলে, আপনাকে বিরক্ত করার কেউ থাকবে না, তাই আপনি পড়াশোনা করা ছাড়া আর তেমন কোন কাজই পাবেন না।
বত্রিশ। আমরা যা-ই করি না কেন, সেটা যদি খুব উল্লেখযোগ্য কিছু হয়, তবে সেটা নিশ্চয়ই অন্তত ১০ বছরের ১০ হাজার ঘণ্টার পরিশ্রমের ফলাফল। পৃথিবীতে কেউই রাতারাতি কিছু করতে পারে না।
তেত্রিশ। কোন একটা কাজ করতে হুট করেই পরিশ্রম করা শুরু করে দেবেন না। আগে বুঝে নিন, আপনাকে কী করতে হবে, কী করতে হবে না। এরপর পরিশ্রম নয়, সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করুন।
চৌত্রিশ। পৃথিবীতে কেউই জিরো থেকে হিরো হয় না। আপনাকে ঠিক করতে হবে, আপনি কোন ব্যাপারটাতে হিরো হতে চাচ্ছেন। আপনি যে বিষয়টাতে আগ্রহ বোধ করেন না, কিংবা যেটাতে আপনি গুরুত্ব দেন না, সেটাতে সময় দেয়া মানে, স্রেফ সময় নষ্ট করা। আপনি যেটাতে সময় দিচ্ছেন, সেটাই একদিন আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে চেনাবে।
পঁয়ত্রিশ। বুদ্ধিমত্তা আর অর্জনের মধ্যে সম্পর্ক খুব ভাল নয়। যার যত বেশি বুদ্ধি, সে তত বেশি এগিয়ে, এরকমটা সবসময় নাও হতে পারে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচাইতে ভাল রেজাল্ট-করা স্টুডেন্টদের শতকরা মাত্র ২০ ভাগ গ্রেটদের তালিকায় নাম লেখাতে পারে। বাকি ৮০ ভাগ আসে তাদের মধ্য থেকে যাদেরকে নিয়ে কেউ কোনদিন স্বপ্ন দেখেনি। তাই শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও নিজের সাথে লড়াই করে যান।

(সুসান্ত-পাল এর লেখা থেকে ।তিনি আমাদের সকলের দাদা।)

শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬

ধনী মানুষ হওয়ার ৯টি পরামর্শ

১. শূন্য থেকে শুরু করে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠুন
বহু সফল ব্যক্তি খালি হাতেই তাদের কাজ শুরু করেছিলেন। স্টারবাকস প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হাওয়ার্ড স্কুলজ ও গোল্ডম্যান সাক্স-এর সিইও লয়েড ব্ল্যাংকফেইন বড় হয়েছেন এভাবেই। প্রতিযোগিতা ও দুর্ভাগ্য তৈরি করে বড় নেতা।
২. যা ভালো লাগে, তাই করুন
আপনার নিজের ভালোলাগার বিষয় করুন এবং তার বাজারের জন্য প্রার্থনা করুন। অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো কাজের একমাত্র উপায় হল নিজের কাজকে ভালোবাসা। আপনি যদি এটা না পেয়ে থাকেন তাহলে খুঁজতে থাকুন। স্থীর হবেন না।’ তিনি ঠিকই বলেছিলেন। আপনি যদি নিজের আগ্রহের বিষয়ে কাজ করেন তাহলে গ্রাহকরাও আপনাকে খুঁজে বের করবে। আর এভাবে টাকাও খুঁজে বের করবে আপনাকে।
৩. সিলিকন ভ্যালি অনুসরণ করুন
যুক্তরাষ্ট্রের হাইটেক ইন্ডাস্ট্রির কেন্দ্র সিলিকন ভ্যালি বহু মানুষের ভাগ্য ফিরিয়েছে। শুধু প্রধান নির্বাহীরাই নয়, বহু চাকরিজীবীও এখানে খুব ভালো আছেন। এর কারণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ে উঠেছে বহু মানুষের সমৃদ্ধির সোপান।
৪. নিজের ব্যবসা শুরু করুন, সন্নাসীর মতো থাকুন
নতুন ব্যবসা শুরু করে নিজে একজন সন্নাসীর মতো জীবন নির্বাহ করুন। আমেরিকার মিলিয়নেয়ারদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশই আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে এ অবস্থায় এসেছেন। তাদের অধিকাংশই আবার ছোট ব্যবসা করেন আর তাদের সামর্থের চেয়ে কম অর্থে জীবন নির্বাহ করেন। তবে তাদের অর্থ তারা আবার ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। সাধারণত তারা পূর্বপুরুষের কাছ থেকে কোনো অর্থ পাননি। তাই কেনার আগে আরেকবার চিন্তা করুন- আপনার কি নতুন গাড়ি বা দামি যন্ত্রটা লাগবেই?
৫. ঝুঁকি নিন, ভুল করুন, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন
অধিকাংশ মানুষ অবিবেচনাপ্রসূত অথবা সাধ্যের অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে ফেলে, যা তাদের নেয়া উচিত নয়। তার বদলে স্মার্ট ঝুঁকি নিতে হবে, যা বাস্তবে পূরণ করা সম্ভব। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে সামনে এগিয়ে যান। ভুল হলেও তা স্বাভাবিক। আঘাত না পেয়ে কেউ সামনে এগোতে পারে না।
৬. অনেক ত্যাগ করে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করুন
ইয়াহুর সিইও মেরিসা মেয়ার খুবই পরিশ্রমি একজন নারী। তিনি সপ্তাহে ৯০ ঘণ্টা কাজ করেন। আর এলন মাস্ক দুটি প্রতিষ্ঠা চালান। একই বিষয় প্রযোজ্য ছিল স্টিভ জবসের ক্ষেত্রে। তিনি অ্যাপল ও পিক্সার চালাতেন। আপনি যা বিনিয়োগ করবেন তার ফলাফল পাবেন।
৭. নিজের ভাগ্য নিজেই তৈরি করুন
এটা বলা হয় যে, সুযোগ যখন প্রস্তুতির সঙ্গে মিলে যায় তখন সৌভাগ্য আসে। আমি খুব ভাগ্যবান - এ কথার পাশাপাশি এটাও সত্য যে আমি ভাগ্য খোঁজার কাজে কখনো থামিনি। আর যখনই কোনো সুযোগের আশা মিলেছে তা হারাইনি। এ কারণে অপ্রয়োজনীয় কাজ বাদ দিয়ে বাস্তব জগতের সফল মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে।
৮. স্থিতিশীল বিবাহিত জীবন
বিয়ে ভাঙার পর বহু ধনী মানুষের সম্পত্তি কমে গেছে। এ কারণে ধনী হওয়া ও থাকার জন্য স্থিতিশীল বিবাহিত জীবন গুরুত্বপূর্ণ।
৯. বৈচিত্র্য আনুন
বহু ধরনের ধারণা আনুন নিজের কাজে। এতে অনেক কষ্ট ও সময় ব্যয় হতে পারে। তবে প্রাথমিকভাবে কষ্ট হলেও ভবিষ্যতে এর সুফল

