সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

রাষ্ট্রীয় শিরক!!

রাষ্ট্রীয় শিরক!! শহীদ মিনার, স্মৃতি সৌধ, সমাধি সৌধ ইত্যাদিতে বিনম্র হয়ে পুস্প মাল্য অর্পণ !!! কবর বা মূর্তি পূজারই অনুরূপ।
সমস্ত প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এর যিনি সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিক দাতা ও জ্ঞানদাতা| শান্তি বর্ষিত হোক সর্ব শেষ রাসুল, সর্ব শ্রেষ্ঠ রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি ও তার পরিবার পরিজনের উপর|
(সম্পূর্ণ না পড়ে শুধু আংশিক পড়েই কেউ মন্তব্য দানে বিরত থাকার অনুরোধ করছি। পড়লে সম্পূর্ণ পড়তে হবে নতুবা পড়বেনই না। )
মহান আল্লাহ বলেন,
”যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে ম
ুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।” সুরা নিসা ৮০ |
মহান আল্লাহ রাসুল (সাঃ) এর অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে আরো বলেন,
”আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই; যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়। সুরা আল আহযাব ৩৬
সহিহ হাদিস থেকে আমরা জানার চেষ্টা করব রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কি আদেশ করে গিয়েছেন ,
”বাড়াবাড়ি করা থেকে বিরত থাক। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করার ফলে ধ্বংস ও বিনাশ হয়ে গিয়েছে’ [আহমাদ, তিরমীজি, ইবনে মাজাহ]
”আমার ব্যাপারে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না, যে ভাবে নাসারাগণ মরিয়ম পুত্র ঈসার ব্যাপারে করেছিলো। কেননা আমি শুধু একজন বান্দা। অতএব, আমাকে আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল হিসাবে অভিহিত করো।[বুখারী] ”
‘তোমরা নিজেদের ঘরকে কবর বানিয়ো না। (অর্থাৎ কবরের মতো ইবাদত-বন্দেগী শূন্য করো না) এবং আমার কবরকে উৎসবের স্থান বানিয়ো না। বরং আমার প্রতি দরূদ পড়। কেননা তোমরা যেখানেই থাক না কেন তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌঁছবে।’-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২০৪০
”কবরের উপর (আসন গেঁড়ে বা ইমারত বানিয়ে) বসো না এবং তার দিকে (কবরের দিকে) সালাত আদায় করো না।” [মুসলিম: ১৬১৩, আবূ দাউদ: ২৮১০, তিরমিযী: ৯৭১, আহমাদ: ১৬৫৮৪]
আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মৃতু্য কালীন রোগ শয্যায় চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে নিতেন৷ যখন এতে কষ্ট লাগতো তখন মুখ থেকে চাদর সরিয়ে নিতেন৷ এমতাবস্থায় তিনি বলেছিলেন ”ইয়াহুদী ও নাসারাদের উপর আল্লাহর লা’নত বর্ষিত হোক৷ কারণ তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে মসজিদ তথা সিজদার স্থান বানিয়ে নিয়েছে৷ ” তাদের এসব কাজ- কর্ম থেকে তিনি স্বীয় উম্মাতকে সতর্ক করে দিয়েছেন৷ লোকেরা তাঁর কবরকে সিজদাগাহ বানাবে এ আশংকা যদি না থাকতো তাহলে তাঁর কবর উন্মুক্ত করে দেয়া হতো৷ ( বুখারী ও মুসলিম)
আবুল হাইয়াজ আল আসাদী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: আলী বিন আবু তালিব রাদি আল্লাহু আনহু আমাকে বলেন যে, আমি কি তোমাকে সেই দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করব না, যে দায়িত্ব দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে প্রেরণ করেছিলেন? তা হলো যেখানেই প্রতিমা ও ভাস্কার্য দেখবে ভেঙ্গে ফেলবে এবং যেখানেই সুউচ্চ কবর দেখবে সমান করে দেবে’