কিভাবে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলবেন


১। পোশাক পরিচ্ছেদ সম্পর্কে সচেতন হোন। বর্তমান ফ্যাশন অনুযায়ী পোশাক পরুন। এমন পোশাক পরিধান করুন যা আপনার বডি ফিটনেস সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলে। সতর্কভাবে পোশাকের কালার নির্বাচন করুন।
২। নিয়মিত জিমে যাওয়ার চেষ্টা করুন। জিমে গিয়ে হার্ডকোর বডিবিলডার হওয়ার দরকার নেই। মোটামোটি স্লিম ফিগার এবং সুন্দর বডিসেপ হলেই মেয়েরা আপনাকে পছন্দ করবে।
৩। সুন্দর হেয়ারকাট এবং নখ ছোটরাখার চেষ্টা করুন। নিয়মিত সেভ করুন।
৪। আপনার শরীর থেকে যেন কোন দুর্গন্ধ না বের হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। নিয়মিত গোসল করুন। বডিস্প্রে ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
৫। চোখে চোখে রেখে কথা বলার অভ্যাস করুন। কথা বলার সময় চেহারার এক্সপ্রেসান যেন বিদগুটে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
৬। সুন্দর হাসি দেওয়ার চেষ্টা করুন। এজন্য নিয়মিত আয়নায় প্র্যাকটিস করতে পারেন। খুব বেশী মুখ হা করে হাসবেন না ।
৭। আপনার হাটার স্টাইল আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করুন। বিভিন্ন মুভি দেখে হাটার স্টাইল প্র্যাকটিস করতে পারেন।
৮। আপনার দাঁড়ানোর ভঙ্গি যেন আত্মবিশ্বাসী হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। দাঁড়ানোর ভঙ্গি আকর্ষণীয় না হলে মেয়েদের কাছে গ্রহন যোগ্যতা হারানোর সম্ভাবনা আছে।
৯। কণ্ঠস্বর আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করুন। ভারী এবং পুরুষালী কণ্ঠে কথা বলার অভ্যাস করুন। কখনো রেডিও জকিদের স্টাইলে কথা বলার চেষ্টা করবেন না।
১০। মেয়েদের সামনে কখনো মানসিকভাবে দুর্বল হবেন না। মানসিকভাবে দুর্বল ছেলেদের মেয়েরা পছন্দ করে না।
১১। ভাল শ্রোতা হোন। অন্যের কথার মাঝে বাধা দিয়ে কথা বলবেন না। সব কথা শুনার পর নিজের গঠনমূলক বক্তব্য দিন।
১২। মেয়েদের সামনে ভাল আচনর করুন। যেমনঃ আগে গিয়ে দরজা খুলে “After you” বলে সবাইকে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া।
১৩। খারাপ কাজে সময় নষ্ট না করে, বেশী করে বই পড়ুন। এতে আপনার বুদ্ধি বা ইন্টেলিজেন্স বাড়বে। বুদ্ধিমান ছেলদের মেয়েরা খুব পছন্দ করে।
১৪। কখনো মেয়েদের সামনে উশৃঙ্খল হবেন না। উশৃঙ্খল ছেলেদের মেয়েরা ভালো চোখে দেখে না।
১৫। মেয়দের সাথে সবসময় একই রকম ব্যবহার করুন। কখনো এমন ব্য

কিভাবে নিজেকে গুছিয়ে উপস্থাপন করা যায়

পরিমার্জিত শারীরিক ভাষা সম্পর্কে জানুনঃ

আপনি পরিশীলিত হতে চান তাহলে আপনাকে জানতে হবে নিজেকে সবার সামনে গুছিয়ে উপস্থাপন করার কৌশল। নিজেকে অত্যাধুনিক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইলে জানতে হবে নিজের দৈহিক অঙ্গভঙ্গি সম্পর্কেও। কথা বলার সময় অপর মানুষের চোখে চোখ রাখতে শিখুন, অনর্থক হাত নাড়ানাড়ি বন্ধ করুন, সোজা হয়ে চলাফেরা করুন আর নিজের মুখের কমনীয়তা বজায় রাখুন।

নিজের চেহারায় রুচিশীলতা প্রকাশ করুন

আপনি আপনার চেহারা সঙ্গে বর্তমান এবং প্রচলিত একটি ধাঁচ আনতে আপনার চেহারায় পরিবর্তন আনুন। প্রথমে চুল সাজিয়ে ফেলুন,বর্তমান সময়ের সাথে যায় এমন কোন হেয়ার স্টাইল করতে পারেন। আপনার চুল হাইলাইট করতে আপনার চেহারার সাথে যায় এমন কোন হেয়ার কাট নিতে পারেন। পুরুষরা আধুনিক দেখাতে তাদের মুখমণ্ডল ফ্রেস রাখুন। আর নারীরা হালকা মেকাপে থাকতে পারেন।

সময় উপযোগী মানানসই পোশাক পরুন

নিজেকে আধুনিক দেখাতে অবশ্যই আধুনিক পোশাক পরুন। হাল ফ্যাশানের পোশাক সম্পর্কে ধারণা রাখুন। নিজের সাথে মানানসই এমন পোশাক পরিধান করুন। দামী কাপড় পরলেই যে আপনাকে ভালো দেখাবে এমন ধারণা ভুল। যাই পরবেন খেয়াল রাখুন সেটা যেন পরিষ্কার পরিছন্ন হয়। মনে রাখবেন কেবল মাত্র একটি কালো শার্ট বা একটি জিন্সেই আপনাকে আধুনিক দেখাবে যদি আপনি সেই পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

রুচিশীল এক্সেসারিজ ব্যবহার করুনঃ

রুচিশীল এক্সেসারিজ আপনাকে আধুনিক করতে সাহায্য করবে। যেমন গাঢ় রঙের বেল্ট,একটি সানগ্লাস,ভালো ব্র্যান্ডের কোন ঘড়ি আর মেয়েদের ক্ষেত্রে একটি স্কার্ফ আর সাথে হালকা কিছু সোনার, রুপার অথবা স্টাইলিশ ইমিটেসন জুয়েলারি আপনাকে দেবে আলাদা একটি রূপ।

ভেতর থেকে নিজেকে সাজিয়ে নিয়ে নিজেকে গুছিয়ে উপস্থাপন করা

শুধু বাহ্যিকভাবে গুছিয়ে উপস্থাপনের মাধ্যমে নিজেকে সম্পুর্ন সুন্দরভাবে প্রকাশ করা যায় না। ভেতর থেকে নিজেকে সাজিয়ে নিতে হয়।

অন্যরা অস্বস্তিবোধ করে এমন আলোচনা থেকে বিরত থাকুনঃ

এমন যেকোন আলোচনা থেকে বিরত থাকুন যাতে মানুষ বিরক্তি বা অস্বস্তিবোধ করে। পরিশীলিত শব্দ ব্যবহার করে কথা বলার চেষ্টা করুন। নিজের টাকা পয়সা নিয়ে কথা বলা বন্ধ করুন। অন্যের বেতন, তার সামর্থ্য এমনকি তার খারাপ দিক নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে চলুন।

একাধিক ভাষার মিশ্রণে কথা বলা থেকে বিরত থাকুনঃ

অনেক বাংলা এবং ইংরেজির সংমিশ্রণ এ কথা বলাকে আধুনিকতার বহিঃপ্রকাশ মনে করেন। আসলে তা কিন্তু নয়। সময় এবং পরিস্থিতি বুঝে যেকোন একটি ভাষায় সুন্দর করে কথা বলতে পারার মাঝেও কেবল আধুনিকতার বহিঃপ্রকাশ পায়। তাই সচেতনার মাধ্যমে কেবল একটি ভাষায় কথা বলুন। আবার যেক্ষেত্রে অন্য ভাষা সর্বজন স্বীকৃত, সেক্ষেত্রে অবশ্যই সে ভাষায় ব্যবহার করতে হবে। যেমন গণনাকারী যন্ত্র না বলে বলতে হবে কম্পিউটার।

আত্মসমালচনার মাধ্যমে নিজেকে চেনাঃ

নিজেকে চেনার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হল আত্মসমালচনা করা। আত্মসমালচনা শব্দটির অর্থ হলো নিজের সমালোচনা করা। একজন মানুষ যখন নিজের ভালো দিক ও খারাপ দিক বুঝতে পারে তখনই সে নিজের পরিবর্তন করতে পারে। তাই আত্মসমালোচনা মাধ্যমে নিজের ভুলত্রুটিগুলো ধরুন ও সংশোধন করার চেষ্টা করুন। তাহলে নিজেকে আরও সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন।

ধ্যানের মাধ্যমে নিজের মনস্তাত্বিক পরিবর্তন সাধনঃ

ধ্যান শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হল Meditation. যে চিন্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের মন বা আত্মাকে নিয়ন্ত্রন ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তাই হল ধ্যান। এর সাথে মনযোগীতা বিষয়টিও জড়িত। আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজের ভুলত্রুটিগুলো যেমন ধরা যায়, তেমনি ধ্যানের মাধ্যমের এর সংশোধন বা পরিশুদ্ধকরন সম্ভব। মেডিটেশনের মাধ্যমে আমরা হীনমন্যতা, নেতিবাচক মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করা সম্ভব।