অনুরূপ ভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরে চুনকাম করা ও সৌধ তৈরী করা থেকে নিষেধ করেছেন। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরের উপর বসা ও সৌধ তৈরী করা থেকে নিষেধ করেছেন। [মুসলিম]
পৃথিবীতে প্রথম শিরক এর ঘটনা :
দুনিয়াতে প্রথম শিরক সংঘটিত হয়েছিল নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের মধ্যে। আর তা হয়েছিল সৎ ও বুযর্গ লোকদের মাধ্যমে। আল্লাহ বলেন,
(খবরদার!) ‘তোমরা তোমাদের পূর্ব পুরুষদের পূজিত উপাস্য ওয়াদ, সুওয়া‘, ইয়াগূছ, ইয়াঊক্ব, নাস্র-কে কখনোই পরিত্যাগ করবে না’। (এভাবে) ‘তারা বহু লোককে পথভ্রষ্ট করে এবং (তাদের ধনবল ও জনবল দিয়ে) নূহ-এর বিরুদ্ধে ভয়ানক সব চক্রান্ত শুরু করে’ (নূহ ৭১/২১-২৩) ।
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মহানবী (ছাঃ) বলেছেন, এ আয়াতে যে ক’টি নাম এসেছে এগুলো নূহ (আঃ) এর কওমের বুযর্গ লোকদের নাম। তাদের মৃত্যুর পর শয়তান ঐ সম্প্রদায়ের লোকদের প্ররোচিত করল, তারা যেন ঐসব বুযর্গগণ যেসব আসরে বসতেন সেখানে তাদের প্রতিমা বানিয়ে রাখে এবং তাদে নামে এগুলোর নামকরণ করে। তারা তাই করল। তবে এগুলোর উপাসনা হত না। এসব লোক মৃত্যুবরণ করার পর ক্রমান্বয়ে তাওহীদের জ্ঞান বিস্মৃত হল, তখন এগুলোর উপাসনা ও পূজা হতে লাগল (বুখারী, হা/৪৯২০)।
[[ আজকাল ঠিক একইভাবে শহীদ মিনার, স্মৃতি সৌধে আমরা ঠিক একই কাজ করছি। আমরা মৃতদের স্মরণে খাম্বা বানিয়েছি প্রাচীর তুলেছি …. তারপরেও শিক্ষিত লোকেরা প্রশ্ন খুঁজে ফিরে কি করে এই শহীদ মিনার, স্মৃতি সৌধ শিরক হতে পারে? অথচ তারাই নিশ্চিত কবর কেন্দ্রিক উত্সবগুলো শিরক। পার্থক্য কোথায়?]]
আদম (আঃ)-এর সময়ে ঈমানের সাথে শিরক ও কুফরের মুকাবিলা ছিল না। তখন সবাই তওহীদের অনুসারী একই উম্মতভুক্ত ছিল (বাক্বারাহ ২/২১৩) । তাঁর শরী‘আতের অধিকাংশ বিধানই ছিল পৃথিবী আবাদকরণ ও মানবীয় প্রয়োজনাদির সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু কালের বিবর্তনে মানুষের মধ্য শিরকের অনুপ্রবেশ ঘটে।
নূহের কওম ওয়াদ, সুওয়া‘, ইয়াগূছ, ইয়াঊক্ব ও নাস্র প্রমুখ মৃত নেককার লোকদের অসীলায় আখেরাতে মুক্তি পাবার আশায় তাদের পূজা শুরু করে। এই পূজা তাদের কবরেও হ’তে পারে, কিংবা তাদের মূর্তি বানিয়েও হ’তে পারে। মুহাম্মাদ ইবনু ক্বায়েস বলেন, আদমও নূহ (আঃ)-এর মধ্যবর্তী সময়কালের এই পাঁচজন ব্যক্তি নেককার ও সৎকর্মশীল বান্দা হিসাবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাঁদের মৃত্যুর পর ভক্ত অনুসারীগণকে শয়তান এই বলে প্ররোচনা দেয় যে, এইসব নেককার মানুষের মূর্তি সামনে থাকলে তাদের দেখে আল্লাহর প্রতি ইবাদতে অধিক আগ্রহ সৃষ্টি হবে। ফলে তারা তাদের মূর্তি বানায়।
অতঃপর উক্ত লোকদের মৃত্যুর পরে তাদের পরবর্তীগণ শয়তানের ধোঁকায় পড়ে ঐ মূর্তিগুলিকেই সরাসরি উপাস্য হিসাবে পূজা শুরু করে দেয়। তারা এইসব মূর্তির অসীলায় বৃষ্টি প্রার্থনা করত’। আর এভাবেই পৃথিবীতে প্রথম মূর্তিপূজার শিরকের সূচনা হয়।
[[ আজকাল ঠিক একইভাবে শহীদ মিনার, স্মৃতি সৌধে আমরা ঠিক একই কাজ করছি। আমরা মৃতদের স্মরণে খাম্বা বানিয়েছি প্রাচীর তুলেছি …. তারপরেও শিক্ষিত লোকেরা প্রশ্ন খুঁজে ফিরে কি করে এই শহীদ মিনার, স্মৃতি সৌধ শিরক হতে পারে? অথচ তারাই নিশ্চিত কবর কেন্দ্রিক উত্সবগুলো শিরক। পার্থক্য কোথায়?]]