বিনয়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্কে কথা বলুনঃ

নিজের সম্পর্কে বলার প্রয়োজন দেখা দিলে কোন আস্ফালন ছাড়াই শান্ত থেকে বিনয়ের সাথে নিজেকে তুলে ধরুন। আপনার গুণাবলী সম্পর্কে অন্যকে জানাতে পরিশীলিত শব্দ চয়ন করুন আর সেই শব্দের প্রয়োগ করুন। এটি নিজেকে উপস্থাপনের একটি সুন্দর মাধ্যম।

মেজাজের ভারসাম্যতা

মানুষের মেজাজ সবসময় এক থাকে না। কিন্তু যারা নিজেকে গুছিয়ে উপস্থাপন করেন তাদের মেজাজের উপর দখল থাকবে অনেক বেশি। সেজন্য কিছু না কিছু প্রাকটিজ অর্থাৎ অনুশীলন দরকার। যোগ ব্যায়াম করে দেখতে পারেন। কাজ না হলে মেডিটেশন পদ্ধতির আশ্রয় নিন।

খারাপ অভ্যাস

অনেকেরই খারাপ কিছু অভ্যাস থাকে। এসবের কারনে তারা নিজেদের অবস্থান হারিয়ে ফেলেন। যেমন- নেশাভান করা, নারী বা পুরুষের প্রতি দুর্বলতা, উৎকট পোশাক ব্যবহার, অশোভন কিছু করা ইত্যাদি। যত দ্রুত পারা যায় এসব বাদ দিতে হবে। তা না হলে  নিজেকে গুছিয়ে উপস্থাপন করা  যায় না।

রুচিশীল কাজ করা

গান শোনা, বই পড়া, কিংবা ভাল মুভি দেখা, চিত্র কর্ম , সামাজিক সহযোগীতা, স্বেচ্ছাসেবিক কার্যক্রম ইত্যাদি একজন মানুষের রুচিশীলতার করে পরিচয় বহন করে। যে যত বেশি নিজেকে গুছিয়ে উপস্থাপন করতে পারে সে তত বেশি রুচিশীল কাজ করেন।

১৩টি সহজ উপায়ে ফুটিয়ে তুলুন নিজের ব্যক্তিত্ব

আমাদের সকলের জীবনেই অনুসরনীয় বা অনুকরণীয় কেউ না কেউ আছেন যার ব্যক্তিত্ত্ব, আচরণ, কথাবার্তা আমাদের মনে গভীরভাবে ছাপ ফেলে যায়। কিন্তু কখনো চিন্তা করে দেখেছেন কি, তাঁরা কিভাবে সবার প্রিয় হয়ে উঠলেন?
লক্ষ্য করে দেখুন, তাঁরা কেউ কিন্তু নিজের সুন্দর চেহারার জন্য আপনার কাছে প্রিয় নন, বরং এই প্রিয় হবার পেছনে আছে আর গুরুত্বপূর্ণ একটা কারণ। তাঁরা সকলের কাছে প্রিয় হবার কারণ হলো তাদের উজ্জল ব্যক্তিত্ব। আর নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারলে তাঁদের মতন আপনিও হয়ে উঠতে পারেন সবার আকাঙ্ক্ষিত।
তবে প্রথমেই মনে রাখবেন, সবার আকাঙ্ক্ষিত হতে চাইলে আপনাকে হতে হবে একজন ভালো মানুষ। তারপর আসবে অন্য সব দিক। আসুন নিজের ব্যক্তিত্ত্বকে বিকাশ করতে কি করা যেতে পারে তা জেনে নেই।
  • ১) নিজের একটি সুন্দর ও পৃথক ব্যক্তিত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করুন। কারো অনুকরণ করে নয়, বরং সবাই যেন আপনাকে অনুসরণ করতে চায় সেভাবেই নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। আর এই জন্য, আপনি যেমন আছেন তেমন থাকারই চেষ্টা করুন। জোর করে কোনও কিছু নিজের ওপরে আরোপ করতে যাবেন না।
  • ২) যখন যে কাজটি করছেন তখন শুধু সেই কাজেই মনোযোগ দিন। অর্থাৎ কর্মক্ষেত্রে যখন আছেন তখন সেখানেই মনোযোগ ধরে রাখুন, আবার যখন পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের সাথে আছেন তখন তাদের সাথেই সময় কাটান। এভাবে আপনি নিজের শতভাগ ব্যবহার করতে পারবেন।
  • ৩) মানুষ হিসেবে যে সম্মানটা আপনি অন্যদের কাছ হতে আশা করেন, ঠিক তেমনই অন্যদেরকে সম্মান দিতে শিখুন। বড়দের করুন শ্রদ্ধা আর ছোটদের দিন স্নেহ।
  • ৪) আপনার চাইতে নিচের পদের লোকদের সাথে যথাযথ আদবের সাথেই কথা বলুন। একজন ব্যক্তি রিকশা চালায় বলেই তাকে তুই করে বলতে হবে, বা বাসার কাজের মানুষটি আপনার থেকে বয়সে বড় হলেও কাজের মানুষ হয়েছেন বিধায় তাঁকে অপমান করে কথা বলার অধিকার আপনি রাখেন না। যিনি নিজের চাইতে ছোট পদের মানুষদের সাথে ভালো আচরণ করতে পারেন না, তিনি কোনোদিনই একজন ভালোমানুষ হতে পারেন না।
  • ৫) অন্য ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে দৃঢ়ভাবে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, আপনার নিজেরও ব্যক্তিগত একটি জীবন আছে যেখানে অন্যলোকের হস্তক্ষেপ আপনার পছন্দ হবেনা। যদি তাই হয় তবে অন্যের ব্যাপারে কেন নাক গলাতে যাবেন?
  • ৬) সব সময় “ফরমাল” বা খুব দামী পোশাক পরে সেজেগুজে থাকলেই স্মার্টনেস আসবে তা নয়, তবে একদম অপরিষ্কার থাকলেও তো চলবে না। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি থাকার চেষ্টা করুন। আপনার শরীরের দুর্গন্ধে যদি অন্য কারো সমস্যা হয় তবে তা তো আপনাকে স্মার্ট হিসেবে তুলে ধরবে না। পোশাক যেমনি হোক, তা জেন পরিপাটি আর পরিছন্ন হয় সেটাই খেয়াল রাখবেন।
  • ৭) অপ্রয়োজনীয় ও ফালতু কথা বলবেন না এবং অন্যদেরকেও বলতে উৎসাহিত করবেন না। বেশি কথা বলাই স্মার্টনেস এর লক্ষন নয়, বরং পরিস্থিতি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কিন্তু জোরদার কথা বলুন। অপ্রাসঙ্গিক কথা বা মন্তব্য জীবনের সব ক্ষেত্রেই আপনার ব্যক্তিত্বকে খাটো করে। এমনকি লক্ষ্য করে দেখবেন যে একটি অপ্রাসঙ্গিক ফেসবুক কমেন্ট পর্যন্ত আপনাকে কতটা খেলো করে ফেলে অন্যের চোখে।
  • 8) সব কিছুই করলেন পরামর্শ মতন, কিন্তু দিন শেষে যদি আপনার মাঝে নিজেকে নিয়ে যদি প্রশ্ন রয়ে যায়, তাহলে আর নিজেকে স্মার্ট হিসেবে তৈরি করবেন কিভাবে? তাই অতি অবশ্যই নিজের উপরে বিশ্বাস আনুন। আপনি আত্মবিশ্বাসী না হলে তো অন্যরাও তো আপনার প্রতি আস্থা আনতে পারবে না, তাই না? আত্মবিশ্বাসী মানুষের আলাদাই একটি ব্যক্তিত্বের ছটা থাকে।
  • ৯) নিজেকে ব্যক্তিত্ববান দেখাতে গিয়ে আবার অতিরিক্ত ভাব বা মুড দেখাতে যাবেন না যেন। অতিরিক্ত ভাব দেখালেই কেউ স্মার্ট হয়ে যায়না, বরং স্মার্টনেস কমিয়েই দেয় আপনার আলগা এই ভাব।
  • ১০) রপ্ত করুন সুন্দর করে কথা বলার অভ্যাস। আপনি সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বললে যে কেউ আপনার কথার মূল্য দিতে বাধ্য। সেই সাথে ঘরের বাইরে এড়িয়ে চলুন আঞ্চলিকতাকে। কথা বলার সময় সরল সহজভাবেই কথা বলুন, বাঁকা কথা বা অতিরিক্ত জটিল কথা বলে নিজেকে স্মার্ট প্রমাণ করতে চাইলে বোকা বনে যাবার সম্ভাবনাই বেশি। আর অবশ্যই সকলকে সম্মান দিয়ে কথা বলুন।
  • ১১) কথা বলার সময় আই কন্টাক্ট করার চেষ্টা করবেন এবং হাসি মুখে কথা বলার চেষ্টা করবেন। এতে আপনার কথার প্রতি আপনার আস্থা প্রকাশ পাবে। এবং সামনের মানুষটিও আপনার ওপরে আস্থা খুঁজে পাবে।
  • ১২) কথা বলার সময় সুন্দর সুন্দর শব্দ চয়ন করুন, এছাড়াও নিজের মাতৃভাষাকে ভালোভাবে জেনে শব্দভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করুন। অন্য ভাষাইয় কথা বলার আগে নিজের ভাষা সম্পর্কে জানুন। যে ব্যক্তি নিজের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানেন না, তিনি কোনোদিনই একজন ব্যক্তিত্ববান মানুষ হতে পারেন না।
  • ১৩) অপরের কৃতিত্বের জন্য প্রশংসা করতে শিখুন। তাদের অর্জনকে হিংসা করতে যাবেন না। অন্যকে কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দিতে পারে কেবলই একজন সঠিক ব্যক্তিত্ববান মানুষ।