ইমাম বুখারী (রহঃ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস(রাঃ) হ’তে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন যে, এই লোকগুলি হযরত নূহ (আঃ)-এর যুগের নেককার ব্যক্তি ছিলেন। তাদের মৃত্যুর পর শয়তান তাদের অনুসারীদের এই মর্মে ধোঁকা দিল যে, এঁদের বসার স্থানগুলিতে এক একটি মূর্তি বানাও ও তাদের নামে নামকরণ কর। লোকেরা তাই করল। …
[[ ঠিক একইভাবে ৫২ তে ভাষা আন্দোলন হয়েছিল অথচ আজ থেকে ৩০ বছর আগেও শহীদ মিনার নিয়ে এত বারবারই আর হয়নি। বাংলাদেশের আদালত সহিদ মিনারকে উপাসনালয়ের মতই পবিত্র ঘোষণা করেছে । যার প্রেখিয়ে মাঝে মধ্যেই সংবাদপত্রে লিখে থাকে- ”পবিত্র বেদিতে জুতা নিয়ে চলাচল- দেখার কেউ নেই”; নাউজুবিল্লাহ। তারপরেও মানুষ অবাক হয়ে প্রশ্ন করে এখানে শিরক হলো কোথায়? নুহ (আঃ) সম্প্রদায়ের মতই কিছুকাল পরে না জানি আরো কতকিছু ঘোষিত হয়| কোনো এক বিশিষ্ট ব্যক্তির জানাজা হয়েছিল শহীদ মিনারে হয় আল্লাহ! সেকুলার আর নাস্তিকদের সে যে কি সমালোচনা – শহীদ মিনারের পবিত্রতা নাকি নষ্ট হয়েছিল!! তার পরেও মেডিকেলে পড়া শিক্ষিত যুবকের ব্যাঙ্গাত্মক প্রশ্ন- ”ওই মিয়া এখানে শিরকের কি পাইছেন আমরা কি ইবাদত করতে যা-ই নাকি”। স্মৃতি সৌধ আর সমাধি সৌধ পার্থক্য শুধু একজায়গায় কবর আছে আরেক জায়গায় নাই। যেখানে কবরেই এত আয়োজন নিষেধ সেখানে স্মৃতি সৌধ বানিয়ে ফুল দেওয়া তো পুজারী অনুরোপ করা তা ইচ্ছা করে করা হোক আর অনিচ্ছা করে করা হোক !!]]]