কিভাবে স্মার্ট হওয়া যায়?

***)

স্মার্ট হওয়ার প্রথম শর্ত হলো আপনাকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। পোশাক আশাক সুন্দর করেই যে আপনি স্মার্ট হবেন তা হবে না। গুছিয়ে কথা বলা; উপস্থিত বুদ্ধি; পরিষ্কার পরিছন্ন; যে কোনো পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়া এবং নিজের আশে পাশের সম্পর্কে ভালো জানা শোনা থাকা স্মার্ট হওয়ার কিছু অন্যতম দিক। এই সব দিক গুলো নিয়মিত চর্চার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভম।



***)

চটপটে, বুদ্ধিমান, আকর্ষনীয় মানুষকে স্মার্ট বলা যায়। সব তরুনরা স্মার্ট হতে প্রতিযোগিতা করে। কিন্তু বেশীরভাগ তা শুধু বহিরঙ্গেই হয়, অন্তরঙ্গে নয়! অর্থাৎ হাল ফ্যাশনের জামা কাপড়, জুতা-মোজা, সুগন্ধি, প্রসাধনী, চুলের স্টাইল, গায়ের রং, অলংকার, ঘড়ি, মোবাইল, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ ইত্যাদি নিয়েই বিশ্বব্যাপী তরুনের দল (এমনকি বয়স্করাও) স্মার্ট হবার চেষ্টা করেন! আর নানা মিডিয়া ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যের লাভে ও লোভে অনেক অনৈতিক প্রচার চালিয়ে কোমলমতি তরুণদের ভুল পথে নিয়ে যায়! (যেমন: ফর্সা না হলে স্মার্ট হওয়া যায় না, জীবনে সফল হওয়া যায় না, ইত্যাদি ইত্যাদি )
স্মার্ট শব্দের প্রতিটি ইংরেজি অক্ষর ধরে ধরে সত্যিকার ভাবে স্মার্ট হবার একটা রাস্তা খোঁজা যেতে পারে। এস (S): সিম্পল (simple) - সহজ ভাবে চিন্তা করতে পারা, গুছিয়ে প্রকাশ করতে পারা, সহজ করার জন্য অবিরাম চেষ্টা করা, পড়াশুনা করা; এম (M): মিংলিং (Mingling ): সবার সাথে মিশতে পারা। এ (A): অ্যাকটিভ (Active) - সব সময় সক্রিয় থাকা। আর (R): রেস্পন্সিবল (Responsible ) - দায়িত্বশীল হতে শেখা। টি (T): টেস্টফুল