এই মূর্তিগুলি পরবর্তীকালে আরবদের মধ্যেও চালু ছিল। ‘ওয়াদ’ ছিল বনু কালবের জন্য দূমাতুল জান্দালে, সুওয়া‘ ছিল বনু হোযায়েলের জন্য, ইয়াগূছ ছিল বনু গুত্বায়েফ-এর জন্য জুরুফ নামক স্থানে, ইয়া‘ঊক্ব ছিল বনু হামদানের জন্য এবং নাস্র ছিল হিমইয়ার গোত্রের বনু যি-কালা এর জন্য’।
( কৃতজ্ঞতা বইঃ নবীদের কাহিনী – প্রফেসর আসাদুল্লাহ আল গালিব)
———————————————-
তারপরেও দুনিয়ার জ্ঞানে অন্ধ অনেকেই যুক্তি তর্ক দ্বারা এই নিব্জ পূজার ব্যবস্থাকে জায়েজ বানানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকবেই । কারণ এগুলোই শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য লিপ্ত হয়ে আছে। হতে পারে এদের মধ্যে দুষ্টু জ্বিন সম্প্রদায়ও থাকতে পারে। কেননা শয়তান তো জ্বিনদের মধ্যে থেকেই ।
———————————————–
কিয়াস হচ্ছে, কোনো বিষয় যদি সরাসরি কুরআন ও হাদিস থেকে পাওয়া না যায় তবে কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত তার সম পর্যায়ের কোনো বিষয় থেকে মতামত গ্রহণ করা।
কোনো কবরকে কেন্দ্র করে বা কোনো মৃত কে কেন্দ্র করে উত্সব করা যেখানে শিরক সেখানে ঠিক ”যুদ্ধে মৃত”দের স্মরণের নামে ভিন্ন জায়গায় ইত পাঠক সিমেন্ট দিয়ে খাম্বা তৈরী করে মৃতদের সম্মানের জন্য ফুল দেয়া তো ঠিক একই পর্যায়ের গুনাহ বরং আরো বেশি গুনাহ !
————————————————-
আবুল হাইয়াজ আল আসাদী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: আলী বিন আবু তালিব রাদি আল্লাহু আনহু আমাকে বলেন যে, আমি কি তোমাকে সেই দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করব না, যে দায়িত্ব দিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে প্রেরণ করেছিলেন? তা হলো যেখানেই প্রতিমা ও ভাস্কার্য দেখবে ভেঙ্গে ফেলবে এবং যেখানেই সুউচ্চ কবর দেখবে সমান করে দেবে’
অনুরূপ ভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরে চুনকাম করা ও সৌধ তৈরী করা থেকে নিষেধ করেছেন। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরের উপর বসা ও সৌধ তৈরী করা থেকে নিষেধ করেছেন। [মুসলিম]
হে পাঠক! হে শিক্ষিত যুবক!
যেখানে কবরের উপরে সৌধ নির্মান নিষেধ করা হয়েছে সেখানে এখন যেখানে কবর নাই সেখানে সৌধ নির্মান করা জায়েজ হয়ে গেল?
কোথায় শহীদের কবর আর কোথায় সৌধ? যেখানে কবরেই ফুল দেওয়া নিষেধ সেখানে সৌধের মধ্যে ফুল দেয়া কিভাবে বৈধ হলো?
যেখানে কবরে ফুল দেওয়া সম্মান দেওয়া শিরক পর্যায়ের গুনাহ শেখে সৌধে ফুল দেওয়া তো আরো জঘন্য গুনাহ।
‘তোমরা নিজেদের ঘরকে কবর বানিয়ো না। (অর্থাৎ কবরের মতো ইবাদত-বন্দেগী শূন্য করো না) এবং আমার কবরকে উৎসবের স্থান বানিয়ো না। বরং আমার প্রতি দরূদ পড়। কেননা তোমরা যেখানেই থাক না কেন তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌঁছবে।’-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২০৪০
আর শিক্ষিত স্যারেরা সহ শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা খুবই যুক্তি তর্ক বলছে ”আমরা তো ইবাদতের উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার আর স্মৃতি সৌধে যা-ই না ”
অথচ তারা খাম্বা আর প্রাচীর তুলে দিয়ে সেখানে উত্সব করে চলেছে প্রতি বছর পরতি বিশেষ দিবসে। তারা সমবেত হচ্ছে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করছে রং করছে বিনম্র হয়ে ফুল দিচ্ছে। তারপরেও বলছে এখানে শিরক হলো কোথায়? তারা নাকি ইবাদতের উদ্দেশ্যে করছে না !!!
কত বড় জাহেল হলে মানুষ এ সকল কথা বলতে পারে তা বিবেচনা খুবই জরুরি।
————————————-
যুদ্ধে যারা মারা গিয়েছেন তাদের স্মরণে ঠিক নুহ (আঃ) এর সম্প্রদায়ের মতই আমরা আলাদা সুবিধামত স্থানে শহীদ মিনার ও সৃতি সৌধ এবং বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে উচু একটি খম্বা বানিয়ে নিলাম এবং তাদের স্মরণে ( মৃতদের) আমরা সেখানে উত্সবের সাথে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েই সমাবেশ করে গিয়ে ফুল দিচ্ছি।
বিবেক বুদ্ধি যার সামান্য আছে সেও তো বুঝার কথা এগুলো শিরকি কাজ।
——————————-
কোনো মূর্তির পায়ে ইবাদতের উদ্দেশ্যে হোক আর এমনি এমনি হোক ফুল দেয়া যদি ভয়াবহ বড় শিরক হয়ে তবে একটি খাড়া খাম্বা আর মূর্তির মধ্যে পার্থক্য কোথায়? একজায়গায় মানুষের আকৃতি দেয়া হয়েছে আরেক জায়গায় মানুষের আকৃতি ব্যতীত ভিন্ন আকৃতি দান করা হয়েছে! দুটি জড়ো বস্তু!!
————————–
অবশেষে শয়তান অজ্ঞদের সাথে সাথে শিক্ষিতদেরও এই ধারণা মস্তিস্কে দিতে সক্ষম হয়েছে ”তারা তো ইবাদতের উদ্দেশ্যে এই জড় বস্তুগুলোতে ফুল দেয় না” – তা-ই এটা শিরক নয়! তবে এটা পুন্যও নয়।
ঠিক ধীরে ধীরে আদালতের মতই পুন্যও বানিয়ে ফেলবে কিছুদিন পরে। এবং আল্লাহ না করুক যে অবস্থা চলছে একসময় হয়ত সরাসরি পূজা শুরু হবে।
ইতি মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সহ মন্ত্রীরা যে এত বিনম্র হয়ে মাথা ঝুকিয়ে ফুল দিচ্ছে এতটা বিনম্র তারা সালাতে কখনো হয়েছেন কিনা তা আল্লাহ ভালো জানেন।
———————————
বিজয় র্যালি , বিজয় মিছিল, বিজয় অনুষ্ঠান তো এই উত্সবকে কেন্দ্র করেই। এই উত্সবেরই অংশ এগুলো। কেউ খাম্বা পূজা পর্যন্ত যাচ্ছে আবার কেউ ইসলামের লেবাস লাগিয়ে আনন্দমিছিল পর্যন্ত থেমে থাকছে ভোটের জন্য। যারা বিজয় মিছিল করছে তাদের কাছে আহবান রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আবুবকর (রাঃ), ওমর ( রাঃ) বহু যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন বিজয়ী হয়েছেন, মক্কা জয় করেছেন। খিলাফত কালে বহু দেশ জয় করেছেন তাদের কয়জন কবে কোনদিন কয়বার ”বিজয়” মিছিল করছে?
বিজয় মিছিল হারাম এর দলিল খুঁজে পান না ”হালালের” দলিল কি আমাদের দেখাতে পারবেন? এগুলো সব বিজাতীয়দের উত্সব।
ইসলাম মানে আত্মসমর্পণ করা। জাতীয় কালচার যা-ই থাকুক ইসলাম সমর্থন না করলে তা বর্জনীয় ! রাষ্ট্র খুশি হয়ে ৫ তারা হোটেলে রাখলেও মউত, কবর, হাশর ঠেকাতে পারবে না ! রাস্ত্র্সের ধর্ম নিরপেকখ আর নাস্তিকদের খুশি করা নয় আমাদের চেষ্টা তো হওয়া কর্তব্য আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা।
আল্লাহ আমাদের হেদায়েত দান করুন, আমাদের বুঝার তৌফিক দান করুন। বিতারিত শয়তানের জটিল শয়তানি জাল থেকে আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।
বিঃ দ্রঃ আমাদের যে কোনো ভুলভ্রান্তি চোখে পড়লে কমেন্ট এ জানানোর অনুরোধ রইলো। সংশোধন করা হবে ইনশা আল্লাহ। প্রয়োজনীয়তা অনুধাবনে লেখাটি শেয়ারের অনুরোধ রাখছি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন